নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলো সামছুদ্দিন সুমন (৩৫) এবং মাঈনুদ্দিন সাহেদ (৫১)। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় নির্যাতনের মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সামছুদ্দিন সুমনকে হবিগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অন্যদিকে নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার মামলায় গত বুধবার গভীর রাতে বেগমগঞ্জের এখলাশপুর থেকে মাঈনুদ্দিন সাহেদকে আটক করে নোয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ নিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা এ ঘটনায় মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
এদিকে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামি আবুল কালামের ১০ দিন এবং মাঈনুদ্দিন সাহেদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
ভারতে পালানোর সময় আটক সুমন : নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলায় এজাহারভুক্ত ৬ নম্বর আসামি সামছুদ্দিন সুমনকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী কালেঙ্গা পাহাড় থেকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই সদস্যরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় তাকে কালেঙ্গা ত্রিপুরাবস্তি থেকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার সুমন বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের পূর্ব একলাশপুরের দরবেশ বাড়ির বাসিন্দা।
হবিগঞ্জ পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিয়া কুতুবুর রহমান চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সুমন চুনারুঘাটের কালেঙ্গায় অবস্থান করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ঢাকা থেকে পিবিআইয়ের একটি দল তাকে ধরতে হবিগঞ্জে আসে। পরে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
অন্যদিকে গত বুধবার গভীর রাতে বেগমগঞ্জের এখলাশপুর থেকে মাঈনুদ্দিন সাহেদকে আটক করে নোয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বুধবার মধ্যরাতে ডিবির অভিযানে বেগমগঞ্জ থেকে মাঈনুদ্দিন সাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।’
কালাম ও সাহেদ রিমান্ডে : নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামি আবুল কালামের ১০ দিন এবং মাঈনুদ্দিন সাহেদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বেগমগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মোস্তাক আহমদ জানান, নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেগমগঞ্জ ৩নং আমলি আদালতের বিচারক মাশফিকুল হকের আদালত রিমান্ড আবেদন শুনানি শেষে এ আদেশ দেয়।
এসআই মোস্তাক আহমদ আরও জানান, মামলার ৬ নম্বর আসামি কালামকে ৪ অক্টোবর দায়ের করা দুই মামলায় তিন দিন করে ছয় দিন এবং ৬ অক্টোবর দায়ের করা মামলায় চার দিনসহ মোট ১০ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এ ছাড়া আসামি মাঈনুদ্দিন সাহেদকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন মামলায় দুই দিন রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় রিমান্ড নামঞ্জুর করে আদালত।
এর আগে আসামি কালামের তিন মামলায় সাত দিন করে ২১ দিন ও মাঈনুদ্দিন সাহেদের দুই মামলায় দুই দিন করে চার দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।
নির্যাতনের শিকার ওই নারী বাদী হয়ে গত ৪ অক্টোবর দুটি মামলা করেন। পরে ৬ তারিখ রাতে দেলোয়ার ও কালামকে আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন বেগমগঞ্জ মডেল থানায়।
বেগমগঞ্জে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করে একদল যুবক ও কিশোর। ছেলের বয়সী ওইসব কিশোর-যুবকের পায়ে ধরেও রেহাই পাননি ৩৫ বছর বয়সী ওই নারী। ভয়ে ৩২ দিন আগের ঘটনাটি কাউকে জানাতেও পারেননি নির্যাতিতা কিংবা তার স্বজনরা। গত ২ সেপ্টেম্বর রাতের ওই নির্যাতনের ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র গত রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা জানাজানি হয়।
