হার্ড ইমিউনিটির ধারণা সমস্যাপূর্ণ ডব্লিউএইচও

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৩৭ এএম

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকা আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত হার্ড ইমিউনিটি তৈরির যে ধারণাটি দেওয়া হচ্ছে তাকে ‘সমস্যাপূর্ণ’ বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসিস উল্লেখ করেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক মহামারী তো দূরের কথা জনস্বাস্থ্যের ইতিহাসে কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতেই হার্ড ইমিউনিটির ধারণা ব্যবহার করা হয়নি।’

হার্ড কথার অর্থ হলো জনগোষ্ঠী। আর ইমিউনিটি হলো রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা। সমাজের বেশিরভাগ মানুষের শরীরে যখন কোনো বিশেষ জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা তৈরি হয়ে যায়, (হয় টিকা গ্রহণ করে, নয়তো জীবাণু সংক্রমণের মাধ্যমে) আর তাতে সুবিধাই পায় অন্যরা। এপিডেমিওলজিতে এই ধারণাকেই বলা হয় হার্ড ইমিউনিটি।

করোনা মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হার্ড ইমিউনিটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে যারা মনে করছেন, করোনার বিস্তার ঠেকাতে জারি করা লকডাউন অনেক বেশি কঠোর ও প্রত্যাহার করা উচিত, তারা জোরেশোরে হার্ড ইমিউনিটির কথা তুলে ধরছেন। অনেক বিশেষজ্ঞই বলেছেন যে ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত হার্ড ইমিউনিটির জন্য করোনাকে স্বাভাবিকভাবে ছড়াতে দেওয়া উচিত।

তবে ধারণাকে ঠিক মনে করছেন না বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান। তিনি বলেন, ‘মানুষকে ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত করার মাধ্যমে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করা হয়। একে ছড়িয়ে দিয়ে নয়। মহামারী প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় এটা কোনো কৌশল হিসেবে কখনো ব্যবহার করা হয়নি।’ কভিড-১৯ মহামারী প্রতিরোধে হার্ড ইমিউনিটির চিন্তাকে ‘বৈজ্ঞানিকভাবে ও নৈতিকভাবে সমস্যাযুক্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন গেব্রিয়াসিস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত