ঘরের বাইরে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২০, ০২:৫৬ এএম

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে ঘরের বাইরে সবার মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক পদক্ষেপের সঙ্গে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন প্রয়োগ করতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে মাস্ক ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয় বলে বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয় থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন।

সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমরা দেখছি ইউরোপ-আমেরিকায় আবার করোনাভাইরাসের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। সে জন্য প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে নজর দিয়েছেন, সবাই যাতে কেয়ারফুল থাকি, সবাই যেন মাস্ক ইউজ করি। মাস্ক যদি আমরা সবাই ব্যবহার করি, তাহলে অটোমেটিক আমাদের ইনফেকটেড হওয়ার আশঙ্কা কমে আসে। এ জন্য মানুষকে আরও বেশি করে সচেতন করতে হবে, অনেকের মধ্যে একটু শিথিলভাব দেখা যাচ্ছে।’

পাবলিক প্লেসে কোনোভাবেই মাস্ক ছাড়া যাওয়া যাবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মসজিদ, জনসমাগম স্থল বা সামনে দুর্গাপূজা আসছে, সেসব জায়গায় কোনোভাবেই কেউ যেন মাস্ক ছাড়া না যান, তা নিশ্চিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা আশা প্রকাশ করেছে, সবাই সচেতন হয়ে মাস্ক ব্যবহারে আরেকটু বেশি মনোযোগী হবেন, তাহলে অটোমেটিক্যালি আমরা এটা থেকে একটু রিলিফ পাব। মন্ত্রিসভার নির্দেশনা হচ্ছে, সবাই যেন মাস্ক ব্যবহার করি।’

গত রবিবার বিভাগীয় কমিশনারদের সম্মেলন ছিল জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সেখানে আমরা ক্লিয়ার ইনস্ট্রাকশন দিয়ে দিয়েছি। মোবাইল কোর্ট ব্যবহারের নির্দেশনা কমিশনারদের দেওয়া হয়েছে। যেভাবে যতটুকু সম্ভব মানুষকে সব জায়গায় রিকোয়েস্ট করে, মোটিভেট করে বা ফোর্স করে যদি করতে হয়, আইন প্রয়োগ করতে হলে আইনও প্রয়োগ করবে, অসুবিধা নেই।’

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার কমেছে : করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে মন্ত্রিসভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১২ শতাংশ কমেছে। গতকাল মন্ত্রিসভা বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে ২০২০ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গতকাল ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হারের প্রতিবেদনও উপস্থাপন করা হয়।

গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে মন্ত্রিসভা বৈঠক ও গৃহীত সিদ্ধান্তের সংখ্যা ২০১৯ থেকে ২০২০ সালে তুলনামূলক বেড়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের বিরূপ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিদ্যমান অগ্রগতির হার ৪৬ শতাংশ। এর আগের বছর একই সময়ে এই হার ছিল ৫৮ শতাংশ।’

তিনি বলেন, ‘এ বছর মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা ধীর হলেও মন্ত্রিসভা সন্তোষ প্রকাশ করেছে। বাস্তব অবস্থা তো সবাই বুঝতে পেরেছে। নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কভিড-১৯-এর জন্য যে ব্যাকলক ছিল, সেটা যেন খুব কুইকলি (দ্রুত) আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে রিকভার করতে পারি।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, গত বছর জানুয়ারি থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় ৪২৭টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে ৩৫৪টি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৮২ দশমিক ৯০ শতাংশ। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন রয়েছে ৭৩টি। ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৫টি মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়েছে। আর গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৩টি মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়েছে।

তিনি জানান, ২০১৯ সালে মন্ত্রিসভা বৈঠকে ২৫৮টি সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৩৮টি বাস্তবায়ন হয়েছে, বাস্তবায়নের হার ৯২ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে ১৬৯টি সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে ১১৬টির বাস্তবায়ন হয়েছে, বাস্তবায়নের হার ৬৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৭টি আইন জারি করা হয়েছে। প্রক্রিয়াধীন আছে ৩৩টি। আর নীতি, কর্মকৌশল ও কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন হয়েছে ১৭টি। এই সময়ে দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক চুক্তি, প্রটোকল বা অনুসমর্থন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ১৯টি। এ ছাড়া মন্ত্রিসভার জন্য ২৯৭টি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উদ্যোগে ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১৫টি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে বলেও মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত