বিদেশে পিএইচডির জন্য এই প্রস্তুতিও থাকা চাই

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২০, ০২:৫৩ পিএম

এখন বিদেশে পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদনের জন্য প্রস্তুতির মৌসুম। অনেকেরই হয়তো প্রয়োজনীয় পরীক্ষা যেমন টোফেল বা আইএলটিএস এবং জিআরই বা জিমেটও দেয়া বা প্রস্তুতি শেষ। অনেকেই হয়তো স্টেইটমেন্ট অব পারপাস বা রিসার্চ প্রপোজাল (যেটা প্রজোয্য)  লেখা শুরু করে দিয়েছেন। ইউনিভার্সিটি বাছাই করা শুরু করছেন; দেখছেন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আপনার অনেক বছরের স্বপ্নের গবেষণা করবেন।

এক্ষেত্রে আমরা অনেকেই শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম বা যার অধীনে গবেষণা করব সেই প্রফেসরের সুনামের উপর নির্ভর করে চটজলদি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। প্রফেসর বা প্রতিষ্ঠানের সুনামের পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় আপনার পিএইচডি সময়কালিন প্রোডাক্টিভিটি, কাজের আনন্দ, ভালো থিসিস লেখা এবং পিএইচডি পরবর্তী গবেষণা বা শিক্ষকতা পেশায় বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এখানে সে বিষয়ে উপস্থাপন করা হলো।

রিসার্চ গ্রুপের কাজের ধরন ও সংস্কৃতি

আপনি যদি কোন রিসার্চ গ্রুপের বা ল্যাবের সঙ্গে কাজ করতে যান, আগে দেখে নিন তাদের কাজের ধরন কেমন। তারা কয়দিন কাজ করেন, দিনে কয় ঘন্টা কাজ করেন। তারা নতুনদের কীভাবে শিখান। ভুল-ত্রুটি ও ঝুঁকি নেয়াকে উৎসাহিত করেন নাকি সবাইকে নিখুঁত থাকতে হয়। আরও জেনে নিন কত ঘনঘন কাজের উপর আপনি গ্রুপের/ল্যাবের সিনিয়রদের কাছ থেকে ফিডবেক পেতে পারেন। আরো জেনে নিন পারস্পরিক সামাজিক সম্পর্ক কেমন। আপনি নিজেকে জানুন; আর ভাবুন কোন কাজের ধরন এবং সংস্কৃতিতে আপনার নিজেকে পুরোভাবে মেলে ধরতে পারেন, কঠোর পরিশ্রম করতে পারেন আনন্দের সঙ্গে।

 অ্যাডভাইজারের সুপারভিশানের ধরন কেমন

অ্যাডভাইজার কেমন কাজ করেন তার পাশাপাশি দেখতে হবে তিনি কীভাবে থিসিস সুপারভাইজ করেছেন। বিষয়ভেদে তা একরকম নাও হতে পারে। অনেকে আছেন আপনাকে একেবারে উনার নিজের ছাঁচে কাজ করতে বলবে। আবার অনেকে আপনাকে ইউনিক বিষয়ে গবেষণা করতে বলবে, ঝুঁকি নিতে বলবে। অনেকে আপনাকে ঘন ঘন কাজের হিসেব নেবে, তাগিদ দেবে, আবার অনেকে আপনাকে ইন্ডিপেন্ডেন্টলি বা স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতে বলবে, মাইক্রোমেনেজ করবে না; অনেকদিন পরপর ফিডবেক দেবে। কোন ধরনের সুপারভিশনে আপনি ভালো করবেন তা আপনাকে নিজেকে জিজ্ঞেস করতে হবে।

প্রফেসরদের মধ্যে কেমন সম্পর্ক

বুঝতে হবে আপনার পিএইচডি দেয় একটা কমিটি। যাতে থাকতে পারে বেশ কয়েকজন প্রফেসর। দেখা উচিত প্রফেসরদের পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন। তাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ইন্টেলেকচুয়াল ইন্টারেকশান কিন্তু একটা এফেক্টিভ ডিপার্টমেন্টের লক্ষণ।

ফান্ডিং আসলে কতো

আপনাকে কি চুক্তিতে ফান্ডিং দেয়া হতে পারে তা দেখে নিন। স্বাস্থ্য বীমা কি এতে অন্তর্ভুক্ত না কি নিজেকে বহন করতে হবে, হলে তা বছরে কতো বাজেট করে নিন। কোনো টিউশান ফি ফান্ডিং কাভার করলেও জেনে নিন কোনো ‘হিডেন’ একটিভিটি ফি আপনাকে দিতে হবে কিনা। জানুন ট্যাক্স কাটার পর আপনার ফান্ডিং হাতে কত আসবে।

