রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় গতকাল সোমবার বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি বঙ্গবন্ধু স্কয়ার স্থাপনের এ পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এরপর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মূল দায়িত্ব গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত করা হয়। মন্ত্রণালয় থেকে রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের (রাজউক) অর্থায়নে বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে প্রকল্পের কাজ করতে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণের শৈল্পিক ভঙ্গিমা তুলে ধরা হয়েছে এর মূল নকশায়। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ১৫ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর সড়কের ১৭ নম্বর প্লটে ২ দশমিক ৩ একর জমিতে নির্মিত হচ্ছে ঐতিহাসিক এ স্থাপনা। এটি নির্মাণে খরচ হবে ৫৫ কোটি ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমানের শূন্যে উত্থিত তর্জনী ব্রোঞ্জ নির্মিত ভাস্কর্যে শোভা পাবে বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে ভাস্কর্যটির উচ্চতা নির্ধারণ করা হয়ছে ৭১ ফুট। দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্যটি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সম্পর্কে আগামী প্রজন্মের কাছে অনন্য মাইলফলক হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনন্য ভূমিকা তুলে ধরতে স্থাপনাটি বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র ও বাঙালির অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তার অনন্য ভূমিকা জাতি আজীবন কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ রাখবে। পূর্বাচল নতুন শহর এলাকার শিশু-কিশোরসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও কর্মকে উপস্থাপনের মূর্ত প্রতীক হিসেবে কাজ করবে এই বঙ্গবন্ধু স্কয়ার।’
অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম, রাজউক চেয়ারম্যান সাঈদ নূর আলম, স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
