প্রচারে এসেই আলোচনা তোলে দীপ্ত টিভি। অনুষ্ঠান বিন্যাসে ছিল ঢাকাই অন্যান্য চ্যানেল থেকে বৈচিত্র্য। ডেইলি সোপের নতুন ফরম্যাটের সঙ্গে বাংলা ডাব সিরিয়ালের নতুন জোয়ার। বিশেষ করে চ্যানেলটি তুর্কি সিরিয়ালকে পৌঁছে দিয়েছে বাংলাদেশে ঘরে ঘরে। আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে ঢের। তবে নগদ মিলেছে টিআরপি।
দীপ্ত টিভিতে বর্তমানে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ও রাত ৯টায় প্রচার হচ্ছে তুর্কি সিরিয়াল ‘বাহার’। এক নারীর জীবনসংগ্রাম এই নাটকের মূল উপজীব্য। মূলত তুরস্কের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এটি নির্মিত হয়েছে।
সিরিয়ালটির বিভিন্ন চরিত্রে কণ্ঠ দিচ্ছেন মেরিনা মিতু, শফিকুল ইসলাম, আলবিনো জর্জ পাইক, আনিরা মিশেল রিভা, নাদিয়া ইকবাল, জয়শ্রী মজুমদার লতা, অশোক বসাক, সাকি ফারজানা, নিগার সুলতানা মিমি, ইন্দ্রাণী ঘটক, নাহিদ আখতার ইমু ও পর্ণা মিটিল্ডা কস্তা। দেশ রূপান্তরকে তারা জানিয়েছেন ভিন্নধর্মী এই কাজের অভিজ্ঞতা।
মিতুর কথা
মাগুরার মেয়ে মেরিনা মিতু। জন্ম ও বেড়ে ওঠা মাগুরায়। ইডেন মহিলা কলেজ থেকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স করেছেন। ২০০৬ সাল থেকে অভিনয়ে পথচলা। দীপ্ত’র জন্মলগ্ন থেকেই সঙ্গে আছেন, বর্তমানে অ্যাসিস্ট্যান্ট ভয়েস ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত। এই চ্যানেলের প্রচারিত প্রায় সব ডাবিং ধারাবাহিকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে কণ্ঠে দিচ্ছেন। বাহারে আছেন ভূমিকায়।
মিতু বলেন, “অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতের আগ্রহ রয়েছে। যেহেতু ক্যারিয়ার হিসেবে ডাবিং শিল্পকেই বেছে নিয়েছি। তাই এই শিল্পের পরিসর আরও বৃদ্ধি পাক এই শুভকামনা সব সময় থাকবে।”
যা বলছেন শফিকুল
সার্প চরিত্রে কণ্ঠাভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “বাহার আমার অন্যতম ভালোবাসার জায়গা, যেখানে কাজ করতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেছি। দর্শকের ভালোবাসাই আমার একমাত্র প্রাপ্তি।”
আলবিনোর ব্যস্ততা
যশোর জেলার ওয়াপদা এলাকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা আলবিনো জর্জ পাইকের। শখ ছবি আঁকা, গান শোনা। কখনো থিয়েটার করা হয়নি, তবে কণ্ঠাভিনয় ও সংগীত পরিচালনায় দক্ষতা আছে। সেই সঙ্গে একজন পেশাদার গায়ক ও সংগীত আয়োজক। সুলতান সুলেমান থেকে কোসেম সুলতান, ফাতমাগুল, এইজেলের পর এখন ‘বাহার’ সিরিয়ালে আরিফ চরিত্রে কণ্ঠ দিচ্ছেন আলবিনো।

ছোট্ট রিভা
ছোট্ট দোরুকের ভূমিকায় কণ্ঠ দিয়েছে ১১ বছর বয়সী আনিরা মিশেল রিভা। বর্তমানে সাউথ পয়েন্ট স্কুলের বনানী শাখায় গ্রেড ফোরে পড়ছে এই কণ্ঠাভিনেতা। এর আগে গ্রামীণফোনসহ বেশি বিজ্ঞাপনে তাকে শোনা গেছে, অভিনয় করেছে হরলিকসের বিজ্ঞাপনে।
নাদিয়ার নতুন পরিচয়
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন নাদিয়া ইকবাল। ডাবিংয়ে হাতেখড়ি শৈশবে। ইরানি চলচ্চিত্র ও কার্টুন সিরিজে বাচ্চাদের কণ্ঠ দেওয়া শুরু বাবার হাত ধরে। তখন থেকেই ডাবিং শিল্পের প্রতি ভালোবাসার জন্ম। আইন বিষয়ে পড়াশোনা-প্র্যাকটিসও তাকে ডাবিং থেকে দূরে রাখতে পারিনি।
নাদিয়া বলেন, “২০০৯ সাল থেকে আমি নাট্যকেন্দ্র থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত আছি। ২০১৬ সালে দীপ্ত টিভিতে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আমার অভিষেক ঘটে। দীপ্ত টিভিতে প্রচার হওয়া সকল প্রায় সব সিরিয়ালে কণ্ঠ দিয়েছি। এই সব চরিত্রের মাধ্যমেই দর্শকদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে গড়ে উঠেছে আমার এ নতুন পরিচয়ে, কণ্ঠ অভিনয়শিল্পী।”
বাহারে দ্বৈত কণ্ঠে লতা
ইডেন মহিলা কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স জয়শ্রী মজুমদার লতার। ২০০৯ সালে ঢাকা থিয়েটারে যোগ দেন। মঞ্চে অভিনয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ বেতারে নির্বাচিত ভয়েস অ্যাক্টর হিসেবেও কণ্ঠ দেন। ২০১৪ সালে দীপ্ত টিভিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে সুলতান সুলেমানে কাজ করেন।
জয়শ্রী বলেন, “সুলতান সুলেমানে নিগার কালফা, আরমিন, সাদিকা ও হুরিজিহান চরিত্রে কণ্ঠ দেই। এ ছাড়া ফাতমাগুলে এবেনিনে, কোসেমে আনাস্তাসিয়া, এইজেলে এয়শান এবং বাহারে উমরান ও বেরশানের কণ্ঠ দিচ্ছি।”
আছেন অশোকও
অভিনেতা হিসেবে মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে সমান পদচারণা অশোক বসাকের। তিনি বলেন, “পাঁচ বছর ধরে নিয়মিত ডাবিং আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করছি। দীপ্ত টিভি’সহ বেশ কয়েকটি ডাবিং স্টুডিওতে কাজ করছি। বাহার সিরিয়ালে এনভার সারিকিদি চরিত্রে কণ্ঠদান করেছি।”
চরিত্রের দ্বন্দ্বে মুগ্ধ সাকি
বাহার সিরিজে হাতিজে চরিত্রে কণ্ঠাভিনয় করেছেন সাকি ফারজানা। তিনি বলেন, “হাতিজে চরিত্রটিতে কণ্ঠ দেওয়ার কাজটা আমার জন্য খুবই এনজয়েবল ছিল। এমন একটি চরিত্র যে ঠিক শক্ত কোনো ব্যক্তিত্ব না। নিজের ছোট মেয়ের বেলায় বাড়াবাড়ি ভালোবাসা তার, আবার বাহারের বেলায় খুবই দ্বান্দ্বিক। জীবনের তিক্ত না পাওয়াগুলোর চাপে সে কখনো অসাধারণ মা হয়ে উঠতে পারে না, না পারার কষ্ট আবার তাকেই পোড়ায়। হাতিজে কমপ্লিট নেগেটিভ চরিত্র নয়, আবার কমপ্লিট পজিটিভও না। চরিত্রের এই কন্ট্রাডিকশন আমি এনজয় করেছি কণ্ঠ দিতে গিয়ে।”
চ্যালেঞ্জ নিলেন মিমি
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন নিগার সুলতানা মিমি। তিনি বলেন, “বাহারে শিরিন চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছি। এর আগে কখনো এত বড় চরিত্রে কণ্ঠ দেওয়া হয়নি। শিরিন একটি নেগেটিভ চরিত্র, যা ধারণ করা আমার জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। এ ছাড়া ভালোবাসি অভিনয়, গান করতে আর অবসরে বই পড়তে।”
জেইদাকে ভালোবেসে ফেললেন ইন্দ্রাণী
মঞ্চ, টেলিভিশন, চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি নিয়মিত কণ্ঠাভিনয় করছেন ইন্দ্রাণী ঘটক। তিনি জেইদা চরিত্রে কণ্ঠ দিচ্ছেন। বলেন, “জেইদা চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে সব সময়ই মনে হয়েছে চরিত্রটি আমাদের। দেশ, জাতি, সমাজের ঊর্ধ্বে গিয়ে জেইদাকে বারবার একজন আত্মপ্রত্যয়ী সংগ্রামী নারী ও একজন বিবেকবান মমতাময়ী মা হিসেবে আবিষ্কার করেছি। আমি এই ভালোবাসা থেকেই চরিত্রটিতে কণ্ঠদান করতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়েছি।”

দীপ্ত’র অধিকাংশ প্রোমোতে ইমু
২০১৪ সাল থেকে দীপ্ত টিভির সঙ্গে আছেন নাহিদ আখতার ইমু। ইডেন মহিলা কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। পাশাপাশি বৈকৃন্ঠ আবৃত্তি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মঞ্চে কাজ করেছেন তিরন্দাজ রেপার্টরির সঙ্গে।
ইমু বলেন, “দীপ্ত টিভিতে শুরুটা করেছিলাম কণ্ঠাভিনয় শিল্পী হিসেবে সেই ধারাবাহিকতায় আজ আমি দীপ্ত টিভির প্রোগ্রামের ডাবিং ডিপার্টমেন্টের ভয়েস ডিরেক্টর। ভয়েসের কাজটা আমি করি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও প্রচণ্ড মমতা নিয়ে। প্রতিটি চরিত্র ভালোবেসে ধারণ করি নিজের ভেতর। বাহার ধারাবাহিকে জালে চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছি। জালে খুব বাস্তববাদী চরিত্র এবং নিজের কাজ প্রতি আন্তরিক। দীপ্ত টিভির অধিকাংশ প্রোমো ভয়েস আমার কণ্ঠে প্রচারিত হয়ে আসছে।”
পর্ণার নতুন অভিজ্ঞতা
তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন পর্ণা মিটিল্ডা কস্তা। তিনি বলেন, “আমার প্রথম ডাবিং শুরু হয় দীপ্ত টেলিভিশন থেকে। এখানেই আমার শেখা আমার পথ চলা শুরু। আমি বাহার সিরিজে ইয়েলিজ উনসালের কণ্ঠ দিয়েছি। একেবারেই নতুন একটা অভিজ্ঞতা। আমার থেকে পুরোই আলাদা একটা মানুষের চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছি। ইয়েলিজ আসলে খুব পরিপূরক একটা চরিত্র। সব সময় বাহারের সুখে-দুঃখের ভাগীদার। বাহারের সঙ্গে থেকে তার নিজের জীবনযাপন পাল্টানো সবকিছুতেই আসলে একটা নতুনত্ব পেয়েছি।”
