বার্সেলোনার সঙ্গে সব ঝামেলা চুকিয়ে অনেকটা ফুরফুরে মেজাজে লিওনেল মেসি। জাতীয় দলের জার্সিতেও একই মেসিকে পাওয়া গেল। প্রায় বছরখানেক বিরতির পর জাতীয় দলের জার্সিতে নেমেই গোল পেলেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। পেনাল্টি থেকে করা তার গোলেই গতকাল ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ঘরের মাঠে মেসির গোল থেকে পাওয়া এই জয়ে ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে শুভসূচনাও করল আর্জেন্টিনা।
২০১৮ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে হেরে শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। এবার তার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে মেসিকে সেরা ছন্দে দরকার ছিল দলটির। ছয়বারের বর্ষসেরা তারকা পুরোপুরি ছন্দে ছিলেন না। পোস্ট বরাবর মাত্র দুটি শট নিতে পেরেছেন। তাতেও অবশ্য রাজধানী বুয়েনস আয়ার্সে আর্জেন্টিনার জয় আটকায়নি। ম্যাচে মেসিই শুধু নয়, আলবিসেলেস্তেদের আক্রমণভাগ ছন্দে ছিল না। লাউতারো মার্তিনেজ ও লুকাস ওকাম্পোস দুজনেই গোলের সুযোগ মিস করেছেন। ম্যাচের ১৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে দেশের জার্সিতে ৭১তম গোল করেন মেসি। এই গোল না এলে আর্জেন্টিনার পক্ষে ম্যাচ জেতা কঠিন ছিল। ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, ‘জয়ে শুরু করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা জানি লাতিন আমেরিকার বাছাইপর্ব কতটা কঠিন। সব ম্যাচই আজকের ম্যাচের মতো কঠিন হবে।’ কোচ লিওনেল স্কালোনির তরুণ দল নিয়ে মেসি বেশ খুশি। এই দলের উন্নতির ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসীও। প্রায় এক বছর পর খেলতে নেমেও যে দলের কেউ ভুল কিছু করেননি তাতে সন্তুষ্ট মেসি বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম খেলাটা ভিন্ন হবে। কারণ আমরা প্রায় এক বছর পর একসঙ্গে খেলছি। বোঝাপড়ায় একটু দূরত্বের ভয় করছিলাম। হ্যাঁ, আমাদের মধ্যে একটু নার্ভাসনেস কাজ করেছে। এজন্য যথেষ্ট পরিমাণে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারিনি। কিন্তু মোটের ওপর আমরা ভালো একটা ম্যাচ খেলেছি।’
এই ম্যাচে তরুণদের নিয়েই একাদশ সাজিয়েছেন স্কালোনি। দলের ১১ জনের ৭ জনই এই প্রথম বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব খেললেন। তবুও স্কালোনির অধীনে টানা অষ্টম জয় নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।
মেসিদের পরের ম্যাচ মঙ্গলবার বলিভিয়ার বিপক্ষে লাপাজে। এই স্টেডিয়ামে খেলতে নেমে বলিভিয়া বাদে সব দলই ভীত থাকে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৬৫০ মিটার উঁচু এই স্টেডিয়ামে যেকোনো দলের জন্যই খেলা কঠিন। এ মাঠেই ২০০৯ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে বলিভিয়ার কাছে ৬-১ গোলে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। দেশটির সবচেয়ে বড় তিন হারের সবকটি ওই একই ব্যবধানে।
