নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিএনপির কর্মসূচিতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুর্বৃত্তরা হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলার রূপসীর খন্দকারবাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরাই এ হামলা চালিয়েছে। এ সময় প্যান্ডেল, চেয়ার ও বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, গণমাধ্যমকর্মীসহ অন্তত ৩৪ জন আহত হয়েছেন।
বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানান, গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রূপসী খন্দকারবাড়ির সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা ও তার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। বিকেল ৫টার দিকে মাহমুদুর রহমান মান্নার বক্তব্য চলাকালে ৩০-৪০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা সভাস্থলের প্যান্ডেল, চেয়ার ভাঙচুর করে। এ সময় মান্না, তৈমুরকন্যা মারিয়াম খন্দকারের গাড়িসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে তারা। হামলায় তৈমুর আলম, মান্না, যুবদল নেতা আশরাফুল আলম রিপন, আনোয়ার সাদাত সায়েম, তারিকুল ইসলাম বিপুলসহ অন্তত ৩৪ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দৈনিক করতোয়ার রূপগঞ্জ প্রতিনিধি মঞ্জুরুল কবির বাবু, কেটিভির রূপগঞ্জ প্রতিনিধি শাকিল আহম্মেদও আহত হন।
তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, ‘স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। আমি ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ ৩৪ জন আহত হয়েছি।’
তৈমুর আলমের এই অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করেছেন থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিকদার। তিনি বলেন, ‘তারাব পৌর ছাত্রলীগের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে যতটুকু জানতে পেরেছি বিএনপি একটি প্রোগ্রাম করছে। এটা জেনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে যায়। পরে নাকি সভা আর হয়নি।’
রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা কোনো অনুমতি না নিয়ে সভা করেছে। তবে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
নারায়ণগঞ্জ (গ সার্কেল) এএসপি মাহিন ফরাজী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী তাদের ব্যারিকেড দিয়েছিল। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে তারা চলে যায়।’
