ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ড

জনমতকে গুরুত্ব দিয়েছে আ.লীগ, বলছেন নেতারা

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২০, ০৫:০৮ এএম

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড রেখে অধ্যাদেশ জারি করায় বিভিন্ন মহলের সমালোচনা চলছে। সমালোচনা রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরেও। বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য ও দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদের অধ্যাদেশ নিয়ে যুক্তিতর্ক রয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা দলের অভ্যন্তরে সমালোচনার কথা স্বীকার করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তির ফলে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ব্যাপারে আমরাও অবগত। আমাদের দলের অভ্যন্তরে অনেক নেতাও এ অধ্যাদেশ নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন। এ নিয়ে যুক্তিতর্কও আছে। কারও যুক্তিতে নতুন আইন ভালো হয়েছে, কারও তর্কে এ আইন মন্দ হয়েছে।

সভাপতিম-লীর তিনজন সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ধর্ষণ ইস্যুটি বিভিন্ন মহলের খেলা শুরু হয়ে গিয়েছিল। কাউকে খেলতে সুযোগ দেওয়া হবে না বলেই রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ যেহেতু সবসময়ই জনমতের পক্ষে, জনগণের চাওয়াকে গুরুত্ব দেয় সর্বোপরি গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগ। তাই জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে আলোচনা-সমালোচনা থাকবে জেনেই ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা এবং দ্রুত অধ্যাদেশ জারি করেছেন। ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা আরও বলেন, এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়েছে। রাজনৈতিক কৌশলের কথাও বলেন দলের অনেক কেন্দ্রীয় নেতা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ফারুক খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। আমরা মনে করি ধর্ষণ সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরে। তাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক-পারিবারিক সচেতনতা। তিনি বলেন, ধর্ষণের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির অধ্যাদেশ নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভেতরে নেতিবাচক আলোচনা রয়েছে। সরকার এ অধ্যাদেশ জারি করেছে মূলত জনমতের ও গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে। ফারুক খান বলেন, সরকারের ও আওয়ামী লীগের তরুণদের প্রতি এক ধরনের আস্থা রয়েছে। তরুণরাও সরকারের প্রতি তাদের আস্থা স্থাপন করেছে। ধর্ষণ নিয়ে দেশের তরুণসমাজ আন্দোলনরত। তাদের ভেতর থেকে দাবি উঠেছে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড করা হোক। সরকার তাদের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধ্যাদেশ জারির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

আইন পেশায় থাকা সরকারের এক মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড প্রদান এর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আমার দ্বিমত রয়েছে। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান থাকলেও ধর্ষণ কমে যাবে এটা আমি বিশ্বাস করি না। যদি না মানুষের মধ্যে সচেতনতাবোধ জাগ্রত না হয়। এই মন্ত্রী আরও বলেন, খুনের মামলায়ও সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে কিন্তু খুন কি কমেছে? সমাজের মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ঘটলে আইনের তোয়াক্কা কেউ করে না। আইন তো থাকতেই হবে পাশাপাশি নৈতিক স্খলন যাতে না ঘটে তার জন্য প্রমোশনাল কিছু কাজও করতে হবে।

আওয়ামী লীগের অন্য সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রত্যেক আইনেরই উপকারিতা-অপকারিতা দুটোই থাকে। এ ক্ষেত্রে দুটোই হতে পারে। তবে বিচারিক প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হলে সুফল আসবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। জনমতকে প্রাধান্য দেয়। ধর্ষণ ইস্যুটি নিয়ে সারা দেশ জেগে উঠেছে। এখানে সুবিধাবাদীরাও আশ্রয় নিয়েছে। এ অবস্থায় জাতি যেভাবে প্রত্যাশা করেছে সেটাই হয়েছে।

আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ধর্ষণের বিরুদ্ধে জাতির যেভাবে প্রত্যাশা করেছে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শুধু সেই প্রত্যাশা পূরণ করেছে। আজকে আইনের অপপ্রয়োগ নিয়ে যারা কথা বলছেন তাদের ব্যাপারে আমার মত হলো, ধর্ষণের ঘটনায় নেতিবাচক প্রচারণা করে দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করার দরকার কী ছিল? এখন আবার সংশয় কেন? তিনি বলেন, ধর্ষণের ইস্যু নিয়ে একটা মহল খেলতে চেয়েছিল। কাউকে খেলতে দেব না বলে প্রধানমন্ত্রী শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। হিরু বলেন, যারা দাবি করছেন অপপ্রয়োগ হবে আমি বলি অপপ্রয়োগ তো হয়ই, হবেই। বিচারক বিচারসুলভ মনোভাব নিয়ে বিচার করলেই বিনা অপরাধী খালাস পাবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত