রাজবাড়ী-২ আসনের এমপি জিল্লুল হাকিম, তার ছেলে আশিক মাহমুদ মিতুল হাকিম নির্যাতন করছে এমন দাবি করে আয়োজিত মানববন্ধনে হামলা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলাকারীদের নিবৃত্ত করতে গিয়ে এক পুলিশ সদস্য ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও মানববন্ধন আয়োজনকারীরা জানান, রাজবাড়ী-২ আসনের এমপি জিল্লুল হাকিমের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করার সময় সেখানে অতর্কিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলার ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে দুর্বৃত্তের ছোড়া ইট-পাটকেলের আঘাতে আশিক পারভেজ নামে এক পুলিশ কনেস্টেবল আহত হন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার শেখ মো. শামীম জানান, রাজবাড়ী-২ আসনের সাংসদ জিল্লুল হাকিমের বিরুদ্ধে মানববন্ধন চলাকালে দুর্বৃত্তরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশ তাদের ঠেকাতে গেলে পুলিশের একজন কনস্টেবলের মাথায় ইট লেগে আহত হন। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। তার মাথায় চারটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ থেকে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
মানববন্ধন আয়োজনকারীদের একজনের নাম হেনা মুন্সী। তিনি সাংবাদিকদের জানান, রাজবাড়ী-২ আসনের সাংসদ জিল্লুল হাকিম ও তার ছেলে আশিক মাহমুদ মিতুল হাকিমের ক্যাডার বাহিনীর হাতে খুন, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অন্তত চারশ মানুষ। এসব ভুক্তভোগী মানুষের অংশগ্রহণে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনের জন্য ব্যানার নিয়ে দাঁড়ানোর পর অজ্ঞাত লোকজন এসে গালমন্দ করতে করতে বলে ওঠেন, এমপি জিল্লুলের বিরুদ্ধে কোন কুত্তার বাচ্চারা মানববন্ধন করে? এমন কথা বলার পরপরই ব্যানার কেড়ে নিয়ে চলে যেতে উদ্যত হয়। এ সময় আমাদের কয়েকজন দৌড়ে তাদের কাছ থেকে ব্যানার নিতে গেলে আরেকটি গ্রুপ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে আমাদের কয়েকজনসহ পুলিশ সদস্যরাও আহত হন। তবে ঘটনাস্থল থেকে আমাদের ভুক্তভোগী দুজনকে আটক করে নিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, এমপি জিল্লুল হাকিম ও তার বাহিনী যে নির্যাতনকারী, এই হামলার মাধ্যমে আবারও প্রমাণ করলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজবাড়ী-২ আসনের এমপি জিল্লুল হাকিমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলে তিনি ধরেননি।
মানববন্ধনে উপস্থিত রাকিব নামে একজন ভুক্তভোগী বলেন, আমার বাড়ি রাজবাড়ী। যুবলীগ নেতা রবিউল ইসলাম হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধনে দাঁড়ানোর পরপরই কিছু লোক এসে হামলা করে ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং ইট-পাটকেল মারা শুরু করে।
এর আগে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে হেনা মুন্সী লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ২০০৮ সাল থেকে একটানা তিন মেয়াদে এমপি জিল্লুল হাকিম সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েও বিএনপি-জামাতের নেতাকর্মী ও রাজাকারদের সন্তানদের আওয়ামী লীগে যোগদান করিয়েছেন। ২০০১ সালের পর এদের হাতেই আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতারা হামলা ও মামলার শিকার হয়ে এলাকা ছেড়েছেন। এসব হাইব্রিড নেতারা জিল্লুল হাকিমের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে আওয়ামী লীগের প্রায় ৩৯ জন নেতাকর্মীকে খুন করেছেন। হামলার শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন শতাধিক মানুষ। এছাড়া সংখ্যালঘু পরিবারের জমিজমা দখল করে নিয়েছে জিল্লুল হাকিমের ছেলে মিতুলের হাতুড়ি বাহিনী। তাদের হামলার মুখে প্রায় দেড়শতাধিক সংখ্যালঘু পরিবার দেশ ছেড়েছেন বলেও সংবাদ সম্মলেনে অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মলনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যসহ রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও কৃষকলীগের একাধিক নেতা।
