চাহিদা অনুযায়ী যৌতুক না পাওয়ায় মেহেরপুরের গাংনীতে এক গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার রাতের কোনো একসময় বামন্দি পশ্চিমপাড়ায় ওই দম্পতির ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। পরে গতকাল শুক্রবার সকালে মেহেরপুর সদর হাসপাতাল থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত রুবিনা খাতুন (২৬) বামন্দি পশ্চিমপাড়া এলাকার মিলন হোসেনের স্ত্রী। এ দম্পতির মনিকা নামে দুই বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। মিলন বেসরকারি সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশনে মাঠ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তিনি মেহেরপুর সদর উপজেলার উজলপুর গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে। নিহত রুবিনা একই উপজেলার টেংগারমাঠ গ্রামের প্রয়াত রবগুল হোসেনের মেয়ে। তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়।
এদিকে ঘটনার পর গতকাল সকাল থেকে নিহত রুবিনার স্বামী মিলন এবং শাশুড়ি সিফারা খাতুনসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক।
রুবিনার নানি পারুলী বেগম বলেন, রুবিনা ছোটবেলা থেকে তার কাছেই বড় হয়েছে। তিন বছর আগে মিলনের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তাকে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দেওয়া হয়। এরপর ১ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে প্রায়ই রুবিনাকে নির্যাতন করা হতো। পরে তাদের পরিবারের পক্ষে যৌতুকের ওই টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে মিলনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর গতকাল ভোরে তারা রুবিনার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে হাসপাতাল মর্গে তার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা।
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হাবিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, গতকাল সকাল ৬টার দিকে একজন লোক দগ্ধ এক নারীকে নিয়ে হাসপাতালে এলে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর পরপরই মৃত ওই নারীকে নিয়ে আসা পুরুষ হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। ওই চিকিৎসক বলেন, ‘দগ্ধ ওই নারীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে অথবা গরম পানি ঢেলে মেরে ফেলা হয়েছে। দগ্ধ হয়ে তার পুরো শরীর ঝলসে গেছে।’
মেহেরপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিহত নারীর পুরো শরীরের চামড়া পুড়ে মরদেহ বিকৃত হয়ে গেছে। কীভাবে ও কেন তাকে এভাবে হত্যা করা হলো তা তদন্তে এবং ময়নাতদন্ত রিপোর্টে জানা যাবে।’ নিহতের পলাতক স্বামী মিলনকে ধরতে পুলিশ মেহেরপুর সদর ও গাংনী থানা এলাকার একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়েছে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
