নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব ক্রীড়াঙ্গন

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২০, ০২:৩৮ এএম

ধর্ষণের বিরুদ্ধে রীতিমতো ফুঁসে উঠেছে গোটা বাংলাদেশ। রাজপথ প্রতিবাদে মুখর। তাতে যোগ দিয়েছেন ক্রিকেটার, ফুটবলার, শুটার থেকে শুরু করে ক্রীড়াব্যক্তিত্বরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ধর্ষণ ও ধর্ষকদের বিরুদ্ধে অবস্থান ঘোষণা করেছেন তারা।

বাংলাদেশের সফলতম অধিনায়ক মাশরাফী জনপ্রতিনিধিও। নড়াইল-২ আসনের সরকারি দলের সাংসদ তার ফেইসবুক পেজে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আপনার মেয়ে যখন আপনার কোলে বসে থাকে, তখন আপনার সেই অনুভূতি হয় না। যখন আপনার বোন আপনার পাশের রুমে থাকে, তখনও সেই অনুভূতি আসে না। আপনার স্ত্রীকে নিয়ে যখন আপনি ঘুরতে বেরোন, তখন তার দিকে বাঁকাভাবে তাকালে আপনার খারাপ লাগে। কিন্তু অন্যকে দেখার ক্ষেত্রে কি আমার, আপনার অনুভূতি একই রকম আছে? না হলে বুঝে নিতে হবে, সমস্যা অনেকের মগজেই। হয়তো পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে সবারটা প্রকাশ পায় না। আসুন মানসিকতা পরিবর্তন করি। নারীকে মাথা উঁচু করে বাঁচতে দিই।’ এই চাওয়ার সঙ্গে মাশরাফীর ঘোষণা, ‘আর ধর্ষক কোনো পরিচয় বহন করে না। সে কুৎসিত, হয়তো চেহারায় নয়, মানসিকতায়।’

এর আগে দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব ধর্ষক-নিপীড়কদের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণার মতো করে লিখেলিছেন, ‘একশ্রেণির বর্বর মানুষ বয়স, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে নারী ও শিশুদের প্রতি প্রতিদিনই যে জঘন্য অন্যায় করছে তারপর আমি আর চুপ থাকতে পারি না। আমার অবস্থান তাই সব ধরনের ঘৃণা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে।’

বাংলাদেশের আরেক সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম লিখেছেন, ‘আমরা আর চুপ থাকতে পারি না। ধর্ষণ কিংবা যেকোনো ধরনের যৌন নিপীড়ন কখনো সহ্য করা যেতে পারে না। সমাজে এর কোনো জায়গা নেই।’ মুশফিকের আহ্বান, ‘জেগে ওঠো বাংলাদেশ। ধর্ষণকে না বলো। না মানে না।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব ফাস্ট বোলার রুবেল হোসেন ধর্ষণের প্রতিবাদ করে তার পোস্টে লিখেছেন, ‘কিছু মানুষরুপী পশুদের কী দুর্ভাগ্য নারীর পেটে জন্ম নিয়েও নারীকে সম্মান করতে শিখল না।’ সতর্কতা উচ্চারণ করে রুবেল লিখেছেন, ‘মা-বোনেরা তোমরা সাবধানে থেকো। এই শহরে মানুষ নামের কিছু পশু আছে।’ তার দাবি, ‘আমরা ধর্ষণমুক্ত বাংলাদেশ চাই।’

জাতীয় টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ তার ফেইসবুক পেজে ‘সেনোটুরেপ’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা পোস্টের ছবিতে লিখেছেন, ‘রেইজ ইউর ভয়েস’ বা আওয়াজ তোলো কথাটি। তরুণ ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদ ‘স্ট্যান্ডঅ্যাগেইন্সটুরেপ’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে লিখেছেন, ‘সে নো টু রেপ’।

ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার ‘স্টপথরেপ’ হ্যাশট্যাগে প্রতিবাদ জানিয়েছেন, ‘কোনো নারীকে শারীরিক নিপীড়ন করা চলবে না। নারীরা যেন অনুভব করতে পারে যে তারা একা নয়। নিপীড়কদের কোনো ক্ষমা নেই।’

জাতীয় ফুটবল দলের গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেজে লিখেছেন, ‘দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে নারী নির্যাতন ও সহিংসতার হার। সবার মতো আমিও এই নিয়ে শঙ্কিত। নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে এখনই সময় রুখে দাঁড়ানোর। সমাজের সর্বস্তরের মানুষজনের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এমন ঘৃণিত অপরাধ দমন করা সম্ভব। আসুন সবাই মিলে রুখে দাঁড়াই, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করি।’ জাতীয় দলের মিডফিল্ডার ইমন মাহমুদ বাবুও একই লেখাসহ নিজের ছবি পোস্ট করেছেন। ছবির নিচে এঁটে দিয়েছেন ‘Bangladesh Please No More Rape.’.’

এসএ গেমসে সোনাজয়ী রাইফেল শুাটর শারমিন আক্তার রত্না তার ফেইসবুক পেজে লিখেছেন ‘না, আমি নারী হয়ে মোটেই ভীত নই, ধর্ষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়াতেও আমি শংকিত নই! এটাই হয়তো কাপুরুষ পুরুষ সমাজের নারীর পদতলে পিষ্ট হওয়ার শুরু! এক সময় হয়তো এই পুরুষসমাজ বিবস্ত্র হয়ে নারীর সামনে মাথা নিচু করে হাঁটবে নারীর মনোরঞ্জনের জন্যই!!’ জাতীয় দলের পিস্তল শুটার আরমিন আশা প্রোফাইলে ছবি ‘ব্ল্যাক আউট’ করে দাবি করেছেন, ‘ধর্ষকের একমাত্র শাস্তি প্রকাশ্যে ফাঁসি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত