আলামত সংগ্রহ, ২ আসামির স্বীকার

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৩৩ এএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের শিকার সেই নারীর ঘর থেকে জামা-কাপড়, বালিশ, বিছনার চাদরসহ মামলার বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এদিকে মামলার প্রধান আসামি বাদল, সাজু ও রহমতকে রিমান্ড শেষে গতকাল রবিবার আদালতে তোলা হয়। বিকেলে বাদল ও সাজুর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। আর রহমত স্বীকারোক্তি দেয়নি।

গতকাল সকালে পিবিআই কর্মকর্তারা একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে নির্যাতনের শিকার সেই নারীর বাড়িতে যান। এ সময় তারা ভুক্তভোগীর ঘর থেকে তার ব্যবহৃত জামা-কাপড়, বালিশ, বিছানার চাদর এবং কয়েকটি কার্টনসহ মামলার বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। বাড়ির পাশের খালে এবং পুকুরে আরও কিছু আলামত উদ্ধারের জন্য জাল ফেলে ও ডুবুরি নামিয়ে খোঁজাখুঁজি করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজনকে সাক্ষী করে আলামতগুলোর জব্দ তালিকা প্রস্তুতের পর জেলা পিবিআই কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ঘটনায় নির্যাতিত নারীর করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মামুনুর রশিদ পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন।

গত শুক্রবার রাতে পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের নির্দেশনা অনুযায়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে ভুক্তভোগীর করা দুটি মামলা পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়।

বাদল ও সাজুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি : মামলার প্রধান আসামি বাদল, সাজু ও রহমতকে রিমান্ড শেষে আদালতে তোলা হয়। গতকাল দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এ তিন আসামিকে নিয়ে জেলার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির হন। বিকেলে আসামি বাদলকে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মাসফিকুল হকের সামনে এবং সাজুকে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নবনিতা গুহর সামনে উপস্থাপন করা হয়। দুই বিচারক ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। সন্ধ্যায় তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে অন্য আসামি রহমত স্বীকারোক্তি না দেওয়ায় তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

এর আগে বিভিন্ন দিন মামলার পাঁচ আসামি ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন, আবদুর রহিম, রাসেল, মাঈনুদ্দিন সাহেদ ও সোহাগ ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল।

নির্যাতনের শিকার ওই নারী বাদী হয়ে গত রবিবার রাতে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দুটি করেন। দুই মামলার এজাহারে নয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত সাত-আটজনকে আসামি করা হয়। দুই মামলায় এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত ছয় এবং তদন্তে যুক্ত করা হয়েছে পাঁচজনকে।

ধর্ষণের একমাত্র শাস্তি ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন : ধর্ষণের একমাত্র শাস্তি ফাঁসির দাবিতে নোয়াখালীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন হয়েছে। দুপুর ১২টায় নোয়াখালী প্রেস ক্লাবের সামনে  ‘চৎড়ঃবংঃ ভড়ৎ যবৎ’ নামে কিশোর, তরুণ ও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদী একটি মোর্চা এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ক্ষমতাবানদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে এবং আইনের ফাঁক দিয়ে ধর্ষণকারীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে। সমাবেশে ধর্ষণের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদন্ডসহ সাত দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনবিরোধী মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন করে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত