ঢামেকে মৃত ঘোষণা দাফনে কেঁদে উঠল নবজাতক

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ০১:৪০ এএম

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণার পর দাফন করার ঠিক আগমুহূর্তে কেঁদে উঠে জীবনের জানান দিয়েছে এক নবজাতক। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে এমন ঘটনার পর ওই নবজাতককে ফের ঢামেক হাসপাতালে ফিরিয়ে এনে সেখানকার নবজাতক বিভাগে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় নবজাতকটির স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এটাকে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা বলে মনে করছেন তারা। এ বিষয়ে হাসপাতালের স্ত্রী রোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের চিকিৎসকরা স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। তবে হাসপাতালের পরিচালক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে।

নবজাতকের স্বজনরা জানান, ৬ মাস ১৬ দিনের অন্তঃসত্ত্বা শাহিনুর বেগমকে গত বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করেন তার স্বামী বাসচালক ইয়াসিন। হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করার পর সেখানকার চিকিৎসকরা শাহিনুর বেগমকে দেখেন এবং জানান, তার রক্তচাপ অনেক বেশি। বাচ্চা প্রসব না করা পর্যন্ত তার রক্তচাপ কমবে না। চিকিৎসকদের কথায় সম্মতি দেওয়ার পর বুধবার রাতেই শাহিনুর বেগমকে লেবার রুমে নিয়ে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করা হয়। ডেলিভারি না হওয়ায় তাকে ১১০ নম্বর ওয়ার্ডে রাখা হয়। সেখানে ডাক্তাররা দুদিন চেষ্টার পর গতকাল ভোরে তার আবার ব্যথা শুরু হয়। এরপর পৌনে ৫টার দিকে শাহিনুর বেগমের এক মেয়ে বাচ্চা হয়। তবে চিকিৎসকরা জানান বাচ্চাটি মৃত অবস্থায় হয়েছে। এরপর হাসপাতালের আয়া বাচ্চাটিকে কাপড়ে মুড়িয়ে কাগজের কার্টনে করে বেডের নিচে ফ্লোরে রেখে দেন এবং কোথাও নিয়ে দাফন করার জন্য বলেন। এরপর সকাল ৮টার দিকে মৃত নবজাতককে নিয়ে তার বাবা আজিমপুর কবরস্থানে নিয়ে যান। সেখানে ১৫০০ টাকা সরকারি ফি দিতে না পারায় দাফনের জন্য রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে নিয়ে যান। সেখানে ৫০০ টাকা ফি ও কিছু বকশিশ দেওয়ার পর মৃত নবজাতকটির জন্য কবর খোঁড়া শুরু হয়। কবর খোঁড়া প্রায় শেষ পর্যায়ে তখন কান্নাকাটির শব্দ শুনতে পান নবজাতকের স্বজনরা। তারা আশপাশে কোথাও কিছু দেখতে না পেয়ে পাশে রাখা নবজাতকটির দিকে খেয়াল করেন। এরপর প্যাকেট খুলে দেখতে পান বাচ্চাটি নড়াচড়া করছে ও কান্নাকাটি করছে। এরপরই তাকে দ্রুত আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে এবং তাকে চিকিৎসকরা দেখে পরে নবজাতক বিভাগে ভর্তি করেন। এটি ইয়াসিন দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান। তাদের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মালঙ্গা গ্রামে। তুরাগ ধউর নিসাতনগর এলাকায় থাকেন তারা।

নবজাতকের বাবা মো. ইয়াসিন গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাচ্চা হাসপাতালের এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন বাচ্চা ভালো আছে।’

এ বিষয়ে চিকিৎসকের অবহেলা আছে কি না জানতে ঢামেক হাসপাতালের স্ত্রী রোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নিলুফা সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি দুদিনের ছুটিতে আছি। নবজাতকটির বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালক আমাকে জানিয়েছেন। আমি আমার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জকে নবজাতকের বিষয়ে জানিয়েছি। তারা সবকিছু দেখছেন।’

বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ অধ্যাপক ডা. শিখা গাঙ্গুলীকে ফোন করলে তার বাসার অন্য একজন ফোন রিসিভ করেন। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘ম্যাডামের মা অসুস্থ, এখন কথা বলতে পারবেন না।’

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘নবজাতকটি জীবিত আছে, ভালো আছে, তাকে ভর্তি রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বিভাগীয় প্রধানকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি করা হবে। কী কারণে এমনটা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত