তিন মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানির চিত্র

চ্যালেঞ্জে নতুন বাজারে রপ্তানি

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২০, ১২:১০ এএম

চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আয় করতে পারেনি। এর মধ্যে মার্চ থেকে দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় তৈরি পোশাক রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে যায়। তবে লকডাউন-পরবর্তী সময়ে নতুন অর্থবছরে রপ্তানিতে গতি ফিরে পায়। কিন্তু আমেরিকা ও ইউরোপের মতো পুরনো বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি ভালো করলেও নতুন বাজারে এখনো কাক্সিক্ষত মাত্রায় অগ্রগতি হচ্ছে না। বড় অর্থনীতির পুরনো বাজারগুলোতে রপ্তানি আয় কিছুটা বাড়লেও নতুনবাজারে উল্টো কমছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে সবচেয়ে বেশি হারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। ইউরোপের ২৭টি দেশে সম্মিলিতভাবে বেড়েছে ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ, কানাডায় ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ। কিন্তু এর বাইরের দেশগুলোতে রপ্তানি বাড়েনি; বরং কমেছে ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা বলছেন, পুরনো বাজারের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো অপেক্ষাকৃত বড় অর্থনীতির দেশ। করোনার আঘাত দ্রুত কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতা রয়েছে তাদের। এ জন্য করোনার প্রকোপ কিছুটা কমতে থাকায় এবং ওই সব দেশে সরকারের সহযোগিতায় বাজারে অর্থের প্রবাহ বেড়েছে। ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ায় তারা অন্যান্য পণ্যের মতো পোশাকও ক্রয় করছে। কিন্তু নতুন বাজারের দেশগুলোর বেশিরভাগই অর্থনৈতিকভাবে ইউরোপ, আমেরিকার দেশগুলোর চেয়ে পিছিয়ে। তাদের বাজারে অর্থের সরবরাহ অপেক্ষাকৃত কম থাকায় এর নেতিবাচক প্রভাব বাজারে। আবার নতুন বাজারে অনলাইনভিত্তিক ক্রয়-বিক্রয়ও ইউরোপ, আমেরিকার মতো এত শক্তিশালী নয়।

নতুন বাজারের তালিকায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, চিলি, চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, তুরস্কসহ আরও কিছু দেশ। এসব দেশে আগে থেকেই খুব বেশি রপ্তানি ছিল না। রপ্তানি বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে এসব দেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকার নগদ সহায়তা দিয়ে আসছে কয়েক বছর থেকে। ফলে দেশগুলোতে গত কয়েক বছরে রপ্তানি বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে পুরনো বাজারের মতো নতুন বাজারের বেশিরভাগ দেশেই রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যায়নি।

নতুন বাজারের এ দেশগুলোতে গত তিন মাসে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ১২৫ কোটি ডলারের পোশাক। আগের অর্থবছরের একই সময়ের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৩৬ কোটি ডলারের। এ ছাড়া গত তিন মাসে ইউরোপের দেশগুলোতে পোশাক পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫০৩ কোটি ডলারের, আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৪৯৫ কোটি ডলারের। এ ছাড়া গত তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে ১৫৮ কোটি ডলারের, আগের অর্থবছরের তিন মাসে এর পরিমাণ ছিল ১৪৯ কোটি ডলারের।

গত তিন মাসে চীনে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩৪ দশমিক ৩৫, ভারতে কমেছে প্রায় ৪৪, জাপানে প্রায় ১১, ব্রাজিলে ২৭ ও চিলিতে ১৮ শতাংশ। অবশ্য একই সময়ে রপ্তানি বেড়েছে অস্ট্রেলিয়ায় ৮, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৯, রাশিয়ায় ৪২, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৪ ও তুরস্কে ৪৮ শতাংশ। এর বাইরে অন্যান্য দেশে সম্মিলিতভাবে কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ।

রাজধানীর মিরপুর এলাকার অ্যাডামস অ্যাপারেলস নতুন বাজারের কয়েকটি দেশে পোশাক রপ্তানি করে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদুল হক মুকুল তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএরও পরিচালক। তিনি বলেন, ব্রাজিলে তার ৭৭ হাজার পিসের একটি চালান রপ্তানির কথা থাকলেও পরে দেশটিতে করোনা হানা দেওয়ায় শুরুতে ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ক্রয়াদেশ স্থগিত করে। এরপর মাত্র ১৩ হাজার পিস রপ্তানি করতে পেরেছেন। অবশ্য আগামী মাসগুলোতে জাপানের বাজারে রপ্তানি বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত