চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সরকারি মডেল মসজিদ ভবন নির্মাণে অধিগ্রহণ করা জমি ব্যক্তিমালিকানায় দেখিয়ে তা ফের কেনার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তবে প্রশাসন বলছে, সরকারি জমি আবারও কেনা হয়েছে কি না, তা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
দুই বছর আগে ফরিদগঞ্জ উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য ৬ কোটি টাকা দিয়ে প্রায় ৫৫ শতাংশ জমি কেনে চাঁদপুর জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন। যা আগে থেকেই ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের অধিগ্রহণ করা সরকারি জমি। উপজেলা পরিষদের নথিতেও আছে বিষয়টি। ফরিদগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দা কাজী মো. ইমরান হোসেন ও আবুল কালাম বলেন, মসজিদ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের দাবি, অতিদ্রুত যেন এই কাজের তদন্ত করে প্রকৃতি সত্য উদঘাটন করা হয়। যদি কেউ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।
এদিকে উপজেলার বেহাত হওয়া সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান জিএস তসলিম হোসেন হাওলাদারকে আহ্বায়ক ও উপজেলা প্রকৌশলী মো. জিয়াউল ইসলামকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের স্থাবর সম্পদ রক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি তদন্ত করে উপজেলার বেদখল হয়ে যাওয়া সম্পত্তি ফিরে পেতে কাজ করছে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার প্রকৌশলী মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, গত কয়েক মাস আগে আমরা একটি নথির ফটোকপি হাতে পাই। সেই নথিতে দেখা যায়, পাকিস্তান আমলে তৎকালীন চাঁদপুর মহকুমার ফরিদগঞ্জ টিটিঅ্যান্ড ডিসি এর নামে ১০ একর সম্পত্তি অধিগ্রহণ করা হয়। এলএ কেস-১৯২/১৯৬৩-৬৪ সালে কাছিয়াড়া গ্রামের ২৯১ নম্বর মৌজায় এই জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এছাড়া ১৯৫৭ সালে সাফকবলা দলিল মূলে তৎকালীন সিও ডেভেলপমেন্টের নামে আরও ৬৭ শতক ভূমি কেনা হয়। ১৯৬৩-৬৪ সালে অধিগ্রহণকৃত উপজেলার জমির দলিলে যে দাগ রয়েছে, সেই দাগের দুটি দাগের জমির ওপরে বর্তমানে মডেল মসজিদ নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। নথিতে উপজেলার জমি হলেও তা ব্যক্তিমালিকানা জমি হিসেবে কিনে মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ তাদের অধিগ্রহণকৃত ১০ একর সম্পত্তির মধ্যে বর্তমানে ৫ একর সম্পত্তির খাজনা নিয়মিত দিয়ে এলেও দখলে রাখতে পেরেছে ৪ একর ৬৭ শতাংশ ভূমি। বাকি সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য স্থানীয় এমপি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যানের দিকনির্দেশনায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের হাতে দলিলের ফটোকপি রয়েছে। যার কারণে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এখনই আমরা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছি না। যখন আমরা দলিলের মূল কপি হাতে পাব, তখন এ ব্যাপারে আমরা আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলার স্থাবর সম্পদ রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক জিএস তসলিম হোসেন হাওলাদার বলেন, সরকারের কাজের জন্য সরকারি জায়গা কেন টাকা দিয়ে কেনা হয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।
এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরি বলেন, মসজিদের জমি কেনায় দুর্নীতি প্রমাণ হলে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানালেন এই কর্মকর্তা।
