নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২০, ১১:৩৯ পিএম

নিয়মিত হাত ধোয়া যথাযথ স্বাস্থ্যবিধির একটি জরুরি অংশ। ২০০৮ সাল থেকে নিয়মিত ১৫ অক্টোবরকে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এ বছর গতকাল (১৫ অক্টোবর) ভিন্ন এক পরিস্থিতিতেই উদযাপিত হয়েছে দিনটি। করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত মহামারী পরিস্থিতিতে কেন হাত ধোয়া জরুরি তা এ বছর অনেকেই বুঝে গিয়েছেন। তবে শুধু করোনাভাইরাসের বিস্তৃতি রোধই নয় জ্বর, ডায়রিয়ার মতো রোগের প্রাদুর্ভাব রোধেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাত ধোয়া কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। অবচেতনভাবে আমরা হাত দিয়ে ক্রমাগত চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করে থাকি। হাত অপরিষ্কার থাকলে এমন স্পর্শের মাধ্যমে দেহের ভেতর জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। তাই কিছু সময় পরপর সাবান-পানিতে হাত পরিষ্কার করলে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের আশঙ্কাসহ নানা ধরনের রোগব্যাধির প্রকোপ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। আর তাই হাত ধোয়া দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘হ্যান্ড হাইজিন ফর অল’।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রদর্শিত নিয়ম মেনে সঠিকভাবে হাত ধোয়া জরুরি। পাঁচটি প্রধান ধাপে হাত ধোয়ার নির্দেশনা রয়েছে। হাত ধোয়ার ক্ষেত্রে কোনোরকম তাড়াহুড়ো করা অনুচিত। এজন্য প্রথমেই দুই হাত কনুই পর্যন্ত পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিতে হবে। এবার হাতে পর্যাপ্ত সাবান লাগাতে হবে। এরপর দুই হাত একসঙ্গে ঘষে ফেনা তৈরি করে এক হাত দিয়ে আরেক হাত ঘষে পরিষ্কার করা উচিত। পাশাপশি দুই আঙুলের মাঝের জায়গাগুলোও ভালোমতো ঘষতে হবে। নখগুলো সাবানের ফেনার সঙ্গে ঘষুন। কিংবা হাতের তালুতেও নখ ঘষতে পারেন। হাতে কোনো আংটি বা অন্যান্য গহনা থাকলে তার ওপর-নিচ ভালো করে ঘষে নিতে হবে। কনুই পর্যন্ত সাবান ব্যবহার করে ঘষে নিতে পারেন। এভাবে ২০ থেকে ৪০ সেকেন্ড পর্যন্ত দুই হাত ঘষে নিন। এবার একটি পাত্রে পানি ঢেলে বা পানির কলের প্রবহমান পানির ধারায় হাত ধুয়ে নিন। সবশেষে একটি পরিষ্কার তোয়ালে বা কাপড়ে হাত মুছে নিন। পানির কল ছেড়ে হাত ধুলে অবশ্যই সেটা বন্ধ করুন। কল বন্ধ করতে সরাসরি হাত ব্যবহার না করে তোয়ালে বা টিস্যুর সাহায্য নিতে পারেন।

হাত ধোয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি পারিবারিক শিক্ষা হিসেবে শিশু বয়সেই শুরু করা উচিত। এতে শিশুরা নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা বা গোসলের মতোই হাত ধোয়াকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মনে করবে। আর শিশু বয়স থেকে শিখে নিলে বড় হয়েও সেটা তাদের মনে স্থায়ীভাবে গেঁথে থাকবে। তবে শিশুদের শেখানোর আগে বিষয়টি মেনে চলতে হবে বড়দেরও। খাবার তৈরি ও পরিবেশনের আগে অবশ্যই হাত ধোয়া উচিত বড়দের। খাবার খেতে বসার সময় হাত ধুয়ে নিতে হবে ছোট-বড় সবার। এ ছাড়া পয়ঃনিষ্কাশন শেষে ভালোমতো সাবান দিয়ে হাত ধোয়া জরুরি। ময়লা জিনিস স্পর্শ করার পর কিংবা হাঁচি বা কাশি দিলেও হাত ধুতে হবে। এই অভ্যাসগুলো যদি নিয়মিত করা যায়, তাহলে শিশুদের মধ্যে সেটা সহজেই অভ্যাসে পরিণত হবে। এছাড়া নিয়ম মেনে হাত না ধোয়ার কারণে যেসব সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ধাকে, জনসাধারণের মাঝে সেসব বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও সচেতনতা কার্যক্রম চালানোর জন্য এগিয়ে আসতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত