করোনাভাইরাস ধরা পড়ার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারে ফিরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার ফ্লোরিডা রাজ্যের সানফোর্ডে উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে তিনি মাস্ক ছাড়াই উপস্থিত হন। সমাবেশে উপস্থিত অধিকাংশের মুখেও কোনো সুরক্ষা আবরণ ছিল না। ট্রাম্পের এমন কর্মকাণ্ডে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন দেশটির শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি। তিনি আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ‘ব্যাপক সমস্যায় পড়বে’। এদিকে একই দিন ওহাইও রাজ্যের টলেডোতে এক নির্বাচনী সমাবেশে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও প্রেসিডেন্ট হলে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবেন। তা যুক্তরাষ্ট্রকে ঝুঁকিতে ফেলবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, চলতি সপ্তাহে কথিত ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ রাজ্যগুলোতে ছয়টি সমাবেশ করার পরিকল্পনা করেছেন ট্রাম্প, তার মধ্যে গত সোমবার প্রথমটি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে কয়েক হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন। তাদের অধিকাংশেরই মুখে কোনো সুরক্ষা আবরণ (মাস্ক) ছিল না এবং তারা কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেন, আমি এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। তারা বলেছে আমি মুক্ত। আমি খুব শক্তিশালী বোধ করছি। প্রায় এক ঘণ্টার বক্তৃতায় তিনি আরও বলেন, ‘এখানে উপস্থিত প্রত্যেককে আমি চুমু দেব, আমি পুরুষদের এবং সুন্দরী নারীদের চুমু দেব, আমি আপনাদের বিশাল একটি চুমু দেব।’
করোনাভাইরাস লকডাউনের কারণে অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে সমাবেশে মন্তব্য করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এ থেকে বেরিয়ে আসতেই হতো।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পর্যায়ের ও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৭৪ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট তার ৭৭ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের চেয়ে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছেন।
রয়টার্স বলছে, সানফোর্ডের সমাবেশে ইঙ্গিত মিলেছে যে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার পরও ট্রাম্প তার প্রচারণার ভঙ্গিতে পরিবর্তন আনেননি।
প্রচারণা সমাবেশে সমর্থকদের ও হোয়াইট হাউজের কর্মীদের সুরক্ষা মাস্ক পরতে ও সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে চলতে উৎসাহিত না করতে পারার জন্য ট্রাম্পকে দায় দিয়েছেন সমালোচকরা। হোয়াইট হাউজে তার অন্তত ১১ জন ঘনিষ্ঠ সহযোগী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
ট্রাম্প সানফোর্ডে সমাবেশ করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি সিএনবিসি চ্যানেলকে বলেছেন, সার্বিকভাবে ফেইস মাস্ক ব্যবহার ও জনসমাবেশ এড়ানো উৎসাহিত করতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্র ‘ব্যাপক সমস্যায় পড়বে’।
এদিকে টলেডোর সমাবেশে ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কারদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে বাইডেন বলেন, আমি কারও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের আকার দেখে মানুষকে পরিমাপ করি না। আমি মানুষকে তার চরিত্র, শক্তি, সততা ও সাহস দিয়ে পরিমাপ করি।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালে যখন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছিল, তখন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তিনি নিজে গাড়িশিল্পকে উদ্ধার করেছিলেন।
বাইডেন আরও বলেন, ট্রাম্প করোনাভাইরাস মহামারী সংক্রমণ প্রতিরোধে ভুল পদক্ষেপ নিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
