দুই শিশুসহ দম্পতিকে গলা কেটে হত্যা

নিহত শাহিনূরের ভাই রাহানূর গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ০১:৪১ এএম

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় দুই সন্তানসহ স্বামী-স্ত্রী খুনের ঘটনায় নিহত শাহিনূরের ছোট ভাই রাহানূরকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরিবারের চারজনকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর গতকাল শুক্রবার তাকে আদালতে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এর আগে চারজনকে হত্যার ঘটনায় কলারোয়া থানায় মামলা করেন নিহত শাহিনূরের শাশুড়ি কলারোয়ার ওফাপুর গ্রামের রাশেদ গাজীর স্ত্রী ময়না বেগম। মামলায় তিনি কারও নাম উল্লেখ না করে বলেন, কে বা কারা ওই চারজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে।

গত বৃহস্পতিবার ভোরে কলারোয়ার হেলাতলা ইউনিয়নের খলিসা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মাছের হ্যাচারি মালিক শাহিনূর, তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন, ছেলে সিয়াম হোসেন মাহী ও মেয়ে তাসনিম সুলতানার গলাকাটা লাশ উদ্ধার হয়। সেদিনই রাহানূরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সিআইডি কর্মকর্তারা।

কলারোয়া থানার ওসি হারান চন্দ্র পাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চারজনকে হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেওয়া হয়েছে। এরপরও যেকোনো প্রয়োজনে কলারোয়া থানা পুলিশ অপরাধীদের চিহ্নিত করতে ও মাঠতদন্তে সবরকম সহায়তা দেবে।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম জানান, রাহানূরকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর তাকে গতকাল দুপুরে সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। আগামীকাল রবিবার রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব কুমার রায়।

বেঁচে যাওয়া মারিয়ার ভরণপোষণের দায়িত্ব নিলেন জেলা প্রশাসক : চারজনকে হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ঘাতকদের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া পরিবারটির একমাত্র সদস্য চার মাসের শিশু মারিয়া সুলতানার দায়িত্বভার নিয়েছেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল। তিনি ওই শিশুর চিকিৎসা ও বেড়ে ওঠার সব ব্যয়ভার বহন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। শিশুটি বর্তমানে হেলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য নাসিমা খাতুনের হেফাজতে রয়েছে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ঘটনাস্থল শাহিনূরের বাড়িতে এখনো কৌতূহলী মানুষের ভিড় কমেনি। সাতক্ষীরা-যশোর সড়কের ধারের পুরো বাড়ি ও পাড়াজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আর হত্যার কারণ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে চারদিকে। স্থানীয় হেলাতলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শাহিনূর ও রাহানূরের সঙ্গে স্থানীয় এক মাদক কারবারির দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ বিষয় নিয়েও কথা উঠছে চারদিকে।’

আবার অনেকে দুই ভাইয়ের মধ্যে কোনো বিবাদ নিয়েও এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে মনে করছেন। তবে নিহত শাহিনূরের মা সাহিদা ও বোন আছিরা বেগম জানান, প্রতিবেশী আকবর নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে তারা মনে করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত