লপবুরিতে মানুষ আর বানরের সহাবস্থান

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ০৪:১২ এএম

থাইল্যান্ডের শহর লপবুরি। হাজার বছর আগে ঘন জঙ্গল ছিল পুরো এলাকাটি। সেখানে ছিল অসংখ্য বানরের বসবাস। কালক্রমে এখানে শহর প্রতিষ্ঠিত হয়ে বন-জঙ্গল উজাড় হলেও রয়ে গেছে বানরের পাল। লপবুরিতে বানর আর মানুষের অম্ল-মধুর সম্পর্ক ও সহাবস্থান নিয়ে লিখেছেন পরাগ মাঝি

শহরের প্রধান আকর্ষণ

শহর ছোট হলেও পর্যটক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু থাইল্যান্ডের লপবুরি। চলমান মহামারীর জন্য শহরটিতে এখন পর্যটক সমাগম খুব কম। তবে, আশপাশের শহর থেকে কিছুসংখ্যক দর্শনার্থী প্রায় প্রতিদিনই জড়ো হয় সেখানে। জড়ো হওয়া এসব মানুষের প্রধান আকর্ষণ হলো বানর। শহর জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি ম্যাকাকু প্রজাতির বানর। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ফ্রা প্রেং স্যাম ইয়ড মন্দির সর্বত্র এরা বিচরণ করে। খেমার আমলের ফ্রা প্রেং স্যাম ইয়ড মন্দিরটি দখল করে আছে বানরদের বড় একটি অংশ।

শহরের উচ্ছিষ্ট খাবার তো আছেই; লপবুরিতে বাস করা বানরদের খাবারের একটি বড় অংশ আসে পর্যটকদের কাছ থেকেই। শহরটিতে ঘুরতে যাওয়া পর্যটক যেসব ফল, শস্যদানা ও বাদাম কিনে সেগুলোর দিকে তাক করা থাকে বানরদের লোভাতুর চোখ। এগুলোই তাদের প্রিয় খাবার। এ ছাড়া মিষ্টিজাতীয় পানীয় পেলে তারা সব ভুলে যেতে রাজি।

লপবুরিতে বাস করা ম্যাকাকু বানরদের ধৈর্য বলে কিছু নেই। এদের অনেকেই পর্যটকদের ওপর গিয়ে হামলে পড়ে। কোনোটি আবার মানুষের গায়ের ওপর লাফিয়ে পড়ে হাতের ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দৌড়ে পালায়। পর্যটকদের ব্যাগ চুরি করতেও এরা সিদ্ধহস্ত। তাদের দিকে কেউ খাবার ছিটিয়ে দিলে নিজেদের ভাগ বুঝে পেতে এরা এমন হুড়োহুড়ি শুরু করে যে, পরিবেশটাই বিগড়ে দেয়।

গত মাসেই ব্যাংকক থেকে এক দর্শনার্থী ঘুরতে গিয়েছিলেন লপবুরিতে। কিন্তু বানরের পেছনে পেছনে তাকে অন্তত ঘণ্টাখানেক দৌড়াতে হয়েছে। কারণ এক বানর তার প্রিয় রোদ চশমাটি নিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছিল। পরে অবশ্য চশমাটিকে অকাজের ভেবে ফেলে যায় দুষ্টু বানরটি।

বানরদের কাছ থেকে পর্যটকরা এ ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হলেও শহরের ব্যবসায়ীরা আবার কিছু কৌশল অবলম্বন করে তাদের দূরে রাখতে সক্ষম হন। মন্দিরের কাছাকাছি ফল ব্যবসায়ীদের একজন বলেন, আমরা আমাদের কাজকর্ম খুব স্বাভাবিকভাবেই চালিয়ে যাই। আর কখনো যদি দেখি কোনো বানর দোকানের ফল চুরি করতে এসেছে, তবে তার দিকে গুলতি তাক করি। গুলতি তাক করা মাত্রই এরা দৌড়ে পালায়। এই অস্ত্রটিকে লপবুরির বানররা এতটাই ভয় পায় যে, গুলি করারও প্রয়োজন পড়ে না, শুধু গুলি করার ভণিতা করলেই হয়।

বানর এলো কীভাবে

শহরের ফ্রা প্রেং স্যাম ইয়ড মন্দিরটি স্থাপন করা হয় ৮০০ বছরেরও বেশি সময় আগে। ঘন জঙ্গলের মধ্যে মন্দিরটি স্থাপন করা হয়। খেমার স্থাপত্যরীতিতে বানানো এ মন্দিরটি প্রাথমিক অবস্থায় একটি হিন্দু উপাসনালয় ছিল। পরে এটিকে বৌদ্ধমন্দিরে রূপান্তর করা হয়।

ফ্রা প্রেং স্যাম ইয়ড মন্দিরকে ঘিরে একসময় শহর গড়ে উঠতে থাকে। ফলে শহর ও লোকবসতির চাপে বন-জঙ্গল সব উজাড় হয়ে গেলেও বনের বানররা শহরেই থেকে যায়। শহরের বাসিন্দারাও বানরের বসতিকে খুব স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়েছে। বিশ্বাস করা হয় ম্যাকাকু প্রজাতির বানররা হিন্দু দেবতা হনুমানের প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে লপবুরির বানরগুলোকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবেই বিবেচনা করে অনেকে। তবে, আজকাল অনেকেই বানরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হওয়ার অভিযোগও করছেন।

লপবুরি শহরের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বানরের মিশে যাওয়াই শুধু নয়, এদের উপস্থিতির জন্য শহরটি এখন পৃথিবীর অন্যতম পর্যটন স্পট। কিন্তু শহরের মানুষ আর বানরের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকায় বানরদের উপস্থিতি দিনে দিনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

থাইল্যান্ডের ‘ন্যাশনাল পার্ক অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ’-এর আঞ্চলিক পরিচালক নারংপর্ন ডুডেম সিএনএনকে জানান, লপবুরিতে বসবাস করা বানরের প্রকৃত সংখ্যা জানার জন্য তারা ২০১৮ সাল থেকে একটি জরিপ প্রক্রিয়া চালু রেখেছেন। জরিপ অনুযায়ী, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাইল্যান্ডের পুরো লপবুরি প্রদেশে ৯ হাজার ৫৪টি বানর রয়েছে। এর মধ্যে প্রদেশের নামেই নামকরণ করা রাজধানী লপবুরি শহরে রয়েছে অন্তত ৪ হাজার ৬৩৫টি বানর।

নারংপর্ন বলেন, ‘লপবুরিতে বানরের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। বানরের এই সংখ্যাবৃদ্ধি শহরের নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে অনেকাংশেই ব্যাহত করছে।’

লপবুরির বানরদের বিরুদ্ধে এখন অনেকেই অভিযোগ করছেন। বাড়িঘরে হামলা কিংবা খাবার চুরি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে মালামাল চুরির পাশাপাশি এরা বিনা নোটিসে সবকিছু ওলট-পালট ও নষ্ট করে দিয়ে যাচ্ছে।

নারংপর্ন আরও বলেন, লপবুরির বাসিন্দারা সুপেয় পানি হিসেবে কখনো বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করতে পারে না। কারণ তাদের বাড়ির ছাদ কিংবা চালাগুলো সব সময় বানরের মলে পরিপূর্ণ হয়ে থাকে। অনেকের ফসলও নষ্ট করে দেয় এরা।

করোনাভাইরাসের প্রভাব

করোনাভাইরাসের প্রভাবে লপবুরির বানর সমস্যা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। মহামারীর কারণে থাইল্যান্ডে বিদেশি পর্যটকদের প্রবেশ দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ ছিল। ফলে সব সময় পর্যটক সমাগমে চঞ্চল লপবুরি যেন হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে যায়। পর্যটকদের দেওয়া খাবারের ওপর নির্ভরশীল শহরের বানররা এতে বিপাকে পড়েছে। খাদ্য সংকটে পড়েছে তারা। এতে স্থানীয়দের ওপর তাদের অত্যাচারও বাড়তে শুরু করেছে।

শুধু তা-ই নয়, এর আগে যা কখনোই দেখা যায়নি, এমন একটি ঘটনারও জন্ম দিয়েছে লপবুরির বানররা। জানা গেছে, গত মার্চের শেষদিকে লকডাউন চলার সময় বানরদের দুটি বিরোধী পক্ষের মধ্যে বিবাদ ও দাঙ্গা শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, লপবুরির রাজপথে নেমে আসে দুই পক্ষ। শুরু হয় মুখোমুখি লড়াই। এর মধ্যে একটি পক্ষ ছিল, যারা ফ্রা প্রেং স্যাম ইয়ড মন্দির ও এর আশপাশে থাকে। অন্য পক্ষটি শহরের ফ্রা ক্যান নামে আরেকটি মন্দিরকেন্দ্রিক হলেও এরা সারা শহরেই ঘুরে বেড়ায়। ওই লড়াইয়ের একটি ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হলে সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

