ধর্ষণে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২০, ০২:১১ এএম

বর্তমান নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বদলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করতে যাচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা পাওয়ার পর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

এ ব্যাপারে আইনমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড করতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনের একটি প্রস্তাব আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে যাচ্ছে। মূলত আইনের ৯(১) ধারায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এ ধারায় ধর্ষণের শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড করে প্রস্তাব দেওয়া হবে। এ আইনের আরও কয়েকটি ছোট ছোট পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ প্রস্তাব করা হচ্ছে।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে গেছে। এর মধ্যে গত ৪ অক্টোবর নোয়াখালীতে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের এক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। যদিও গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার এখলাশপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটেছিল। এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেট নগরীর টিলাগড় এলাকায় স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া এক তরুণীকে তুলে নিয়ে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের ৭ নম্বর ব্লকের একটি কক্ষের সামনে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।

এসব ঘটনা জানাজানির পর ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আন্দোলনকারীরা ধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবি জানিয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ পথে নেমে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। গতকালও রাজধানীর শাহবাগসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। দেশজুড়ে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনবিরোধী আন্দোলন এবং ধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবির মধ্যে সরকার এ পদক্ষেপ নিল।

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের সরকারি উদ্যোগকে সঠিক বলছেন আইনজ্ঞরা। তাদের মতে, সমাজের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিদ্যমান আইনকে খাপ খাওয়াতে হলে সময় উপযোগী সংশোধন করতে হয়। এতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়। তবে শুধু আইন করে বা বিদ্যমান আইনের সংশোধন করেই অপরাধ কমানো যাবে না উল্লেখ তারা বলছেন, আইনের প্রয়োগ ও বাস্তবায়নে কঠোর হতে হবে।

এ ব্যাপারে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, সর্বোচ্চ শাস্তি যদি মৃত্যুদন্ড হয়, তাহলে ভালো হবে। কারণ কমবয়সী নারীসহ বিভিন্ন বয়সী মেয়েরা যেভাবে ধর্ষণ হচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। বিশেষ করে নিরীহ মেয়েরা ধর্ষণের শিকার হয়েও সর্বোচ্চ বিচার পাচ্ছে না। ফলে  দেশে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের দাবি উঠেছে। আমার মনে হয় এটা যৌক্তিক দাবি।

এ আইনজ্ঞ আরও বলেন, আইনকে সবসময় আপডেট করতে হয়। সমাজের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আইনের সংশোধনটা জরুরি। একেবারে পুরনো আইন দিয়ে সুষ্ঠু বিচার হয় না। সমাজের নতুন প্রেক্ষাপটে আইনকে খাপ খাওয়ানোর জন্য সংশোধন করতে হয়।

তবে সাবেক জেলা জজ মুঈদ ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, নতুন আইন করলেই যে ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতন বন্ধ হবে তা কিন্তু ঠিক নয়। আইনের প্রয়োগ সঠিকভাবে না হলে এক হাজারটা আইন করেও ধর্ষণ বন্ধ করা যাবে না। এজন্য মামলার তদন্তে কালক্ষেপণ বন্ধ করতে হবে। ভিকটিম এবং সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় এসব মামলায় সাক্ষীরাই সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বিপদে পড়েন। আসামিদের প্রভাব এত বেশি থাকে শেষ পর্যন্ত সাক্ষী নিজেই দোষী হয়ে যান এমন অনেক ঘটনা রয়েছে। এছাড়া তদন্তের ঘাটতি রয়েছে অনেক বেশি। নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে সঠিক বিচার পাওয়া সম্ভব নয়। তাই আমি বলব জনতুষ্টির জন্য আইন প্রণয়নের চেয়ে আইনের প্রয়োগ ও বাস্তবায়নে কঠোর হতে হবে।

সেই সঙ্গে সুবিচার পেতে হলে উপযুক্ত ও দক্ষ পিপি নিয়োগ দিতে হবে বলেও মত দেন দুদকের এই সাবেক মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ধর্ষকদের বা অপরাধীকে বাঁচাতে প্রভাবশালীদের হুমকিধমকির শিকার হতে হয় ধর্ষণের শিকার নারী বা তার পরিবারকে। অনেক সময় বিচারকরাও এমন পরিস্থিতির শিকার হন। আবার ভিকটিমকে হুমকিধমকি দিয়ে আপসের বিষয়ও ঘটতে দেখা যায়। তখন আবার তদন্ত টিমও বিপাকে পড়ে। এ বিশেষজ্ঞ বলেন, আইন সংশোধনের বিষয়ে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। যেভাবে ধর্ষণ বাড়ছে তাতে আইন কঠোর করতেই হবে। তবে আইন সংশোধন যেন জনতুষ্টির জন্য না হয়।

সরকার মূলত বর্তমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৯(১) ধারা পরিবর্তন করে সেখানে মৃত্যুদ-ের বিধান করতে যাচ্ছে। এ ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।’

আইনজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আর ধর্ষণের শিকার নারী বা শিশুর মৃত্যু হলে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। এর পাশাপাশি দুই ক্ষেত্রেই অর্থ দণ্ডের বিধান আছে। এ আইনের মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সাত দিন থেকে এক মাস এবং মামলা নিষ্পত্তির জন্য একশত আশি দিন (ছয় মাস) সময় বেঁধে দেওয়া থাকলেও ওই সময়ের মধ্যে রায় দেওয়া সম্ভব হয় না। তাছাড়া ধর্ষণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের এক একটি ঘটনা কিছুদিন পরপর সারা দেশকে নাড়া দিয়ে গেলেও এসব ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও শাস্তির নজির কম। ধর্ষণের বেশিরভাগ মামলা বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় ধামাচাপা পড়ে যায়। তাছাড়া ঠিকমতো ডাক্তারি পরীক্ষা না হওয়া, সামাজিক জড়তা, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপসহ নানা কারণে বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশে ৮৮৯ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ধর্ষণের পর মৃত্যু হয়েছে ৪১ জনের। আর এ আট মাসে ধর্ষণচেষ্টা ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে ১৯২ জন নারী এবং ৯ জন নারী আত্মহত্যা করেছে। তবে অনেক অভিযোগ থানা পর্যন্ত না পৌঁছানোয় প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে অধিকারকর্মীদের ধারণা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ বছরে ধর্ষণের ঘটনায় ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার থেকে মামলা হয়েছে ৪ হাজার ৫৪১টি। এর মধ্যে আসামির শাস্তি হয়েছে মাত্র ৬০টি ঘটনায়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবিতে সমর্থন জানিয়েছেন। গত ৭ অক্টোবর এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘এদের ছোটখাটো লঘুদণ্ড দিয়ে লাভ নেই। সর্বোচ্চ বিচারের যে দাবি উঠেছে, আমার মনে হয় এটা অযৌক্তিক নয়। এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনকে আপসহীন মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’

গতকালও সেতুমন্ত্রী এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে বলেন, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটলে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার ভয়ে অনেকে তা প্রকাশ করে না। এজন্য অনেক ঘটনাই আড়ালে থেকে যায়। এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের বিষয় গোপন না রেখে অপরাধীদের শাস্তি প্রদানের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সময়মতো জানানোর অনুরোধ জানান তিনি। এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘ঘৃণ্য অপরাধীদের যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবে, তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে। প্রতিটি ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হবে, কোনো অপরাধীই রক্ষা পাবে না।’

নোয়াখালীর ঘটনাসহ প্রতিটি ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, কোনো আন্দোলনের আগেই সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। অপরাধ ও ঘৃণ্য অপকর্মের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান সবসময়ই স্পষ্ট এবং কঠোর।

ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিএনপি এসব ঘটনাকে অন্যদিকে ঘোরানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত। যখনই কোনো ইস্যু পায়, তা খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরে সরকারবিরোধী আন্দোলনের অপপ্রয়াস চালায় তারা।

সংবিধান অনুযায়ী, যদি কোনো পুরুষ বিবাহবন্ধন ব্যতীত ১৬ বৎসরের অধিক বয়সের কোনো নারীর সঙ্গে তার সম্মতি ছাড়া বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তার সম্মতি আদায় করে, অথবা ১৬ বৎসরের কম বয়সের কোনো নারীর সঙ্গে তার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহলে তিনি ওই নারীকে ধর্ষণ করেছেন বলে গণ্য হবেন।

এ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনে ধর্ষণের সাজা হিসেবে যেসব শাস্তির উল্লেখ আছে তা হলো (১) ৯(১) যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন। (২) যদি কোনো ব্যক্তি কর্র্তৃক ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন। (৩) যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের ফলে উক্ত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন, তা হলে ঐ দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন।

(৪) যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারী বা শিশুকে- (ক) ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন; (খ) ধর্ষণের চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন। (৫) যদি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন কোনো নারী ধর্ষিতা হন, তাহলে যাহাদের হেফাজতে থাকাকালীন উক্তরূপ ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছে, সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ ধর্ষিতা নারীর হেফাজতের জন্য সরাসরিভাবে দায়ী ছিলেন, তিনি বা তারা প্রত্যেকে, ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হলে, হেফাজতের ব্যর্থতার জন্য, অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন।

আইনজ্ঞরা বলেন, এ আইনের মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সাত দিন থেকে এক মাস এবং মামলা নিষ্পত্তির জন্য একশত আশি দিন (ছয় মাস) সময় বেঁধে দেওয়া থাকলেও ওই সময়ের মধ্যে রায় দেওয়া সম্ভব হয় না। তাছাড়া ধর্ষণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের এক একটি ঘটনা কিছুদিন পরপর সারা দেশকে নাড়া দিয়ে গেলেও এসব ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও শাস্তির নজির কম। ধর্ষণের বেশিরভাগ মামলা বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় ধামাচাপা পড়ে যায়। তাছাড়া ঠিকমতো ডাক্তারি পরীক্ষা না হওয়া, সামাজিক জড়তা, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপসহ নানা কারণে বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। এসব কারণে ধর্ষণের অপরাধে শাস্তির মাত্রা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করার পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে বিচার ও রায় কার্যকর করার জন্য আইন সংশোধনের দাবি রয়েছে বিভিন্ন সংগঠনের।

এর আগে চলতি বছর জানুয়ারিতে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় এক রিট মামলায় রুল জারি করেছিল হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। ১৬ বছর বা তার কম বয়সী শিশু ধর্ষণের শিকার হলে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রেখে আইন করতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছিল সেই রুলে। বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত