দিদিয়ের দেশম শুধু জিততে জানেন

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২০, ০২:০২ এএম

দিদিয়ের দেশম যা চেয়েছেন তাই পেয়েছেন।

ফরাসি ফুটবলে স্বর্ণযুগ শুরু হয়েছিল তার হাতে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক ছিলেন। ২০ বছর পর কোচ হয়েও সাফল্য পেয়েছেন ২০১৮’র রাশিয়া বিশ্বকাপ জিতে। মাঝে ২০০০-এ ইউরোজয়ী ফ্রান্স দলের অধিনায়কও ছিলেন দেশম। এমন সাফল্যের মণি-মুক্তায় উজ্জ্বল ক্যারিয়ার বিশ্বফুটবলে খুব বেশি নেই। কিংবদন্তি মারিও জাগালো ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন ব্রাজিলকে। ১৯৭০’র বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের কোচও ছিলেন। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব সামলান। জার্মানির ফ্রানজ বেকেনবাওয়ার অধিনায়ক হিসেবে ১৯৭৪ সালে, আর কোচ হিসেবে ১৯৯০ সালে বিশ্বকাপ এনে দেন জার্মানিকে।

এত সাফল্যের পরেও বিতর্ক দেশমের পিছু ছাড়েনি। জাতিবিদ্বেষে অভিযুক্ত হয়েছেন। ২০১৬ সালে ঘরের মাঠে ইউরো শুরুর আগে তাকে ফ্যাসিস্টও বলা হয়েছিল। যারা বলেছিল তাদের ধারণা, ‘লোকটা বর্ণবিদ্বেষকে প্রশ্রয় দেয়। করিম বেনজেমাকে নেয় না। সামির নাসরিকে উপেক্ষা করে। হাতেম বেন আর্ফা’র মতো খেলোয়াড়কে ডাকে না শুধু নিজের সুবিধের কথা ভেবে।’

ইউরোতে দল জিততে শুরু করার পরেও সমালোচনা থামেনি।

ফাইনালে পর্তুগালের কাছে হেরেছিল ফ্রান্স। এরপর দেশমকে বিদায় করার দাবি ওঠে। ভাগ্যিস সেই দাবি কানে তোলেনি ফরাসি ফুটবল কর্তৃপক্ষ। তুললে রাশিয়া বিশ্বকাপ জেতা হতো না। শোনা যায় ফুটবলারদের কাছে দেশম হলেন কোমলতা আর কাঠিন্যের মিশ্রণ। দলের প্রতি তার কঠোর বার্তা, ‘যদি আমার পদ্ধতিতে কারও চলতে অসুবিধে হয়, তা হলে শেষে সে যেন নিজেকে দোষারোপ করে, আমাকে নয়। দলে কে থাকবে আর কে থাকবে না, তা শুধু পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে না। সিস্টেমের সঙ্গেও মানিয়ে নিতে হবে। আমি ফ্রান্সের যে কোনো পদেই থাকি না কেন, নিজের আত্মা, এনার্জি, সময়, হৃদয় সর্বস্ব দলের প্রতি নিবেদন করে দিই। আমি শুধু জিততে জানি। ওটা আমার রক্তে আছে।’ এরিক ক্যান্টোনা তো আর এমনি এমনি বলেননি, ‘দেশম? ওরে বাবা, তার চেয়ে বড় ফরাসি আর কেউ আছে নাকি? ওর পুরো পরিবারটাই ভয়ংকরভাবে ফরাসি। কারও সঙ্গে তেমন মেশেও না।’

গোড়ামির জন্য দুর্নাম থাকলেও সাফল্য কিন্তু দেশমের কাছে অধরা থাকেনি। কারণ হয়তো নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকার আশ্চর্য ক্ষমতা। প্রবল সমালোচনাকে পাত্তা না দিয়ে বলতে পারেন, ‘আমি আমার বিশ্লেষণ অনুযায়ী দল নির্বাচন করি। আমার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী কোচিং করি। অন্যদের কথা শুনে নয়। যাদের নির্বাচন করি, তারা ব্যর্থ হলে দায় আমার। নিজে সেই দায় নিই।’

শোনা যায় রাশিয়া বিশ্বকাপে (২০১৮) খেলতে নামার আগেই দলের ফুটবলারদের ছোট্ট একটা বার্তা পাঠিয়েছিলেন দেশম। ‘বিশ্বকাপটা আবার আমাদের এনে দাও। তার জন্যই এসেছি মস্কোয়।’ আর ফাইনালের আগের দিন পগবা-এমবাপেদের বলেছিলেন, ‘রবিবার তোমাদের জীবনটাই বদলে যাবে। মনে রেখো, বিশ্বকাপের এই ফাইনাল ম্যাচটা শেষ হওয়ার পরে সবাই বিজয়ীদেরই মনে রাখবে। পরাজিতদের কেউ মনে রাখে না। কাজেই মাঠে নামতে হবে ম্যাচটা জেতার জন্য। সেভাবেই প্রস্তুতি নাও।’

দেশমের দল মস্কোর ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছিল। দু’বছর আগের ইউরো ফাইনালের পুনরাবৃত্তি হয়নি সে রাতে। হওয়ার কথাও ছিল না। কারণ দেশম ভুল থেকে শিক্ষা নিতে জানেন। নিজের ফুটবল দর্শনের প্রতি অবিচল থাকতে জানেন। এটাই তার বৈশিষ্ট্য। ৫২তম জন্মদিনে তো বটেই আরও বহু জন্মদিনে শুধু এই বৈশিষ্ট্যের জন্যই তিনি অভিনন্দিত হবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত