বলিউডের মানহানির কারণে দুই টিভি চ্যানেল ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে প্রযোজকেরা। এ তালিকায় আছে আমির, শাহরুখ ও সালমান এই তিন খানের প্রতিষ্ঠানও। এ ঘটনায় এক সারি টুইট প্রকাশ করেছেন কঙ্গনা রনৌত। বলেন, আমার বিরুদ্ধেও মামলা করুন।
সেখানে তিনি বলেন, বলিউডের অলিখিত নিয়ম হলো ‘তুমি আমার নোংরামি গোপন রাখো, আমিও তোমারটি রাখবো’। এটাই হলো বিশ্বস্ততার মাপকাঠি। আমি যখন থেকে আছি দেখে আসছি কিছু পরিবার এই ইন্ডাস্ট্রি চালাচ্ছে। কবে এর পরিবর্তন হবে?
আরও বলেন, মাদকচক্র, শোষণ, স্বজনপোষণের এই নর্মদা পরিষ্কারের জন্য লড়ে যাবেন। তার বিরুদ্ধেও মামলা হোক। যতক্ষণ বেঁচে আছেন সবার মুখোশ খুলে যাবেন তিনি।
আরও বলেন, বড় নায়কেরা শুধু নারীদের পণ্য করে তোলে না, তরুণীদের শোষণও করে। তারা চায় না সুশান্ত সিং রাজপুতের মতো কেউ উঠে আসুক। নিজেরাই ৫০ বছর বয়সে স্কুলছাত্রের ভূমিকায় অভিনয় করেন।
আরেকটি টুইটে কঙ্গনা লেখেন, “বলিউডের নর্দমার পোকারা এবার বেইজ্জতির মানে বুঝতে পারছে। বুঝতে পারছে কাউকে টার্গেট করলে কেমন লাগে, কেমন লাগে আইসোলেট করে দিলে। কোথায় লুকিয়ে পড়তে কিংবা পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে নাকি? এতগুলো নেকড়ে দল বেঁধে থাকো, একা হলে নিশ্চয়ই মরে যেতে ইচ্ছে করে, তাই না?”
গত কয়েক মাস ধরে বলিউড-সহ গোটা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বিরুদ্ধে যেভাবে প্রচার চালানো হচ্ছে, তাতে ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তার বিরুদ্ধেই সোমবার দিল্লি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয় বলিউডের ৩৮টি প্রযোজনা সংস্থা ও ফিল্ম বডির তরফে।
বলিউডের বিভিন্ন প্রযোজনা সংস্থার পাশাপাশি দ্য ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন প্রডিউসারস গিল্ড অব ইন্ডিয়া এবং সিনে অ্যান্ড টিভি আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের তরফে ওই মামলায় নিজেদের নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে।
যে প্রযোজনা সংস্থাগুলো আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে,তাদের মধ্যে রয়েছে দ্য ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন প্রডিউসারস গিল্ড অব ইন্ডিয়া,সিনে অ্যান্ড টিভি আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইন্ডিয়ান ফিল্ম অ্যান্ড টিভি প্রডিউসারস কাউন্সিল, স্ক্রিন রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন, আমির খান প্রোডাকশনস, অ্যাড-ল্যাবস ফিল্মস, অজয় দেবগন ফিল্মস, আন্দোলন ফিল্মস, অনিল কাপুর ফিল্মস অ্যান্ড কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক, আরবাজ খান প্রোডাকশনস, আশুতোষ গোয়ারিকর প্রোডাকশনস, বিএসকে নেটওয়ার্ক অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট, কেপ অব গুড ফিল্মস, ক্লিন স্টেট ফিল্মস ও ধর্মা প্রোডাকশনস।
আরও আছে এমি এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড মোশন পিকচার্স, এক্সেল এন্টারটেইনমেন্ট,ফিল্মকার্ট প্রোডাকশনস, হোপ প্রোডাকশন, কবীর খান ফিল্মস, লাভ ফিল্মস, ম্যাগফিন পিকচার্স, নাদিয়াদওয়ালা গ্র্যান্ডসন এন্টারটেইনমেন্ট, ওয়ান ইন্ডিয়া স্টোরিজ, রমেশ সিপ্পি এন্টারটেইনমেন্ট, রাকেশ ওমপ্রকাশ মেহরা পিকচার্স, রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্ট, রিল লাইফ প্রোডাকশনস, রিলায়েন্স বিগ এন্টারটেইনমেন্ট, রোহিত শেঠি পিকচার্স, রয় কাপুর ফিল্মস, সালমান খান ফিল্মস, সোহেল খান ফিল্মস, শিক্ষা এন্টারটেইনমেন্ট, টাইগার বেবি ডিজিটাল, বিনোদ চোপড়া ফিল্মস, বিশাল ভরদ্বাজ পিকচার্স ও যশরাজ ফিল্মস।
কয়েক মাস ধরে বেশ কয়েকটি সংবাদ সংস্থার তরফে বলিউডের বিরুদ্ধে নোংরা এবং বাজে শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই ইন্ডাস্ট্রির মানুষদের মাদকের নেশায় আসক্ত বলে আক্রমণ করা হচ্ছে— তাতে ইন্ডাস্ট্রির ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। টিআরপি বাড়ানোর চক্করেই বলিউডের বিরুদ্ধে ওই ধরনের আচরণ বলে উল্লেখ করা হয়।
