ভারতের তৈরি করোনাভাইরাসের টিকা বাংলাদেশ সময়মতো পাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করে এ প্রতিশ্রুতি দেন নতুন হাইকমিশনার। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন শুরু করলেন দোরাইস্বামী।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন জানান, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে নতুন হাইকমিশনার কভিড-১৯ টিকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ সময় ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে ‘যথেষ্ট গুরুত্ব’ দেয়। ভারতে যে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন উৎপাদিত হবে সেটা বাংলাদেশ ‘সময়মতো’ পাবে। রাষ্ট্রপতি ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ভারত শুধু বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশীই নয়, ‘বিশ্বস্ত বন্ধুও’। এ সময় রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। এ সম্পর্ক কূটনৈতিক পরিমণ্ডল ছাড়িয়ে বাণিজ্য-বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হয়েছে।’
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে সম্ভাবনাময় প্রতিটি ক্ষেত্রকে কাজে লাগাতে সর্বাত্মক প্রয়াস চালাবেন।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামীম উজ জামান, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব (সংযুক্ত) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। নতুন ভারতীয় দূত বঙ্গভবনে পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি দল তাকে গার্ড অব অনার দেয়।
রীভা গাঙ্গুলি দাশের উত্তরসূরি হিসেবে ঢাকায় নয়াদিল্লি মিশনের দায়িত্ব নিলেন দোরাইস্বামী। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১৯৯২ ব্যাচের কর্মকর্তা বিক্রম দোরাইস্বামী অতিরিক্ত সচিব হিসেবে আন্তর্জাতিক সংগঠন ও সম্মেলন বিভাগের ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়ার আগে কিছুদিন সাংবাদিকতাও করেছেন। বাংলাদেশ মিশনের দায়িত্ব পাওয়ার আগে দক্ষিণ কোরিয়া ও উজবেকিস্তানে ভারতের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন এই কূটনীতিক।
