আন্দোলন ভালো চোখে দেখছে না আ.লীগ

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২০, ০২:২৯ এএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ঘটনায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলেও রাজপথে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনকে ভালো চোখে দেখছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। রাজপথে প্রতিবাদ না করে আন্দোলনকারীদের সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির জন্য উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, একটি নির্দিষ্ট দল ও সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে অবস্থান ও আন্দোলন বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা নেই। এতে বিএনপি-জামায়াতসহ সরকারবিরোধী দেশি-বিদেশি মহল উসকানি দিচ্ছে।

তারা আরও বলেন, এ যাবৎকালে দেশে যত ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে তাতে দেখা গেছে, মসজিদের ইমাম, পুরোহিত, যাজক, মাদ্রাসা ও স্কুলশিক্ষক, পাড়ার প্রভাবশালীরা বেশি অভিযুক্ত। হাতেগোনা কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা এর সঙ্গে জড়িত। ধর্ষণের ঘটনা বিচার-বিশ্লেষণ করলে প্রমাণ মেলে এগুলো সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের ফল। এর বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলনের চেয়ে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিই বিশেষভাবে জরুরি। মানুষকে সচেতন করার মধ্য দিয়ে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তা না করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রাব ভাষায় গালাগাল ও তার পদত্যাগ দাবি করার মধ্য দিয়ে আন্দোলন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত করে ফেলা হচ্ছে। এটি কারও কাছেই কাম্য নয়।

দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলেন, সরকার অপরাধীকে ছাড় দিচ্ছে না। অপরাধ সংঘটিত হলে ত্বরিতগতিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তৎপর। পরিবার সমাজ ও পাড়া-মহল্লা থেকে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। রাজপথে সরকারপ্রধানকে গালাগাল দিয়ে, আন্দোলন করে ধর্ষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বেগমগঞ্জের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধর্ষণকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনের পরিবর্তনের বিষয়টিও সরকার ইতিবাচকভাবে দেখছে। ফলে ধর্ষণবিরোধী রাজপথের আন্দোলন যৌক্তিকতা কতটুকু?

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশে কোনো ঘটনা ঘটলেই একটি বিশেষ মহল সরকার পতনের স্বপ্ন দেখে। এ আন্দোলনও তেমনই। আওয়ামী লীগ অপরাধীদের আশ্রয় দেয় না।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে গালাগাল না দিয়ে, সরকার পতনের দাবি না করে আন্দোলকারীদের কাছ থেকে সরকার গঠনমূলক করণীয় আশা করে। আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান করা হবে। এখন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবস্থান না নিয়ে আন্দোলনকারীরা সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ হাতে নেবে বলে আশা করি।’

দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনে সবার সমর্থন থাকত যদি না এ ঘটনার পরে সরকার কোনো ব্যবস্থা না নিত। আমিও আন্দোলনে দাঁড়াতাম। এখন দেখা যাচ্ছে সরকার অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে। এখন আন্দোলন কেন? আমি মনে করি আন্দোলনের চেয়ে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘ধর্ষণের বিরুদ্ধে সব রকম পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এখনো রাজপথে আন্দোলন চলছে। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয় এ আন্দোলনের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হচ্ছে। সরকারের বিরুদ্ধে উসকে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। অপরাধের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে বা সরকারের আরও কী করার আছে সেগুলো নিয়ে বাস্তবসম্মত দিকনির্দেশনা দিতে পারে আন্দোলনকারীরা। তা না করে এখানে অশ্লীল ভাষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গালাগাল দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে, এটা কোন ধরনের আন্দোলন।’ তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনাই একমাত্র অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করে। এখানে কে কোন দল করে, কার কী পরিচয় সেটা দেখতে যান না প্রধানমন্ত্রী। আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রেখে নতুন আইনের প্রস্তাব উঠবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত