প্রতিদিন পানিতে ডুবে মারা যায় ৩২ শিশু

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২০, ০২:২৭ এএম

প্রতিবছর সারাদেশে ১২ হাজার শিশুর মৃত্যু হয় পানিতে ডুবে, প্রতিদিন গড়ে মারা যায় ৩২ জন। এদের মধ্যে এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশের সাতটি উপজেলায় চালানো এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। 

ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিসের সহায়তায় আমেরিকার জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়, সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) এবং আইসিডিডিআর,বির উদ্যোগে রায়গঞ্জ, মনোহরদী, শেরপুর, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর ও দাউদকান্দিতে এই গবেষণা পরিচালিত হয়।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সিআইপিআরবি'র ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আমিনুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিনার্গোসের (বাংলাদেশ) পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ম্যানেজার ওবায়দুল ফাত্তাহ তানভীর।

আমিনুর রহমান বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হারে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশে প্রতি বছর ১২ হাজার শিশু মারা যায় পানিতে ডুবে। দিনে মারা যায় ৩২ জন, যাদের বয়স এক থেকে চার বছর। যদিও এ বিষয়টি উপেক্ষিত। মা যখন রান্না, কাপড় ধোয়া, পরিবারের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তখন এ দুর্ঘটনা ঘটে বেশি। সকাল থেকে দুপুর ১টার মধ্যে এ সময়ে বাড়ির পাশের পুকুর, খালে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। 

তিনি আরও বলেন, গবেষণার অংশ হিসেবে ৫৫ হাজার ৭৯০টি শিশুবেষ্টনী (প্লে-পেন) এবং ৩ হাজার ২০৫টি ডে-কেয়ার সেন্টার (‘আঁচল’) ৭ উপজেলার ৫১টি ইউনিয়নে স্থাপন করা হয়। গবেষণার ২ বছর ধরে প্রায় ১২ লাখ জনগোষ্ঠীর দুর্ঘটনাজনিত আঘাত বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে ১ বছর থেকে ৪ বছর বয়সী ১ লাখ ২২ হাজার ২৩ শিশু অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ গবেষণার ৭০ হাজার শিশুকে ডে-কেয়ার সেন্টার ও শিশুবেষ্টনী বা উভয় কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

আমিনুর রহমান জানান, শিশুর প্রতি সার্বক্ষণিক নজরদারি বৃদ্ধি, ডে কেয়ার সেন্টার, শিশু বেষ্টনি বাড়ানো হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে সিআইপিআরবি।

তিনি বলেন, আমরা ডে কেয়ার সেন্টার করে সুফল পেয়েছি। এ ক্ষেত্রে সরকার উদ্যোগ নিলে মৃত্যু হার কমানো সম্ভব হবে। পানিতে ডুবে মৃত্যু রোধে পরিবারের অন্যান্যদেরও সচেতন হতে হবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত