যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক ভোটগ্রহণের দিন আসছে ৩ নভেম্বর। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে ইতিমধ্যে অনেকেই ডাকযোগে তাদের ভোট নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বুথেই শুরু হয়েছে আগাম ভোটগ্রহণ। সেখানে গত দুই দিন ধরে যে চিত্র দেখা গেছে তা দেশটির স্মরণকালের ইতিহাসে ঘটেনি বলে জানাচ্ছে বিবিসি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক মানুষ কাকে ভোট দেবেন সে বিষয়ে মনস্থির করে ফেলেছেন। এমনকি তারা ট্রাম্পের বিষয়েও একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছেন বলেই আগাম ভোট।
সংবাদমাধ্যমটি জানাচ্ছে, গত বুধবার পর্যন্ত আগাম ভোট জমা পড়েছে ১৩ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি। ইউএস ইলেকশনস প্রজেক্ট অব ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগাম ভোটের তুলনায় এ বছর ২০ শতাংশ বেশি আগাম ভোট পড়েছে ইতিমধ্যেই।
ইউএস ইলেকশনস প্রজেক্ট অব ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডা জানাচ্ছে মিনেসোটা, সাউথ ডাকোটা, ভারমন্ট, ভার্জিনিয়া ও উইসকনসিন রাজ্যে আগাম ভোটের সংখ্যা ২০১৬ সালকে ছাড়িয়ে গেছে। এদিকে করোনা আবহে ডাকযোগ ছাড়াও বেশ কয়েকটি রাজ্যে সশরীরে ভোটগ্রহণও শুরু হয়ে গেছে। জর্জিয়া ও টেক্সাসে ইতিমধ্যেই ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ করা গেছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে কয়েক হাজার মানুষ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ভোট দিচ্ছেন এই রাজ্যগুলোতে।
বিবিসি বলছে টেক্সাস, জর্জিয়া, উইসকনসিনসহ অনেক রাজ্যেই কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানরা ‘সোলস টু পোলস’ সেøাগান দিয়ে আগাম ভোটকেই উৎসবে রূপান্তর করেছেন। অনেক ভোটার ভোররাত থেকেই দাঁড়াতে শুরু করেন লাইনে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা অপেক্ষার পর ভোট দিতে পেরেছেন। তবে এই অপেক্ষা তাদের কাছে কোনো বিষয়ই নয়।
ওহাইওর এক ভোটার বিবিসিকে বলেন, ভোট দিতে যতটুকু অপেক্ষা করতে হয়েছে কখনো কখনো বাসের জন্যও এর চাইতে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। তবে বড় কথা একটা পরিবর্তন চাই আমরা। সেই জন্য। আগেভাগে ভোটটা নিশ্চিত করে গেলাম।
এদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগাম ভোট দেওয়ার হিড়িক এবার এত বেশি যে মঙ্গলবার মার্কিন নাগরিকরা ভোট দেওয়ার জন্য সাইনআপ করতে গেলে রেজিস্ট্রেশন পোর্টালটি প্রায় তিনবার অচল হয়ে যায়।
ইলেকশন প্রজেক্টের প্রশাসক ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিশেল ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের কারণে নিরাপত্তার জন্য আগাম ও ডাকযোগে ভোট দেওয়ার আগ্রহ বেড়েছে। ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বিবেচনায় নেওয়াও আগাম ভোটে আগ্রহের কারণ বলে জানান তিনি।
ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ভোটের আগে এত বেশি মানুষের ব্যালট পেপারে রায় দিয়ে দেওয়ার ঘটনা আমরা এর আগে দেখিনি। মানুষ মনস্থির করার পরই ব্যালট পেপারে রায় দেন। আমরা বলতে পারি, অনেক মানুষ কাকে ভোট দেবেন সে বিষয়ে মনস্থির করে ফেলেছেন। এমনকি তারা ট্রাম্পের বিষয়েও একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছেন।
আগাম ভোট প্রদানের রেকর্ড দেখে ম্যাকডোনাল্ড মোট ভোট পড়ার হার নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তার মতে, এবার ১৫ কোটি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। এমনটি হলে তা হবে উপযুক্ত ভোটারের ৬৫ শতাংশের ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং ১৯০৮ সালের পর সর্বোচ্চ ভোট কাস্টিং।
আগাম ভোটের এ প্রবণতার মধ্যে জাতীয় জরিপে ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে আছেন প্রতিদ্বন্দ্বী বাইডেন। তবে ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্যগুলোর জরিপ বলছে, রিপাবলিকান ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাট বাইডেনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে আগাম ভোট ও ডাকযোগে ভোট দেওয়ার হার নিয়মিতই বাড়ছে। ২০০৪ সালে আগাম ভোট পড়ার পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৫০ লাখ। ২০১৬ সালে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় ৫ কোটি ৭০ লাখে। ট্রাম্প অবশ্য শুরু থেকেই ডাকযোগে ভোটের বিপক্ষে। তার দাবি, এক্ষেত্রে ভোটের ফল পেতে অনেক দেরি হবে এবং প্রতারণার আশঙ্কা আছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা প্রতারণার ঘটনা বিরল বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্পের দাবি। তার দল আগাম ভোটকেন্দ্র এবং ব্যালট বাক্সগুলোতে অনিয়ম প্রমাণের জন্য নির্বাচন পর্যবেক্ষণে তৈরি করেছে ‘আর্মি ফর ট্রাম্প’। পেনসিলভানিয়া, উইসকনসিন ও ফ্লোরিডার মতো ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্যগুলোতে আগাম ভোট ও ডাকযোগে দেওয়া ভোটে অনিয়ম প্রমাণে তৎপর থাকবে ‘আর্মি ফর ট্রাম্প’।
