সাহিত্যে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কবি লুইস গ্লিক। নোবেল কমিটির ভাষ্য, গ্লিক আমূল বদলে যাওয়ার, পুনর্জন্মের একজন কবি। সরল ও সৌন্দর্যময় সুস্পষ্ট কাব্যের নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে লুইস গ্লিককে। তার কাব্যিক ঢং ব্যক্তির অস্তিত্বকে সার্বজনীন করে তোলে। গতকাল বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী ১১৭তম লেখক হিসেবে লুইস গ্লিকের নাম ঘোষণা করে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি। ৭৭ বছর বয়সী লুইস গ্লিক হলেন নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে সাহিত্যে নোবলে জয়ী ষোড়শ নারী। এছাড়া ১৯৯৩ সালে টনি মরিসনের পর সাহিত্যে নোবেল পাওয়া প্রথম আমেরিকান নারী। প্রসঙ্গত, এ বছর এর আগে ঘোষিত তিনটি বিষয়ে নোবেল পুরস্কার জয়ীদের মধ্যে আছেন তিন নারী। এক বছরে এত নারীর নোবেল জয়ের ঘটনা বিরল।
সাহিত্যের নোবেলজয়ী এই মার্কিন কবির সর্বাধিক প্রশংসিত কাব্যগ্রন্থের নাম ‘দ্য উইল্ড আইরিস।’ ১৯৯২ সালে লেখা এই কাব্যগ্রন্থের ‘স্নোড্রপস’ নামের এক কবিতায় শীতের শেষে জীবনের অলৌকিক প্রত্যাবর্তনের বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। তার এই কবিতা ব্যাপক সাড়া জাগানো হিসেবে সাহিত্য অঙ্গনে সমাদৃত।
কবি লুইস গ্লিক ১৯৪৩ সালে নিউইয়র্কে জন্মগ্রহণ করলেও বেড়ে উঠেছেন ক্যামব্রিজ এবং ম্যাসাচুসেটসে। লেখালেখির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের নিউ হ্যাভেনের ইয়েল ইউনিভার্সিটির ইংরেজির প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি। লুইস গ্লিকের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ফার্স্টবর্ন’ প্রকশিত হয় ১৯৬৮ সালে। আমেরিকান সমকালীন সাহিত্যের শীর্ষস্থানীয় কবিদের মধ্যে আসন করে নিতে খুব বেশি সময় নেননি তিনি। ১৯৯৩ সালে তিনি জিতে নেন পুলিৎজার পুরস্কার; ২০১৪ সালে ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড পান এই কবি। তার কবিতা নিয়ে এ পর্যন্ত ১২টি কাব্যগ্রন্থ এবং বেশকিছু প্রবন্ধ সংকলন প্রকাশিত হয়েছে। লুইস গ্লিকের কবিতা বিশ্বের কেন্দ্রে রয়েছে তার শৈশব আর পরিবার, বাবা-মা আর ভাইবোনের সঙ্গে বন্ধনের গল্প।
গ্লিকের কাব্য শৈলীকে বর্ণনা দিতে গিয়ে সুইডিশ অ্যাকাডেমির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তার কবিতায় আত্ম যেন সদাই স্বপ্ন আর বিভ্রমের হিসাব মেলাতে মগ্ন। আর সেই বিভ্রম থেকে জেগে উঠতে গ্লিকের যে লড়াই, তা বুঝি যে কাউকে হার মানাবে।
তাই বলে গ্লিকের কবিতাকে আত্মজৈবনিক ছাঁচের মধ্যে আটকে ফেলা যাবে না, সেসব পঙক্তিমালা আসলে সার্বজনীনতারই অন্বেষণ। আর সেই অন্বেষণ পর্বে তিনি প্রেরণা নেন মিথ থেকে, চিরায়ত মোটিফ থেকে। যার নমুনা ছড়ানো তার বেশিরভাগ কাব্যগ্রন্থের ছত্রে ছত্রে। দ্য ভয়েস অব ডিডো, পার্সিফোনি, ইউরিডাইস, কিংবা দ্য অ্যাবানডানড, দ্য পানিশড, দ্য বিট্রেইড-এর সবই হলো কবির সেই আত্মরূপের মুখোশ, যে রূপ সদাই বদলে যাচ্ছে, ব্যক্তি সত্তা হয়ে যাচ্ছে সার্বজনীন।
অ্যাকাডেমির নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান অ্যান্ডার্স অলসন বলেন, গ্লিকের কাব্য ভাষা অকপট, আপসহীন, সেখানে আছে কৌতুক, আবার কটাক্ষের দংশনও।
সুইডিশ অ্যাকাডেমি তাদের বিবৃতিতে লিখেছে, কেবল যাপিত জীবনের উত্থান পতন আর নৈরাজ্যই গ্লিকের কবিতার আধার নয়, তিনি আমূল বদলে যাওয়ার, পুনর্জন্মের কবি।
বৃহস্পতিবার নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের জন্য লুইস গ্লিকের নাম ঘোষণা করার আগে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি। তার জন্য সেই খবর ছিল ‘বিস্ময়কর’, তবে অবশ্যই তা ‘আনন্দের’।
যৌন কেলেঙ্কারির জেরে ২০১৮ সালে বিরতি দিয়ে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি গত বছর দুইবারের নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণা করে। পোলিশ লেখক ওলগা টোকারচুক ও অস্ট্রিয়ার পেটার হান্টক্যর সেই পুরস্কার পান।
