পুঁজিবাজারে বীমা খাতের বিশেষ করে সাধারণ বীমা কোম্পানির আধিপত্য গত কয়েক মাস ধরেই রয়েছে। তুলনামূলক স্বল্প মূলধনী এই খাতটির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতার কারণে পুরো পুঁজিবাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে, যার প্রভাব পড়ছে লেনদেনে। টানা বৃদ্ধির পর হঠাৎ করেই গত সপ্তাহে বীমা খাতে সংশোধন দেখা দিলে দর ও লেনদেন দুটিই কমে যায়। এর ফলে ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন কমে গেছে ২৭ শতাংশ। গড় লেনদেন এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৯২১ কোটি থেকে কমে ৬৭১ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় নেমেছে।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কমিশন আয় বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে চার মাসে দ্বিগুণ মূলধন বৃদ্ধির পর সাধারণ বীমা খাতে কিছুটা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর ফলে অনেকেই বীমা খাত নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ট্রেজারি বন্ড ছাড়া ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) যে বাজার মূলধন তার মাত্র ২ দশমিক ২ শতাংশ হচ্ছে সাধারণ বীমা খাতের। অথচ ডিএসইর মোট লেনদেনের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আসছে সাধারণ বীমা খাত থেকে।
গত সপ্তাহে খাতটির অধিকাংশ কোম্পানি থেকে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মুনাফা তুলে নেওয়ায় দর ও লেনদেনে প্রভাব পড়ে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে সাধারণ বীমা খাতের গড় লেনদেন হয় ২১৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ২৪ শতাংশ কম। মুনাফা তুলে নেওয়ার চাপে খাতটির বাজার মূলধনও কমেছে। গত সপ্তাহে একটি ব্রোকারেজ হাউজ বীমা খাতে মার্জিন ঋণ বন্ধ করে দেওয়ায় এক দিনে প্রায় ৯ শতাংশ দরপতন হয়। যদিও পরদিন কিছুটা দর পুনরুদ্ধার হয়। তবে সপ্তাহ শেষে সাধারণ বীমা খাত প্রায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ দর হারায়। আগের সপ্তাহে খাতটির দর গড়ে সাড়ে ৫ শতাংশ বেড়েছিল।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছর বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা খাতটির এজেন্ট কমিশন বেঁধে দেওয়ার পাশাপাশি জবাবদিহি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বীমা, শস্য বীমা, পোশাকশিল্প শ্রমিকদের বীমার আওতায় আনাসহ বিভিন্ন উদ্যোগে বীমা শিল্পের বাজার বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। এতে করে বীমা খাতের শেয়ার দরে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। বাজার কারসাজিকারকদের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশই বীমা খাতের শেয়ারে জড়িয়ে পড়েন। ফলে কোনো কোনো সাধারণ বীমা কোম্পানির শেয়ার দর তিন থেকে পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেড়ে অতিমূল্যায়িত হয়ে পড়ে। ফলে ঝুঁকিও বেড়ে গেছে।
এদিকে গত সপ্তাহে বীমা খাতের পাশাপাশি অন্য খাতের শেয়ার দর ও লেনদেন কমছে। এ সময় বস্ত্র, এনবিএফআই, সেবা ও নির্মাণ, ব্যাংক ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতের লেনদেন সবচেয়ে বেশি কমেছে। বিপরীতে একমাত্র টেলিকম খাতে লেনদেন ৭৮ শতাংশ বেড়েছে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ৩৫৯টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দর কমেছে ২৬২টির, বেড়েছে ৬৮টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ২৯টির। অধিকাংশ সিকিউরিটিজের দর কমে যাওয়ায় ডিএসইর প্রধান সূচকটির আগের সপ্তাহের চেয়ে ৪৪ পয়েন্ট হারিয়ে ৪৮৭২ পয়েন্টে নেমেছে। আগের সপ্তাহেও সূচকটি ৭৮ পয়েন্ট হারিয়েছিল। গত সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
গত সপ্তাহের অস্থিরতায় সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে মিউচুয়াল ফান্ড। এ খাতটি ৭ দশমিক ১ শতাংশ বাজার মূলধন হারিয়েছে। দর হারানোর পরবর্তী তালিকায় রয়েছে সাধারণ বীমা খাত। এ ছাড়া এনবিএফআই, সেবা ও নির্মাণ খাতও ৪ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে।
সূচকে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রাখা ব্যাংক খাত হারিয়েছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ দর। এর বাইরে জীবন বীমা, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি খাত উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দর হারিয়েছে। বিপরীতে টেলিকম খাতে ৪ শতাংশ বাজার মূলধন বেড়েছে।
গত সপ্তাহে শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হচ্ছে বিএফআইসি, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড, ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, পিএইচপি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স, নিটল ইন্স্যুরেন্স, এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড, ইবিএল মিউচুয়াল ফান্ড ও নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্স।
