করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় এক বছর পর সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বর্ডার গার্ড পুলিশ মিয়ানমারের (বিজিপি) মধ্যে সৌজন্য বৈঠক হয়েছে। এ সময় সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়মিত যৌথ টহলের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় সীমান্তে ঘুমধুমের ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজের কাছে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ের এ বৈঠক হয়।
কক্সবাজার সদর বিজিবির দপ্তর রিজিয়নের অপারেশন অফিসার লে. কর্নেল সরকার মাহমুদ মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে বৈঠকে বিজিবির ১১ সদস্য অংশ নেন। বিজিপির পক্ষে নেতৃত্ব দেন ২ নম্বর সেক্টরের লে. কর্নেল চে নাইং। বৈঠক শেষে লে. কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সৌজন্য সাক্ষাৎটি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিয়মিত ইস্যু। আমরা নিয়মিতভাবেই ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে এ ধরনের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকি। বিশ^ব্যাপী মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের নিয়মিত সাক্ষাতের আয়োজন দীর্ঘদিন করতে পারিনি। তাই আজ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা বজায় রেখে এ আয়োজন করা হয়। আজকের (গতকাল) আলোচনায় দুই দেশের নিয়মিত যৌথ টহল পুনরায় শুরু করার পাশাপাশি কার্যকরী সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়ে আলোচনা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী। তাই আমরা প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমরা মনে করি সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি সীমান্তের যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়ানো সম্ভব। আমাদের এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ বিওপি পর্যায় থেকে ব্যাটালিয়ন পর্যায় পর্যন্ত নিয়মিতভাবেই এখন থেকে পুনরায় শুরু হবে এবং তা স্বাভাবিক নিয়মে চলমান থাকবে।’
লে. কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বৈঠকে সীমান্তে ইয়াবা পাচার, চোরাচালান, অনুপ্রবেশসহ সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে বিষয়গুলো আন্তরিকতার সঙ্গে দেখা হবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।’
এ সময় কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমদ, নাইক্ষ্যংছড়ির ১১ বিজিবির অধিনায়ক শাহ আবদুল আজিজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
