তিন লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে বিএনপি

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২০, ০২:০০ এএম

তিন লক্ষ্য নিয়ে সামনে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। এগুলো হলো দলের পুনর্গঠন, মিত্র বাড়ানো এবং সবাইকে নিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়। গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে এসব কথা বলেছেন দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা। তারা বলেন, সবার আগে যোগ্য নেতাদের দিয়ে তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত কমিটি পুনর্গঠন করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা হবে। তৃতীয়ত নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলের পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। সারা দেশে দলের সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর কাজ চলছে। এগুলো চলতে থাকবে। এরই মধ্যে পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকূলে আসার পর কাউন্সিল করা হবে। কাউন্সিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হবে। যেসব পদ খালি আছে সেগুলো পূরণ করা হবে।’

এ প্রসঙ্গে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলীয় সরকারের অধীনে কেমন নির্বাচন হয়, তা দেশের মানুষ দেখছে। এটাকে নির্বাচন বলা যায় না। দলের পুনর্গঠন কাজ শেষ হলে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এরপর নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তারপর সে নির্বাচনে গেলে জনগণ তাদের পছন্দের নেতা নির্বাচন করতে পারবেন। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হলে মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া যাবে।’ তিনি বলেন, ‘দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্ত হলেও কার্যত তিনি মুক্ত নন। তাকে পুরোপুরি মুক্ত করতে হবে। তার নেতৃত্বে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। খালেদা জিয়া মুক্ত হলেই গণতন্ত্র মুক্ত হবে। কারণ, তিনি গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে সরকারের রোষানলে পড়ে মিথ্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন।’

বিএনপির একাধিক বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে পুনর্গঠন কাজ আবার শুরু হয়েছে। তার আগে আমরা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা নিজ নিজ বিভাগের সাংগঠনিক রিপোর্ট দলের কাছে পেশ করছি। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোর পুনর্গঠন রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক রিপোর্ট শিগগিরই পেশ করা হবে। সর্বশেষ গত শনিবার দলের স্থায়ী কমিটির সভায় সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন পুনর্গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিলেট বিভাগের সিলেট জেলা ও মহানগর, সুনামগঞ্জ এবং মৌলভীবাজারে কমিটি আছে। হবিগঞ্জে আহ্বায়ক কমিটি কাজ করছে। জেলার অন্তর্গত সব কমিটি গঠনের পর কাউন্সিল করে নতুন কমিটি করা হবে। সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক চিত্র গত শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করেছি।’

বিএনপির দপ্তরসংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, বিএনপির ৮২টি সাংগঠনিক জেলা শাখার বেশিরভাগেরই পূর্ণাঙ্গ ও আংশিক কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ২৭টির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হলেও সেগুলোর মেয়াদ শেষ। মাদারীপুর জেলা কমিটির সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। রাজশাহী মহানগর, বরিশাল মহানগর, পটুয়াখালীসহ বেশ কিছু জেলা শাখা বহু আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও এখন পর্যন্ত নতুন কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। পূর্ণাঙ্গ কমিটির মধ্যে গাজীপুর, লালমনিরহাট, খাগড়াছড়ি, সুনামগঞ্জ, জামালপুর, মেহেরপুর, গাইবান্ধা, মৌলভীবাজার, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, শেরপুর জেলা কমিটির মেয়াদ রয়েছে। এ অবস্থায় আবারও পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে।

তারা আরও বলেন, দল পুনর্গঠন নিয়ে লন্ডনে অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা হলো মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা কমিটি বাতিল করে তিন মাসের জন্য প্রথমে আহ্বায়ক কমিটি করতে হবে। তারা ইউনিয়ন-থানাসহ সংশ্লিষ্ট জেলার সব পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে অথবা সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব ঠিক করবে। সবশেষে জেলা কাউন্সিল করে ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।

দপ্তরসংশ্লিষ্ট নেতারা বলেন, জেলা কমিটি গঠনে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার নেতারা তাদের ইউনিট কমিটি করেছেন কি-না তা-ও দেখভাল করছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। করোনা মহামারীর কারণে প্রায় ছয় মাস কমিটি গঠন ও পুনর্গঠনসহ সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর ২০ সেপ্টেম্বর থেকে আবার তা শুরু হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত