বড় পর্দাতেই আসছে ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২০, ১১:৫৩ পিএম

মেধাবী নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ শুরু থেকে আলোচনায়। ভালো গল্পের সিনেমাপ্রেমীদের জন্য এটি দারুণ আগ্রহের বিষয়। সিনেমাটি বেশ আগেই বিনা কর্তনে সেন্সর ছাড়পত্র পায়। তবে বেশ কয়েকবার মুক্তির তারিখ পরিবর্তন হয়। লকডাউনের কারণে সিনেমা হল বন্ধ থাকায় শোনা গিয়েছিল ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ মুক্তি পাবে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। কিন্তু অবশেষে পরিচালকের স্বপ্ন সত্যি হতে যাচ্ছে। বড় পর্দাতেই মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি। আগামী ২৩ অক্টোবর স্টার সিনেপ্লেক্সের তিনটি শাখা (বসুন্ধরা সিটি, ধানমন্ডি ও মহাখালী) এবং চট্টগ্রামের সিলভার স্ক্রিনে সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে। নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল বলেন, ‘বড় পর্দার জন্য বড় ক্যানভাসে সিনেমাটি নির্মাণ করেছি। দর্শক বড় পর্দায় সিনেমাটি দেখে যে আমেজ পাবেন সেটা থেকে নির্মাতা হিসেবে নিজেকে বঞ্চিত করতে চাইছিলাম। তাই ওটিটির সঙ্গে প্রায় পাকা কথা হওয়ার পরও সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহেই মুক্তি দিচ্ছি। সিনেমা হল খোলার ঘোষণা এখনই না এলে হয়তো অন্য পন্থা অবলম্বন করতে হতো।’এত কমসংখ্যক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি নিয়ে উজ্জ্বল বলেন, ‘আামি সন্তুষ্ট। মাল্টিপ্লেক্সেই সিনেমাটি মুক্তি দিতে চেয়েছিলাম। সিঙ্গেল স্ক্রিনে সিনেমা মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারে আমি খুব একটা আশাবাদী নই। তবে ভবিষ্যতে সিনেমাটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দেখা যাবে।’

পরিচালক জানালেন, ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ মূলত প্রেমের সিনেমা। কিন্তু তাতে তার নিজস্ব নির্মাণশৈলী রয়েছে। এতে কিছু পোয়েটিক শট, গল্পে কিছুটা পরাবাস্তবতা আবার মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কিছুটা সায়েন্স ফিকশনের স্বাদ রয়েছে। 

‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’-এ জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শারলিন ফারজানা ও ইমতিয়াজ বর্ষণ। দুজনেরই এটি প্রথম চলচ্চিত্র। শারলিন এরই মধ্যে বেশ কিছু নাটকে সুঅভিনয়ের জন্য খ্যাতি কুড়িয়েছেন। কিন্তু বর্ষণ একেবারেই নতুন। আনকোরা সহশিল্পীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে শারলিন বলেন, ‘বর্ষণ ক্যামেরার সামনে একদম নতুন এটা ঠিক। কিন্তু মঞ্চে সে ১২ বছর ধরে অভিনয় করছে। তাই তার সঙ্গে কাজ করতে আমার কোনো অসুবিধা হয়নি। এ সিনেমায় সে সত্যিই ভালো অভিনয় করেছে। তা ছাড়া নতুন অভিনেতা-অভিনেত্রীর দরকার আছে। টিভি বা সিনেমায় আমরা একই মুখ দেখতে দেখতে ক্লান্ত। অন্তত নতুন একজনকে উপযুক্ত করে ক্যামেরার সামনে আনতে পারলে দর্শক এক ধরনের  ফ্রেশনেস পাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্মাতা হিসেবে মাসুদ হাসান উজ্জ্বল খুবই ক্লিয়ার। তিনি কী চান তা আগে থেকেই জানেন। এজন্য এ সিনেমায় অয়ন চরিত্রের জন্য কেমন অভিনেতা দরকার, তা তার ভালো করেই জানা ছিল। ছোট পর্দার ব্যস্ত অভিনেতা আফরান নিশোর এ সিনেমায় কাজের বিষয়টি অনেকটাই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। শুধু নিশো নয়, মনোজ প্রামাণিক থেকে শুরু করে অনেকেই এ সিনেমার জন্য অডিশন দিয়েছেন। তারা খুবই ভালো কাজ করছেন। কিন্তু এই চরিত্রের জন্য নির্মাতার কাছে মনে হয়েছে বর্ষণই সেরা।’

সিনেমাটি নিয়ে শারলিন আরও বলেন, ‘এ সিনেমাকে আমি এক কথায় রোমান্টিক সিনেমাই বলতে চাই। এতে প্রেমকে অন্য ভাষায় দেখানো হয়েছে। আমার চরিত্রের নাম নীরা। মেয়েটি খুবই স্বাধীনচেতা। জীবনের সব সিদ্ধান্ত নিজেই নেয়। সে উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। আমাদের দেশের সিনেমায় বেশির ভাগ  ক্ষেত্রে দেখা যায় নায়িকারা শুধু গ্ল্যামার আর মায়া ছড়ায়। কিন্তু এই সিনেমার নায়িকা চরিত্রটি খুবই সাহসী, সেই সঙ্গে মায়াও ছড়াবে বলে আমার বিশ্বাস। আমরা চরিত্রটিকে বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরতে চেয়েছি। মেয়েটি উচ্চবিত্ত, তাই বলে তার স্ট্যাটাস দেখাতে সুইজারল্যান্ডে গিয়ে লাল গাউন পরে নাচিনি। চরিত্রটিতে ফ্যান্টাসির কোনো জায়গা নেই। আশা করছি দর্শক পছন্দ করবে।’

নতুন নায়ক-নায়িকা নিয়ে কাজের প্রসঙ্গে নির্মাতা বলেন, ‘আমি আসলে এ সময়ের তারকাদের ভয় পাই। তাদের সম্পর্কে যা শুনি তাতে মনে হয় তাদের হ্যান্ডেল করতে পারব না। তাই যারা আর্ট নিয়ে ভাবে তাদের নিয়েই কাজ করতে চাই। আমি চাই আমার পাত্র-পাত্রী চরিত্র হয়ে উঠুক, কারও নামের আড়ালে চরিত্র যেন হারিয়ে না যায়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত