পাবনার বেড়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আনাম সিদ্দিকীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে পৌর মেয়র আব্দুল বাতেনকে মেয়রের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফারুক হোসেন সাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।
এর আগে গত সোমবার বেড়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভা চলাকালে ইউএনও আসিফ আনাম সিদ্দিকীকে মেয়র বাতেন লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করে ইউএনও সেদিনই বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানান। এরপর জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দেন। তাতে মেয়রের কর্মকাণ্ডকে অসদাচরণের শামিল বলে উল্লেখ করা হয়। এজন্য তার বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন জেলা প্রশাসক। এরই ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ মেয়র বাতেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল।
স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মাসিক সমন্বয় সভাকালে পৌর মেয়র আব্দুল বাতেন ইউএনওকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখান। এই অপরাধ স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন অনুযায়ী মেয়রের পদ থেকে অপসারণযোগ্য অপরাধ। পৌর মেয়রের এই কাজ পৌর পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বলে মনে করে সরকার। এ জন্য মেয়র আব্দুল বাতেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
গত সোমবার রাতে পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে মেয়র আব্দুল বাতেনের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। চিঠিতে জেলা প্রশাসক বলেন, বেড়া উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অক্টোবর মাসের মাসিক সভা চলাকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং অশালীন ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন আব্দুল বাতেন। যা একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে শিষ্টাচার বহির্ভূত ও ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, উপজেলা পরিষদের গত সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক সভায় মেয়র নগরবাড়ী ঘাট ও কাজীরহাট ঘাট ইজারা সংক্রান্ত বিষয়ে বেআইনি প্রস্তাব উত্থাপন করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আইনি ব্যাখ্যা প্রদান করেন, যা কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ পরিপ্রেক্ষিতে অক্টোবর মাসের চলমান সভায় কার্যবিবরণীর ওই বিষয় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রতিবাদ করলে এবং আইন বহির্ভূত কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ‘মেয়র আব্দুল বাতেনের শিষ্টাচার বহির্ভূত ও আইন পরিপন্থী আচরণ নতুন নয়। প্রায়শই তিনি উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিষ্টাচারবহির্ভূত ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ অসদাচরণ করেন। এসব কর্মকান্ডের তথ্য-প্রমাণাদিসহ মেয়র আব্দুল বাতেনের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ জানিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে জেলা প্রশাসনের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়েছে।’
এদিকে তাকে বরখাস্তের বিষয়টিকে ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে আব্দুল বাতেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমি এ ব্যাপারে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করব।’
তিনি আজ বুধবার বেলা ১১টায় বেড়া টাউন ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তার বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরবেন বলেও জানান।
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকুর ছোটভাই মেয়র আব্দুল বাতেন দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য সমালোচিত হয়ে আসছেন। তার বিরুদ্ধে দুদকে একাধিক মামলা চলমান। আবদুল বাতেন বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ক্ষমতার অপব্যবহার ও দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে প্রায় তিন মাস আগে জেলা আওয়ামী লীগ তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।
