নড়াইলে কনা বিশ্বাস (২১) নামে অপহৃত এক কলেজছাত্রীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান কমপ্লেক্সের পাশ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার হাত-পা ও মুখ বাঁধা ছিল। কনা সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী।
এ ঘটনায় গতকাল রবিবার তার বাবা কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ি ইউনিয়নের আরাজি বাঁশগ্রামের পুস্পেন বিশ্বাস বাদী হয়ে সদর থানায় অপহরণ মামলা করেছেন। এদিকে রবিবার সকাল ১০টার দিকে নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কনার জ্ঞান ফিরলেও তিনি স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলতে পারছেন না।
কনার বাবা পুস্পেন বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো শনিবার সকাল ৮টার দিকে বাড়ি থেকে ভিক্টোরিয়া কলেজের হোস্টেলের পাশে কোচিং করতে যায় কনা। বেলা সাড়ে ৯টার দিকে কথা হলে তাকে একটি নতুন সিম কিনতে বলি। এরপর আর কথা হয়নি। দুপুরে বাড়িতে না আসায় কনাকে ফোন করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ওর নতুন মোবাইল নম্বর থেকে (০১৬০৮-৪৭৬৪৬০) আমার কাছে ফোন আসে। তখন বলা হয় মেয়েকে পেতে ৫ লাখ টাকা লাগবে। তখন আমি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করি। সন্ধ্যার পর মহিলা কণ্ঠে কনার পুরনো নম্বর থেকে আমাকে ফোন করে বলা হয়- সুলতান কমপ্লেক্সের পাশ থেকে আপনার মেয়েকে নিয়ে যান। পুলিশ রাত সাড়ে ৯টার দিকে কনাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।’
পুস্পেন আরও বলেন, ‘কনার জ্ঞান ফেরার পর সে বলেছে- শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রূপগঞ্জ নিশিনাথতলা থেকে বাড়ি যাওয়ার জন্য ভ্যানে ওঠে। পরে মাছিমদিয়া সুলতান সেতুর কাছে গেলে একজন মুখে রুমাল ধরলে তার আর কিছু মনে নেই।’ সদর হাসপাতালের আরএমও মশিউর রহমান বাবু বলেন, ‘কনার জ্ঞান ফিরেছে। তার সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্ট পেতে দু-একদিন সময় লাগবে।’
নড়াইল সদর থানার ওসি ইলিয়াছ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় কলেজছাত্রীর বাবা অজ্ঞাতদের আসামি করে অপহরণ মামলা করেছেন। কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। কনার মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিং করে আসামিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
