হাসপাতাল থেকে ১১ মাস পর কারাগারে সম্রাট

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২০, ০১:৫৬ এএম

ক্যাসিনোকান্ডে গ্রেপ্তার যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ১১ মাস পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে কারাগারে ফিরেছেন। গত বুধবার রাতে তাকে কারাগারে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার সুভাষ কুমার দাশ। তিনি জানান, সম্রাটকে বুধবার রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরে তাকে কারাগারে নিয়ে আসা হয়। তবে তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় কারাগারের হাসপাতালেই রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অসুস্থ হয়ে পড়ায় গত বছরের ২৪ নভেম্বর কাশিমপুর কারাগারের হাই সিকিউরিটি সেল থেকে সম্রাটকে প্রথমে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে স্থানান্তর করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে। ওই সময় থেকে তিনি সেখানেই ছিলেন।

পুলিশের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। ৭ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ওই দিন বিকেলে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে তার কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অভিযান শেষে গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ১ হাজার ১৬০টি ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি মদ, দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া এবং নির্যাতন করার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ার কারণে সম্রাটকে তাৎক্ষণিক বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ) আইনে ছয় মাসের কারাদন্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। ঢাকার রমনা থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ ও অস্ত্র আইনে আরও দুটি মামলা করা হয় তার বিরুদ্ধে। কারাগারে নেওয়ার দুদিন পর বুকে ব্যথা অনুভব করলে সম্রাটকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।  সেখানে চার দিন চিকিৎসা দিয়ে ১২ অক্টোবর আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক আফজালুর রহমান জানান, ১৯৯৮ সালে সম্রাটের হৃৎপি-ের একটি ভাল্ব রিপ্লেস করা হয়েছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নতুন কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি।   

রমনা থানার অস্ত্র মামলায় গত ৬ নভেম্বর সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ১২ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা করে দুদক। ক্যাসিনো চালানোর পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মতো অপকর্মের মাধ্যমে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয় ওই মামলায়। গত বছরের ১৭ নভেম্বর ঢাকার জজ আদালত দুদকের ওই মামলায় সম্রাটকে ছয় দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছিল। ২৪ নভেম্বর থেকে তাকে হেফাজতে পাওয়ার কথা ছিল দুদকের। কিন্তু তার আগের দিন বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন সম্রাট। পরে তাকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। আদালত রিমান্ড মঞ্জুরের ৯ মাস পর ওই হাসপাতালে গিয়েই দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা গত ২৫ আগস্ট সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত