বিভিন্ন কোম্পানি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরি করে তা বিভিন্ন দাতব্য সংস্থাকে দান করে দিচ্ছে একটি দাতব্য সংস্থা। সাইবার অপরাধের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া টাকা এভাবে রহস্যজনকভাবে দান করার ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি। এ নিয়ে বেশ ধাঁধায় পড়ে গেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিবিসি বাংলা জানায়, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ‘ডার্কসাইড হ্যাকার্স’ নামে একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন কোম্পানি থেকে এ পর্যন্ত লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তবে এই হ্যাকাররা এখন বলছে, বিশ্বকে তারা আরও বাসযোগ্য করতে চায়। ডার্ক ওয়েবে এক পোস্টে তারা জানিয়েছে, দুটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানকে তারা বিটকয়েনে দশ হাজার ডলার দান করেছে। এই দানের রসিদও তারা সেখানে পোস্ট করেছে।
দুটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের একটি ‘চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল’। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা এই অর্থ নেবে না।
১৩ অক্টোবর এক ব্লগ পোস্টে ডার্কসাইড হ্যাকার্স দাবি করে যে, তাদের ‘র্যানসমওয়্যার’ দিয়ে বড় বড় কোম্পানিগুলোকে টার্গেট করে তারা। র্যানসমওয়্যার হচ্ছে এক ধরনের কম্পিউটার ভাইরাস, যার মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের আইটি সিস্টেমকে হ্যাক করে মুক্তিপণ আদায় করা সম্ভব হয়।
ডার্কসাইড হ্যাকার্স এই ব্লগপোস্টে লিখেছে, ‘আমরা মনে করি, বিভিন্ন কোম্পানি যে অর্থ দিয়েছে, তার একটা অংশ দাতব্য প্রতিষ্ঠানকে দেয়া উচিত, এটাই ন্যায্য।’
তারা বলে, ‘আমাদের কাজকে আপনারা যতটা খারাপ বলেই ভাবুন না কেন, আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমরা কোনো একজনের জীবন বদলাতে সাহায্য করেছি। আজ আমরা আমাদের প্রথম দানের অর্থ পাঠিয়েছি।’
এই সাইবার অপরাধীরা বিটকয়েনে তাদের অর্থ দান করে ‘দ্য ওয়াটার প্রজেক্ট’ এবং ‘চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল’ নামে দুটি দাতব্য সংস্থাকে। তারা দান করেছে শূন্য দশমিক ৮৮ বিটকয়েন। দান করার পর তারা যে ট্যাক্স রসিদগুলো পেয়েছে, সেগুলোও পোস্ট করেছে।
চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল মূলত শিশুদের নিয়ে কাজ করে। ভারত, ফিলিপাইন, কলম্বিয়া, জাম্বিয়া, ডমিনিকান রিপাবলিক, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কাজ আছে।
প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, ‘এই দানের অর্থ যদি কোনো হ্যাকারের কাছ থেকে এসে থাকে, আমাদের কোনো ইচ্ছে নেই সেই অর্থ নেয়ার।’
অন্য দাতব্য সংস্থা দ্য ওয়াটার প্রজেক্ট এখনো এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি। এই প্রতিষ্ঠানটি মূলক সাব-সাহারান আফ্রিকায় সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করে।
সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানি ‘এমসিসফটের’ বিশ্লেষক ব্রেট ক্যালো বলেন, ‘এভাবে অর্থ দান করে এই অপরাধীরা আসলে কী অর্জন করতে চায়, তা পরিষ্কার নয়। হয়তো তাদের মধ্যে যে অপরাধবোধ কাজ করছে, সেটি কাটাতে চায়? অথবা হয়তো তারা একধরনের অহমিকা থেকে এটা করছে। নিজেদের তারা হয়তো বিবেকহীন চাঁদাবাজের পরিবর্তে রবিনহুডের মতো কেউ বলে ভাবছে।’
তিনি বলেন, ‘তাদের উদ্দেশ্য যাই হোক, এটা খুবই অস্বাভাবিক এক ঘটনা। আমার জানা মতে, এই প্রথম কোনো র্যানসমওয়্যার হ্যাকার গোষ্ঠী এভাবে তাদের আয় করা অর্থ কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করল।’
ডার্কসাইড হ্যাকার্স তুলনামূলকভাবে নতুন এক গোষ্ঠী। তবে ক্রিপটো-কারেন্সি মার্কেট বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এরা তাদের ভিকটিমের কাছ থেকে জোর করে অর্থ আদায় করছে।