লপবুরির ‘মাঙ্কি ফাউন্ডেশন’-এর সেক্রেটারি মনাস উইমুক্তিপান জানান, শহরে বানরদের তিনটি বড় দল রয়েছে। এই দলগুলো শহরের তিনটি দিক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। আধিপত্য বজায় রাখতে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এদের ছোট ছোট কিছু উপদলও রয়েছে। দখলে রাখা এলাকাগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে এরা মরিয়া। ঠিক এই ব্যাপারটিই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল গত মার্চের ঘটনায়।

বানরদের লড়াইয়ের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, সেদিন স্থানীয় এক দর্শনার্থী মিষ্টি দুগ্ধজাতীয় একটি পানীয় নিয়ে এগিয়ে আসছিলেন। তিন পক্ষের বানরই সেখানে উপস্থিত ছিল। প্রত্যেক পক্ষই পানীয়টি নিজেদের দখলে চাইছিল। কারণ এমনিতেই খাবারের সংকট তার ওপর ওই পানীয়টি সবারই খুব প্রিয়। শেষ পর্যন্ত একপক্ষ এর দাবি ছেড়ে দিলেও দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে কোনো বানর মারা না গেলেও কয়েকটি মারাত্মক আহত হয়।

তবে, এ ধরনের মিষ্টিপানীয় ও তৈলাক্ত খাবার সামগ্রিক সমস্যাকে আরও অনেকাংশেই বাড়িয়ে তুলছে বলে মনে করে লপবুরি শহর কর্তৃপক্ষ। পর্যটকরাই শুধু বানরদের এ ধরনের খাবার সরবরাহ করে তা কিন্তু নয়। শহরের বিভিন্ন দোকান ও হোটেলের উচ্ছিষ্ট এবং ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়েও তারা এ ধরনের খাবার খেতে পারে। মনাস উইমুক্তিপান বলেন, ‘বানররা মানুষের খাবারে আসক্ত হয়ে পড়েছে, কারণ মানুষের খাবার খুব সুস্বাদু।’

তৈলাক্ত, উচ্চ শর্করাযুক্ত কিংবা মিষ্টিজাতীয় খাবার ও পানীয় বানরদের প্রজনন ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলছে। ফলে শহরে বানরের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। শহর কর্র্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে পর্যটক ও স্থানীয়দের নিয়মিত সতর্ক করলেও পরিস্থিতিকে সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। থাইল্যান্ডের ‘ন্যাশনাল পার্ক অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ’-এর আঞ্চলিক পরিচালক নারংপর্ন বলেন, ‘স্বাভাবিক বন্য জীবনে প্রকৃতি থেকে বানররা খুব সীমিত খাবার সংগ্রহ করতে পারে। আর এই খাবার খেয়ে তারা বছরে বড়জোর একবার সন্তান প্রসব করে। কিন্তু শহরের বানরদের খাবারের অভাব হয় না। উচ্চ শর্করাযুক্ত এসব খাবার খেয়ে তারা বছরে একাধিকবারও সন্তান প্রসব করতে সক্ষম।’

লপবুরি শহরে বানরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কর্র্তৃপক্ষ কয়েক বছর ধরে একটি বিকল্প প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আসছে। এই প্রক্রিয়ায় বানরদের ধরে ধরে প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে দেওয়া হয়। নারংপর্ন জানান, চলতি বছরেই তারা রেকর্ড ১ হাজার ২০০টি বানরকে নির্বীজন করে দিয়েছেন, যেখানে প্রতি বছর গড়ে ৪০০টি বানরকে নির্বীজন করা হয়। তবে এই কাজ করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ বহুবার বানর ও পশুপ্রেমীদের প্রতিরোধের শিকার হয়েছে।

নারংপর্ন বলেন, ‘লপবুরির অনেকেই চান শহর থেকে বানরদের চিরতরে বিদায় করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সমস্যা হলো তাদের কোথায় স্থানান্তর করা হবে? কে তাদের দেখাশোনা করবে? অন্য জায়গায় গিয়ে তারা যদি অনাহারে মরতে থাকে, তবে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়বে। তাই এদের শহর থেকে সরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো এক বাড়ির ময়লা-আবর্জনা অন্য বাড়ির সীমানায় নিয়ে ফেলা।’

