পরীক্ষার সঙ্গে শনাক্ত-মৃত্যুও বেড়েছে

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২০, ০২:১৩ এএম

দেশে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসের পরীক্ষা বাড়ার পাশাপাশি নতুন রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু বেড়েছে। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার ২২৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যা গত ১২ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এসব পরীক্ষায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৪৭২ জন, যা গত পাঁচ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছে আরও ৩১ জন। মৃত্যুর এই সংখ্যাও গত পাঁচ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত দেশে করোনায় মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ৫ হাজার ৫৫৫ জন। এদিন বেশি পরীক্ষার কারণে রোগী বেশি শনাক্ত হলেও শনাক্তের হার ছিল তুলনামূলক কম। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় প্রতি ১০০ পরীক্ষায় ১১ দশমিক ১৩ জন করে রোগী শনাক্ত হয়েছে। গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর ২১৯তম দিন। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারা দেশে বর্তমানে ১০৯টি পরীক্ষাগারে করোনার পরীক্ষা চলমান। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার দুপুর ১২টা থেকে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১৩ হাজার ২৮৩টি নমুনা সংগৃহীত হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৩ হাজার ২২৭টি। এসব পরীক্ষায় ১ হাজার ৪৭২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিল ১১ দশমিক ১৩ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩১ রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ৫৩১ রোগী সুস্থ হয়েছে।

এতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত মোট ২০ লাখ ৮৪ হাজার ২২২টি নমুনা পরীক্ষায় ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৭৩৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৫ হাজার ৫৫৫ জন এবং সুস্থ হয়েছে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৩৯১ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত যত পরীক্ষা হয়েছে তার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৮ দশমিক ২২ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৬ ও সুস্থতার হার ৭৭ দশমিক ৫২ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৯ ও নারী ১২ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২২, চট্টগ্রামে ৪, সিলেট ও ময়মনসিংহে ২ জন করে এবং রংপুর বিভাগের ১ জন। মৃতদের মধ্যে ১৭ জন ষাটোর্ধ্ব, ৭ জন ৫১-৬০ বছরের, ২ জন ৪১-৫০ বছরের, ৩ জন ৩১-৪০ বছরের, ১ জন ২১-৩০ বছরের এবং ০-১০ বছরের শিশু ছিল একটি। ৩১ জনের সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৪ হাজার ২৭৫ ও নারী ১ হাজার ২৮০ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৬ দশমিক ৯৬ ও নারী ২৩ দশমিক ০৪ ভাগ। বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮২৯ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ১১৭, খুলনায় ৪৪৯, রাজশাহীতে ৩৫৯, রংপুরে ২৫২, সিলেটে ২৩৮, বরিশালে ১৯৩ এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ১১৮ জন মারা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১৫ রোগীকে আইসোলেশনে ও ৬৬৪ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১২ হাজার ৭২১ ও কোয়ারেন্টাইনে আছে ৪০ হাজার ৬৪৬ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হটলাইনগুলোতে ৪২ হাজার ৫২৭টি কল এসেছে। সারা দেশে কভিড হাসপাতালগুলোতে মোট ১১ হাজার ৬৮৭টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৪৪৭টিতে। বাকি ৯ হাজার ২৪০টি খালি ছিল। এ ছাড়া ৫৬৪টি আইসিইউর মধ্যে খালি ছিল ৩১০টি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত