অর্থ পাচার মামলায় সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ ৫ জনের ৮৮টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত। বরকত ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও ইমতিয়াজ হাসান ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সভাপতি।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ তাদের ৮৮টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দেন। আদালতের পিপি তাপস কুমার পাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি আরও জানান, বরকত ও রুবেলের বিরুদ্ধে সিআইডির পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ বাদী হয়ে গত ২৬ জুন ঢাকার কাফরুল থানায় মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করেন। মামলায় ওই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবৈধ উপায়ে উপার্জন ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়। সিআইডির করা মানি লন্ডারিং আইনের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাস বৃহস্পতিবার পাঁচজনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার আদেশ চেয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনে বলা হয়, আসামি সাজ্জাদ হোসেন বরকত, ইমতিয়াজ হোসেন রুবেল, বরকতের স্ত্রী আফরোজা আক্তার পারভীন, রুবেলের স্ত্রী সোহেলী ইমরোজ পুনম ও আবদুল সাদেক মুকুল এবং তাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ৮৮টি ব্যাংক হিসাব পাওয়া গেছে। আসামিদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব জব্দ না হওয়ায় মামলার তদন্ত কাজ বিঘিœত হচ্ছে। এ কারণে এই ব্যাংক হিসাবগুলো জব্দ করার জন্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
পিপি তাপস কুমার পাল বলেন, ‘সিআইডির আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত বরকত, রুবেলসহ পাঁচজনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার আদেশ দেয়। তবে ৮৮ ব্যাংক হিসাবে কত টাকা জমা আছে সেই তথ্য আদালতে জমা দেয়নি সিআইডি।’
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ফরিদপুরের এলজিইডি, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি বিভাগের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন সাজ্জাদ ও ইমতিয়াজ। এ ছাড়া মাদক ব্যবসা, ভূমি দখল করে অবৈধ সম্পদ করেছেন তারা। এসি, নন-এসিসহ ২৩টি বাস, ড্রাম ট্রাক, বোল্ডার, পাজেরো গাড়ির মালিক হয়েছেন। টাকার উল্লেখযোগ্য অংশ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেন তারা।
এজাহারে আরও বলা হয়, প্রথম জীবনে এই দুই ভাই রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে এক বিএনপি নেতার ফরমাশ খাটতেন। তখন তাদের সম্পদ বলতে তেমন কিছুই ছিল না।