ফান্ডিংয়ের শর্ত কী কী

টিচিং অ্যাসিস্টেন্ট শিপ হলে জেনে নিন আসলে কতো ঘন্টা সময় দিতে হবে, কোন ধরনের কোর্স পাঠদান করতে হবে। সামারেও পড়াতে হবে কিনা। যদি রিসার্চ অ্যাসিস্টেন্ট শিপ হয় জানুন আপনি সহ-লেখক হিসেবে ক্রেডিট পাবেন কিনা। কো-অথরড লেখা কি আপনার থিসিসে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে, নাকি আপনাকে নিজের গবেষণাও আলাদাভাবে চালাতে হবে।

কী কী কোর্স প্রয়োজনীয় এবং পাশ করতে হবে

জেনে নিন কী কী কোর্স আপনার গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় এবং কী কী কোর্স আপনাকে বাধ্যতামুলকভাবে পাশ করতে হবে। আপনার প্রয়োজনীয় কোর্স কি নিয়মিত পড়ানো হয়, নাকি অনেক বছর পর পড়ানো হয়।

পড়াশোনার বাইরের জীবন কেমন

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি শহরে নাকি গ্রাম এলাকায় অবস্থিত। জনবসতি কেমন? খেলাধুলা, শরীরচর্চা, প্রকৃতি উপভোগ, জলবায়ু (ঠান্ডা বা গরম) এগুলো বিবেচনা করে দেখুন। আপনার সবসময় ভাল সময় যাবে না গবেষণায়। পিএইচডি সাধারণত ৪ থেকে ৮ বছরও লেগে যেতে পারে গবেষণার ক্ষেত্র বিশেষে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এর আশেপাশের এলাকাকে আপনি ‘হোম এওয়ে ফ্রম হোম’ ভাবতে পারবে কিনা তা চিন্তা করে দেখবেন।

ছুটি বিষয়ক

ছুটি ছাটা কেমন প্রতিবছর তা জেনে নিন। তবে যা লিখিত ছুটি তা আদতে নাও থাকতে পারে। সবাই যদি ছুটির দিনে আনঅফিশিয়ালে কাজ আসে কিন্তু আপনি না আসেন তাহলে আপনি আলাদাভাবে চিহ্নিত হতে পারেন।

স্বাস্থ্য বিষয়ক

কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গেলে কী ব্যবস্থা নেয়া হয় জেনে নিন। আপনি সবসময় শারীরিক এবং মানসিকভাবে সুস্থ নাও থাকতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার প্রতিষ্ঠান কীভাবে সহায়তা করে তা জেনে নিন।

বৈচিত্র্য কেমন

আপনার প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে আপনার প্রোগ্রাম কীভাবে ‘ডাইভারসিটি এবং ইঙ্কলুশান’ নিয়ে কাজ করে দেখে নিন। বিভিন্ন জাত, বর্ণ, গোত্র, জেন্ডারের লোকজন আছে কিনা জেনে নিন। বিদেশ বলে কথা।

অন্যান্য সাহায্য

জেনে নিন কনফারেন্স গ্রান্ট, অতিরিক্ত রিসার্চ গ্রান্ট এসব থাকে কিনা। আপনাকে যদি দূরে ফিল্ড ভিজিট করে গবেষণা করতে হয়ে, জেনে নিন কোন ট্রাভেল গ্রান্টের সুযোগ আছে কিনা।

এখন কথা হচ্ছে এসব তথ্য কোথা থেকে পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে অনেক কিছুই পাবেন। তবে আর কিছু প্রাইমারি তথ্য আপনি পেতে পারেন বর্তমান এবং সাবেক ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে।

লিংকডইনে পিপল এবং প্রতিষ্ঠান এই দুই ফিল্টার ব্যবহার করে আপনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। ইনফরমেশানাল ইন্টারভিউ চেয়ে লিংকডইন বা অন্য পেশাদারী প্লাটফর্ম থেকে তাদের মেসেজ পাঠাতে পারেন;  ই-মেইল জানলে সরাসরি ই-মেইল করেও ইনফরমেশনাল ইন্টারভিউ করতে পারেন। একটু কৌশলী হয়ে প্রশ্ন করে জেনে নিতে পারেন আপনার প্রয়োজনীয় প্রশ্নের সব উত্তর।

লেখক: পিএইচডি গবেষক, সমাজবিজ্ঞান, কর্নেল ইউনিভার্সিটি, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত