নতুন রানীর অপেক্ষায় ফ্রেঞ্চ ওপেন। সোফিয়া কেনিন ও ইগা স্যুয়াতেক দুজনই ক্যারিয়ারে প্রথমবার ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালের মঞ্চে নামবেন। তবে শিরোপা নির্ধারণী লড়াই দুজনের জন্য প্রথম নয়। তেমনিভাবে শিরোপা সম্ভাবনাও। আমেরিকান তরুণী কেনিন এর আগে একটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছেন। বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের মুকুট উঠেছে তার মাথায়। কিন্তু পোল্যান্ডের তরুণী ইগা স্যুয়াতেক ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম কোনো ফাইনালে পা রাখলেন। তাই দুজনের জন্য উপলক্ষ ভিন্ন। কেনিন খেলবেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যামের লক্ষ্যে আর স্যুয়াতেক প্রথম। কিন্তু ফ্রেঞ্চ ওপেনের জন্য উপলক্ষ এক। এই টুর্নামেন্ট অপেক্ষায় আছে নারী এককের নতুন চ্যাম্পিয়নের খোঁজে।
স্যুয়াতেকের উত্থান সবাইকে অবাক করলেও তার কোচ পিয়েতর সির্জপুতোস্কিকে মোটেই অবাক করেনি। এই কোচ জানতেন তার শিষ্য এভাবেই চমক দেবেন। ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতলে এই ১৯ বছর বয়সী দারুণ রেকর্ডও গড়বেন। ১৯৯২ সালের চ্যাম্পিয়ন মনিকা সেলেসের পর সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতবেন। স্যুয়াতেককে নিয়ে তার কোচ বলেন, ‘এটা এমন নয় যে ভাগ্যজোরে সে ফাইনাল খেলছে। সে হয়তো মাত্র ১৯ বছর বয়সী কিন্তু তার অনেকদূর যাওয়ার ক্ষমতা আছে। আর সে কারণেই বেশ কয়েক বছর ধরেই সে টেনিস অঙ্গনে ভালো করে আসছে।’
গত ৮১ বছরে ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে নাম লেখানো প্রথম পোলিশ তরুণী স্যুয়াতেক। আর আট বছর আগে উইম্বলডনে আগনেস্কা রাদওয়ানস্কার পর কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে ওঠা প্রথম পোলিশ। টেনিসের জন্য কলেজজীবন দুই বছরের জন্য বন্ধ রেখেছেন। এই ত্যাগ তাকে আজ কী পুরস্কার এনে দেয় সেটাই দেখার।
এদিকে অন্য ফাইনালিস্ট কেনিনের এই পর্বে আসাটাই ছিল কঠিন। টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি আসর ইতালিয়ান ওপেনের ফাইনালে ৬-০, ৬-০তে হেরেছিলেন। কিন্তু তাতে সমস্যা নেই কেনিনের। কারণ, এই আমেরিকান নিজেকে সব সমস্যার সমাধান বললেন, ‘আমি একজন প্রবলেম সলভার। যেকোনো সমস্যা সমাধান করতে পারি। টেনিসে সব ম্যাচই কঠিন। আমার জন্য ফাইনালে আসা পর্যন্ত সব ম্যাচই এমন ছিল। তবে আমি সেই হারের সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠেছি, এটাই সফলতা।’ ২০১৯ ফ্রেঞ্চ ওপেনের চতুর্থ রাউন্ডে থামেন। কিন্তু এবার ওই বাধাগুলো টপকে একেবারে ফাইনালে আছেন। বছরের শুরুতে প্রথম গ্র্যান্ড সø্যাম জয়ের পুনরাবৃত্তি করতে পারবেন তো?
