নবজাতককে মৃত ঘোষণা

ব্যর্থতা স্বীকার ঢামেক পরিচালকের

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৪:০৪ এএম

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নবজাতককে মৃত ঘোষণা পর দাফন করার সময় নড়েচড়ে ওঠার ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসকদের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে চিকিৎসকসহ সবারই চেষ্টায় কোনো ঘাটতি ছিল না বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন। গতকাল মঙ্গলবার এই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে ঢাকা মেডিকেলের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

পরিচালক বলেন, এই সবজাতকের মাকে যখন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তখনই তার কনডিশন ভালো ছিল না। ধীরে ধীরে তা আরও খারাপের দিকে চলে যায়। এরপর চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন ও তার বাচ্চা প্রসবের চেষ্টা চালান। বেবিটি ২৬ সপ্তাহের অপরিণত বয়সে ভূমিষ্ঠ হয়। মায়ের গর্ভে ২৮ সপ্তাহ পার হলে বেঁচে থাকার মতো পরিপূর্ণ বয়স পায়। তবে এই বেবিটি স্বাভাবিক অবস্থায় জীবিত থাকার আগের বয়সেই ভূমিষ্ঠ হয়েছে।

তিনি বলেন, ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর চিকিৎসক, নার্স নিয়ম অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ করেছেন। তবে নবজাতকটির সাইন অফ লাইফ পাননি। ঘণ্টাখানেক অবজারভেশনেও রাখা হয় নবজাতকটিকে। এরপরই মৃত ঘোষণা করে স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়। এরপরও ৪/৫ ঘণ্টা নবজাতকটি তাদের কাছেই ছিল। পরে দাফনের জন্য নিয়ে গেলে সেখানে নড়েচড়ে উঠলে আবার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বিষয়টি জানার পর দ্রুত এনআইসিইউ ম্যানেজ করে সেখানে রাখা হয় তাকে।

পরিচালক বলেন, ঘটনার পরপরই বিষয়টি তদন্তের জন্য ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। সেই কমিটিই আজ তাদের তদন্ত প্রতিবেদন ও কিছু সুপারিশ করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে জন্মের পর নবজাতকটির কোনো সাইন অফ লাইফ ছিল না। এটি একটি রেয়ার (বিরল) ঘটনা। তবে চিকিৎসকদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি ছিল না। মা ও মেয়ে দুজনকেই বাঁচানোর চেষ্টা ছিল তাদের। আনফরচুনেটলি এমনটি হয়েছে। তবে এখানে চিকিৎসকদের ব্যর্থতা রয়েছে। যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে। এই ঘটনায় আদালতে রিটও হয়েছে। সেখান থেকে আরও যদি তদন্ত করার বিষয় আসে তাহলে সেটিও করা হবে।

পরিচালক বলেন, বিশ্বে অনেক দেশেই এমন ঘটনা হয়েছে। এটি একটি ইম-ম্যাচিউরড বেবি ছিল। এমন ঘটনা অনেক ক্ষেত্রে ইম-ম্যাচিউড বেবি, সাপে কাটা রোগী, বিদ্যুৎস্পৃষ্টের রোগীর ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা ঘটে। যারা পরে অনেক সময় ডেভেলপ করে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের অনেকগুলো প্যারামিটার আছে যেগুলো দিয়ে আমরা বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি, তার সবই করা হয়েছিল, তবুও তারা নবজাতকটির কোনো সাইন অফ লাইফ পাননি। ওই সময়ে যে চিকিৎসক ও নার্সরা কাজ করেছেন তারা হয়তো এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হননি। তারা আরও কিছু চেষ্টা করতে পারতেন, হয়তো তা করেননি বা বুঝতে পারেননি। এই ঘটনায় কারও নেগলেজেন্সি, দায়িত্বহীনতা তদন্তে পাওয়া যায়নি। তারা কয়েক দফায় প্রচেষ্টা করেছিলেন। তবে তাদের শতভাগ ছিল না, তার মানে তাদের ব্যর্থতা ছিল। তবে ইচ্ছাকৃত নেগলেজেন্সি ছিল না। প্রতিবেদনে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ট্রেনিং প্রোগ্রামের বিষয়েও রিকমেন্ড করা হয়েছে। আমরাই এই ঘটনার পুরো দায় নিচ্ছি, আমরা মিস করেছি, এটি আমাদের ব্যর্থতা, যার যেখানে দায়বদ্ধতা আছে সেটার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তদন্ত কমিটি ও হাসপাতালটির নবজাতক বিভাগের প্রধান ডা. মনীষা ব্যানার্জী বলেন, শিশুটিকে এখন অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে ও সেলাইন চলছে। আগের চেয়ে ভালো আছে। আজ তাকে মুখে খাবার খাওয়ানো শুরু করব। শিশুটি বেঁচে গেলেও মিরাকেল হবে। আমরা আশাবাদী। তবে এখনো ইনফেকশনের চান্স রয়েছে। শিশুটি এখনো সংকটাপন্নই বলা যায়।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে আমাদের মনে হয়েছে, এটি অনিচ্ছাকৃত ভুলের মধ্যে পড়েছে। তবে আমাদের এখানে ‘নিউনেটাল লিক’ ও ‘নিউনেটাল প্রেশেন্ট মনিটর’ নেই। এগুলো থাকলে এরকম ঘটনা ঘটার আর কোনো সুযোগ থাকবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত