সুপ্রিম কোর্টে কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দেওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ (এ এম) আমিন উদ্দিন। প্রয়াত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার পাশাপাশি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সম্মান বজায় রাখতে সব সময় সচেষ্ট থাকবেন বলেও জানান তিনি। গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন।
গত বৃহস্পতিবার সংবিধানের ৬৪ (১) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সম্মতিক্রমে তাকে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আইন মন্ত্রণালয়। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম মৃত্যুবরণ করার পর অ্যাটর্নি জেনারেল পদে তার স্থলাভিষিক্ত হন তিনি। ২০১৯-২০ মেয়াদে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এ এম আমিন উদ্দিন ২০২০-২১ মেয়াদেও সমিতির সভাপতি হিসেবে গেল মার্চে পুনর্নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ সালে আইনজীবী হিসেবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত হন তিনি। ১৯৮৯ সালের ২৮ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে এবং ২০০৩ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন এ এম আমিন উদ্দিন। এর আগে ২০০০ থেকে ২০০১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
সাংবিধানিক এ পদে নিয়োগ দেওয়ায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘এটা তো একটা দায়িত্ব, আমাকে যারা দায়িত্ব দিয়েছেন, আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছেন, আমার ওপর যে আস্থা তারা রেখেছেন, আমি তাদের সেই আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পদের সম্মান ধরে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রয়াত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের মান মর্যাদাকে যে জায়গাটায় নিয়ে গেছেন এখন সেই মান ধরে রাখাই হচ্ছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমি চেষ্টা করব সেটাই করতে।’
আদালত অঙ্গনে দুর্নীতি-অনিয়ম রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন জানিয়ে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রের এই প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি আপনাদের কথা দিতে পারি, কোনো ধরনের দুর্নীতিকে আমি প্রশ্রয় দেব না। আমাকে আপনারা চিনেন, জানেন, দেখেছেন। সুপ্রিম কোর্টের সভাপতির দায়িত্বে ছিলাম একাধিকবার। আমি কখনই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিইনি, কাউকে দুর্নীতি করতে দেব না। আমি মনে করি যেখানে যেখানে দুর্নীতি-অনিয়ম রয়েছে, সেগুলো আগে চিহ্নিত করতে হবে। গণমাধ্যম যদি আমাদের সহায়তা করে তাহলে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সঙ্গে কথা বলে কীভাবে দুর্নীতিগুলোকে ধরা যায়, এর মূলোৎপাটন করা যায় সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেব।’
সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি বলেছেন, অনিয়ম রোধে মামলায় সেন্ট্রাল ফাইলিং হলে ৫০ শতাংশ অনিয়ম-দুর্নীতি কমে আসবে। প্রধান বিচারপতির এ অভিমতের সঙ্গে একমত পোষণ করে এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘আমি মনে করি এ পদ্ধতিটি আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এ বিষয়টিকে কীভাবে কার্যকর করা যায়, আমাদের আইনজীবী বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করব।’
দায়িত্ব নেওয়ার পর মামলাজট কমানো ও বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি লাঘবে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা শুধুমাত্র অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে সম্ভব নয়। বিচারাঙ্গনের সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে এ সমস্যা নিরসনে চেষ্টা করতে হবে। সবার সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।’
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাসহ উচ্চ আদালতে অসংখ্য আলোচিত মামলার বিচারে দ্রুত শুনানির উদ্যোগের বিষয়ে অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে এখন আপিল বিভাগে ভার্চুয়াল কার্যক্রম চলছে। হাইকোর্টের বেশ কিছু বেঞ্চও ভার্চুয়ালি চলছে। পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হোক। আমরা সব মামলা পর্যায়ক্রমে শেষ করতে চেষ্টা করব। এসব মামলার সঙ্গে বিশেষ করে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি করতে চেষ্টা করব।’