তবে নারংপর্ন মনে করেন, এ অবস্থাটি অনেকাংশেই পরিবর্তিত হচ্ছে। সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে টেকসই প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য পর্যটন করপোরেশনসহ স্থানীয়দের কাছ থেকে তারা যথেষ্ট সহযোগিতা পাচ্ছেন। বানররা লপবুরির বাসিন্দাদের ওপর নানা অত্যাচার করলেও এরা এখনো শহরের প্রধান আকর্ষণ।

থাইল্যান্ডে কয়েক সপ্তাহ ধরে কভিড-১৯ মহামারীর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকার ফলে আগামী ২৯ নভেম্বর লপবুরি শহরের ফ্রা প্রেং স্যাম ইয়ড মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে বানরের বার্ষিক ভোজ উৎসব। এই উৎসবের অংশ হিসেবে মন্দির ও শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বানরদের প্রচুর খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ করে দর্শনার্থীরা। এই উৎসবে স্থানীয়দের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যটকদেরও ব্যাপক সমাগম ঘটে।

সহাবস্থান ও সৌহার্দ্য

অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও লপবুরি শহরের অসংখ্য বাসিন্দা মনে করেন বানরের সঙ্গে সহাবস্থান কঠিন কিছু নয়। ফ্রা প্রেং স্যাম ইয়ড মন্দিরের উল্টোপাশে অটোপার্টসের একটি দোকান রয়েছে। এই দোকানের কর্মচারীদের সবাই বানরের সহাবস্থানে দারুণভাবে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। তারা বানরদের সঙ্গে মানুষের মতো ব্যবহার করছেন।

সিএনএন ট্রাভেলের একটি দল ওই দোকানের ভেতর প্রবেশ করে দেখতে পায়, বেশ কয়েকটি বানর দোকানের ভেতরেই বিভিন্ন প্রান্তে শুয়ে-বসে সময় কাটাচ্ছে। ছোট্ট একটি বানর কাউন্টারের পাশেই লাল একটি কাপড়ের ওপর শুয়ে ঘুমাচ্ছে। দোকানের মালিক পথিতপন তান্তিবংয়ের বয়স ৬৩। লপবুরি শহরেই তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। শহরের বানরদের জন্য তার খুবই মায়া হয়। তাদের দুরবস্থা দেখলে ব্যথিত হয়ে ওঠেন তিনি। তার পরিবারের উদ্যোগে প্রতিদিনই বানরদের মধ্যে খাদ্য বিলি করা হয়। তবে, তারা সাধারণত দুর্বল ও ছোট বানরদেরই খাবার দেন। কারণ দুর্বল হওয়ার কারণে এদের প্রায়ই মূল দল থেকে বিতাড়িত করা হয়।

পথিতপন বলেন, ‘আমরাই তাদের বাসস্থান দখল করে ফেলেছি। তাই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। জন্মের পর থেকেই আমি এখানে বাস করছি। বাড়ির অন্দরমহল থেকে তাদের দূরে রাখতে আমিও বেশ কিছু কৌশল অনুসরণ করি। তবে, তাদের সঙ্গে বসবাসে দিনকে দিন অভ্যস্ত হয়ে গেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘খাবারের জন্য তারা প্রায়ই দিশেহারা হয়ে যায়। এখানে এখন পর্যাপ্ত গাছ নেই, পানীয় উৎসও নেই। তাই বানরদের জীবনমান এখানে খুবই করুণ। আমরা যতটুকু পারছি, সাহায্য করছি।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার মধ্যেই পথিতপনের দোকানের সামনে এক কাণ্ড ঘটে গেল। ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে থাকা একটি পিকআপে গিয়ে হামলে পড়ল এক পাল বানর। পিকআপের ওপরে থাকা কয়েকটি রান্নার বাসন ও কনটেইনারের মধ্যে তন্ন তন্ন করে খাবার খুঁজতে শুরু করে তারা। ট্রাকের চালক ও সহকারী বের হয়ে তাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে কিন্তু বানরের দল যেন নির্বিকার। পথিতপন হেসে বলেন, ‘তারা সম্ভবত অন্য এলাকার। আশপাশের ট্রাকচালক হলে বানরদের সহজেই পাশ কাটিয়ে যেতে পারত।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত