সরকারিভাবে কোনো শিল্পীর মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের প্রথম উদ্যোগ

আইয়ুব বাচ্চুর ২৭২টি গান সংরক্ষণ করছে সরকার

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২০, ০১:৪৮ এএম

ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চুর ২৭২টি গান সরকারি ব্যবস্থাপনায় সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় ‘রক আইকন আইয়ুব বাচ্চুর সংগীত জীবনের মেধাস্বত্ব নিশ্চিতকরণ এবং ডিজিটাল আর্কাইভিং’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এবি কিচেন নামে একটি ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করেন।

কপিরাইট অফিস জানিয়েছে, সরকারিভাবে কোনো শিল্পীর মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় ডিজিটাল আর্কাইভিংয়ের এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশে এই প্রথম। শিল্পীদের মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম ই-কপিরাইট আবেদনকারী আইয়ুব বাচ্চু। নিবন্ধনের দুই বছরের মাথায় ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর প্রয়াত হন আইয়ুব বাচ্চু। মৃত্যুর আগে নিজের গানগুলোর কপিরাইট করেছিলেন তিনি। জীবিত থাকা অবস্থায় তার ২৭টি অ্যালবাম কপিরাইট করে গেছেন তিনি, যার মধ্যে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ গানের গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী তিনি। সেসবের ২৭২টি গান সরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। গানের পাশাপাশি তার জীবনের নানা ঘটনা, বায়োগ্রাফিও স্থান পেয়েছে এই ওয়েবসাইটে। সাইটের উন্নয়নে কাজ করেছেন আইয়ুব বাচ্চুর একজন ভক্ত।

গতকাল আইয়ুব বাচ্চুর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে ওয়েবসাইট উদ্বোধন করে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আইয়ুব বাচ্চু এ দেশের রক গানের নন্দিত শিল্পী। তার গানগুলো সংরক্ষণের মাধ্যমে কপিরাইট স্বত্ব নিশ্চিত করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে আইয়ুব বাচ্চুর গানগুলো সংরক্ষিত হবে এবং আরও বেশি ছড়িয়ে যাবে।’

আইয়ুব বাচ্চুর মেয়ে ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমাদের পরিবার থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে একটি প্রত্যাশার কথা বলছি, যদি একটি সংগীত জাদুঘর করা যেত। যেখানে প্রয়াত বরেণ্য সংগীত ব্যক্তিত্বদের বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র সংরক্ষিত থাকবে। সেখানে গিয়ে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে, একজন শিল্পীর জার্নিটা কেমন ছিল। এরকম কিছু করা যায় কি না সেটাও ভাবা যেতে পারে।’

কপিরাইট অফিসের রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য দুটি। এক, দেশের একজন কিংবদন্তি শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তার স্মৃতি রক্ষার জন্য ডিজিটাল আর্কাইভিং করা। দুই, এটা দেখে অন্য শিল্পীরাও যাতে অনুপ্রাণিত হন এবং সংগীতাঙ্গনে যে নৈরাজ্য চলছে, ডিজিটাল মাধ্যমে বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো অন্যদের গান ব্যবহার করছে, ব্যবসা করছে এটাকে নিয়মের মধ্যে আনা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত