সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ২২ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে ছাত্র অধিকার পরিষদের একাংশ। সংগঠনের পুরনো নাম ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’-এর ব্যানারে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নতুন সংগঠকরা বলছেন, নুর-রাশেদদের ‘আর্থিক অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা, সহযোদ্ধাদের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে অবমূল্যায়ন করা এবং সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় এক শিক্ষার্থীর করা ধর্ষণের মামলাকে নোংরা রাজনীতিকীকরণের অপচেষ্টা’র প্রতিবাদে কমিটিতে এই ‘সংস্কার’ করা হয়েছে।
নতুন কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে আছেন এপিএম সুহেল, যিনি একসময় যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। আর সদস্য সচিব করা হয়েছে আগের কমিটির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাইল সম্রাটকে।
১৪ জন যুগ্ম আহ্বায়ক, তিনজন সদস্য, একজন যুগ্ম সচিব এবং দুজন উপদেষ্টা নিয়ে ২২ সদস্যের এই কমিটি ‘আংশিক’ বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
সদস্য সচিব ইসমাইল সম্রাট সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’, যার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল রাজনীতিমুক্ত সামাজিক সংগঠন হিসেবে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করা। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংগঠনের তৃতীয় বার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে অনেকের ‘বিরোধিতার’ মধ্যেও সংগঠনের নাম সংক্ষিপ্ত করা হয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তাড়াহুড়ো করে রাজনীতি করার অভিপ্রায়ে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ, শ্রমিক অধিকার পরিষদ ও প্রবাসী অধিকার পরিষদ নামে তিনটি অঙ্গ সংগঠন তৈরি করা হয়। ছাত্র অধিকার পরিষদের অঙ্গ সংগঠন করার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এখন পর্যন্ত অজানা আমাদের কাছে। এর ফলে সংগঠনের অভ্যন্তরে চাপা ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়। এর বিরোধিতা করে সংগঠনের তৃণমূল থেকে শীর্ষস্থানীয় নেতারা। কিন্তু নুরের একক সিদ্ধান্তে রাজনীতি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা একধরনের স্বৈরতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত এবং সেই সঙ্গে চরম বিরোধ সৃষ্টি করে সংগঠনের অভ্যন্তরে।’
নতুন কমিটির অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের এ সংবাদ সম্মেলনে।
এদিকে নতুন কমিটির সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর বলেন, ‘যারা আজকে কমিটির ঘোষণা দিয়েছে, তারা ছাত্র অধিকার পরিষদের কেউ না। তাদের মধ্যে অনেককেই দেখলাম, যারা ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংগঠন নামে আরেকটি প্ল্যাটফর্মের নেতৃত্বে আছেন। এই কমিটির আহ্বায়ক, যার নাম দেখলাম সুহেল, তাকে সংগঠনবিরোধী কাজ করার দায়ে গত মে মাসে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন যে কেউ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মী হিসেবে দাবি করতেই পারে। দাবি করলেই তা হয়ে যায় না। কোথা থেকে তারা এসেছে তা আমরা বিবেচনাও করছি না।’
ছাত্র অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক ব্যবস্থায় ঈর্ষান্বিত হয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের কার্যকলাপ করানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন নুর।
