ইয়াবা তৈরির মূল উপাদান এমফিটামিনের চালান জব্দের পর এবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৈরি পোশাকের একটি চালান থেকে ধরা পড়েছে ৩৯ হাজার ইয়াবা। গত বৃহস্পতিবার রাতে বিমানবন্দরের রপ্তানি কার্গো হাউজে কর্তব্যরত এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্স (এভসেক) সদস্যরা গার্মেন্টস পণ্যের কার্টনে লুকিয়ে রাখা বিপুলসংখ্যক এই ইয়াবার চালানটি জব্দ করেন। সাউদিয়া কার্গো এয়ারের একটি ফ্লাইটে চালানটি যাচ্ছিল সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে। ইয়াবার এই চালান পাচারচেষ্টায় জড়িত সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএস তৌহিদ উল আহসান গতকাল শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে ইয়াবার চালান উদ্ধারের বিষয়ে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, সৌদিগামী তৈরি পোশাকের চালানের ৩টি কার্টন থেকে ৩৮ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। মোট ৪০০ কার্টনে ওই রপ্তানি পণ্যের চালানটি রাখা ছিল। কর্তব্যরত এভসেক সদস্য কামরুল হাসান ও আরিফ আহমদের সন্দেহ হলে তারা একটি কার্টন খুলে তার মধ্যে সুকৌশলে ছোট ছোট প্যাকেটে রাখা ইয়াবা দেখতে পান। পরে সব কার্টন খুলে তারা দেখতে পান বিপুলসংখ্যক ইয়াবা। তাৎক্ষণিক খবর দেওয়া হয় কাস্টমস ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের। তাদের উপস্থিতিতে পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এভসেক পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন ওবায়দুর রহমান, উপপরিচালক বেনী মাধব বিশ্বাস এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এসএম রাব্বানী ও জ্যোতি মুকুল চাকমা।
জানা গেছে, জব্দ করা ইয়াবার বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। বিল অব এক্সপোর্ট অনুযায়ী রপ্তানি পণ্যের ওই চালানের রপ্তানিকারক এমএস সিয়াম অ্যান্ড সমি এন্টারপ্রাইজ এবং ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে খিলগাঁও পশ্চিমপাড়া। আর আমদানিকারক হিসেবে লেখা রয়েছে সৌদি আরবের অ্যাপারিজ ইন্টারন্যাশনাল ইস্ট, যেখানে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে রিয়াদের আল ওয়াজির ট্রেডিং সেন্টার। সাউদিয়া এয়ারের কার্গো ফ্লাইটে চালানটি পাঠানো সম্ভব হলে সেটা রিয়াদেই গ্রহণ করা হতো।
কার্গো পরিবহনকারী হিসেবে সাউদিয়া এবং রপ্তানিকারক হিসেবে এমএস সিয়াম অ্যান্ড সমি এন্টারপ্রাইজের দায় কতটুকু এমন প্রশ্নের উত্তরে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এস এইচ তৌহিদ উল আহসান বলেন, ‘এ নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করা যাবে না। মাদক বিভাগ তদন্ত করার পর জানা যাবে কার কতটুকু দায়।’
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ থেকে রপ্তানি পণ্যের একটি চালান থেকে ইয়াবা তৈরির মূল উপাদান ১২ কেজি ৩২০ গ্রাম এমফিটামিন উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
