করোনায় ১৩০ বছর পর হচ্ছে না তিরোধান উৎসব

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ০১:৩৬ এএম

করোনা পরিস্থিতিতে মরমি সাধক লালন সাঁইয়ের তিরোধান স্মরণ উৎসব স্থগিত করা হয়েছে। ১৩০ বছরের মধ্যে এবার ১ কার্তিক তিরোধান দিবস পালনে ছেদ পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার ভক্ত-অনুসারীরা। জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি ও লালন অ্যাকাডেমি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে স্থগিত করা হয় দিবসটি। এমন সিদ্ধান্ত জেনেও দিবসটি স্মরণে সাধু-গুরু-ভক্ত-অনুসারীরা এসেছেন সাঁইজির তীর্থধামে।

লালন অ্যাকাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক বলেছেন, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে স্থগিত করা হয়েছে তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান।

লালন অনুসারী হৃদয় শাহ বলেন, আজ শনিবার ১ কার্তিক। লালন শাহের ১৩০তম তিরোধান দিবস। দিবসটি ঘিরে প্রতি বছরই দূর-দূরান্ত থেকে সাঁইজির অনুষ্ঠানে আসেন ভক্তরা। আধ্যাত্মিক গুরু-ফকির লালনকে স্মরণ এবং তার দর্শন থেকে সাঁইজির ধামে আসা ভক্তরা ভাবের আদান-প্রদানের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি ও মুক্তির স্বাদ খুঁজে ফেরেন। কিন্তু ফকির লালন শাহের ১৩০তম তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান স্থগিত করায় চরম হতাশ ভক্তরা। এরপরও বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন লালন ভক্তরা।

নওগাঁ থেকে আসা লালন ভক্ত সুজাউদ্দৌলা বলেন, শত সহস্র বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করেই তারা নিজেদের ঘরানায় সাধু কর্মের মাধ্যমে স্মরণ করবেন সাঁইজিকে। প্রতি বছরই এ দিনটিতে আমরা এখানে আসি সাঁইজিকে স্মরণ করতে। আমাদের ধর্মনীতি আমাদের মতো করে পালন করতে দেওয়া হোক। না হলে অধর্ম হবে। করোনার কারণে মেলা না হোক, লালনের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতেই হবে। তাই অতিদ্রুত লালন মাজারের প্রধান গেটের তালা খোলাসহ সাধুদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবি করছি।

লালন অ্যাকাডেমির সদস্য সেলিক হক বলেন, ১২৯৭ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক মরমি সাধক বাউলসম্রাট ফকির লালন শাহের  ওফাত লাভের পর থেকে তার স্মরণে প্রতি বছরই তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান চলে আসছে। এখানে আসা ভক্ত-অনুসারীরাই মূলত এসব আয়োজনের মূল প্রাণ। এ উপলক্ষে আখড়াবাড়ি চত্বরে কালী নদীর তীরের মাঠে লালন মেলারও আয়োজন করা হয়। আর আখড়াবাড়ির ভেতরে ও বাইরে লালন অনুসারী, ভক্তদের খ- খ- সাধু আস্তানায় গুরু-শিষ্যের মধ্যে চলে সাঁইজির জীবন-কর্ম নিয়ে আলোচনা ও তার গান। একইভাবে রাতে লালন মঞ্চে চলত সাঁইজির বাণী দর্শনের আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কিন্তু এ বছর করোনার প্রভাবে সাঁইজির তীর্থধাম কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে বিরাজ করছে শূন্যতা।

লালন অ্যাকাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে আসা বাউল ও ভক্তরা একসঙ্গে হলে সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। সে কারণে সার্বিক বিবেচনায় জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি ও লালন অ্যাকাডেমি কর্তৃপক্ষের সুপারিশ ছাড়াও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে স্থগিত করা হয়েছে ফকির লালন শাহের ১৩০তম তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত