নেপালকে এনে ১৩ ও ১৭ নভেম্বর দুটি প্রীতি ম্যাচের আয়োজনে শুধু র্যাংকিংয়ের উন্নতিই একমাত্র উদ্দেশ্য নয় বাফুফের। আরও কয়েকটি উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে। প্রথমত, করোনাকালে দুটি ম্যাচের সফল আয়োজন সরকারের গুডবুকে তুলে দেবে বাফুফের নামটি। দ্বিতীয়ত, করোনাকালে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের ফলে অন্যদের কাছে বাফুফে হবে বড় দৃষ্টান্ত। তৃতীয়ত, অচলাবস্থা কাটিয়ে এর মধ্য দিয়ে দেশের ফুটবল ফিরবে ‘নিও নরমাল লাইফে’। ম্যাচগুলো আয়োজনের কঠিন চ্যালেঞ্জটা নিতে তাই বদ্ধপরিকর বাফুফে।
দলের পারফরম্যান্সের বাইরে বাফুফের অপর উদ্দেশ্যগুলো বাস্তবায়নের দায় নেই জাতীয় দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডে’র। তারপরও এই কোচ ভাবছেন অন্য উদ্দেশ্যগুলো নিয়ে। আসলে এর মধ্যে জড়িত নিজের ভবিষ্যৎও। বাংলাদেশে ফুটবল না হলে যে একটা সময় তার থাকা-না থাকাটা মূল্যহীন হয়ে যাবে। তাই শুরুতে এই দুটি ম্যাচ খেলার পক্ষে মত না থাকলেও ফুটবলরের বৃহত্তর স্বার্থে সম্মতি দিয়েছেন জেমি। ক’মাস আগে উয়েফা প্রো লাইসেন্স পাওয়া এই কোচের যুক্তিটা অকাট্য। মাত্র কুড়ি দিনের প্রস্তুতি নিয়ে নেপালের সঙ্গে খেলাটা দুটি কারণে ঝুঁকির। প্রথমত, ফিটনেস ঘাটতির কারণে খেলোয়াড়দের ইনজুরিতে পড়ার আশঙ্কা থাকবে। দ্বিতীয়ত, নেপালের সঙ্গে নিকট অতীতের রেকর্ডও তাকে আশাবাদী করছে না। ২০১৮ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালের কাছে হারে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছিল বাংলাদেশের। এরপর গত বছর এসএ গেমসেও নেপালের কাছে হেরে ফাইনাল খেলা হয়নি জেমির শিষ্যদের। এই ঝুঁকিগুলো মেনেই অবশ্য চ্যালেঞ্জটা জেমি নিতে চাইছেন বাংলাদেশে ফুটবল ফেরানোর সুযোগটা কাজে লাগাতে, ‘ফিটনেসের হিসাবে দুটি দল একই অবস্থানে রয়েছে। দুটি দলই প্রস্তুতির জন্য ২০ দিনের মতো সময় পাচ্ছে। সুতরাং এই ২০ দিনের মধ্যে যে দলটি ভালোভাবে দলকে গোছাতে পারবে, ইনজুরিমুক্ত রাখতে পারবে ফলাফল তাদের দিকেই যাবে। যেকোনো কোচই যেকোনো ম্যাচ জিততে চাইবে। জয়ের লক্ষ্য তাই আমারও আছে। তবে এটা কেবল জয়ের প্রশ্ন নয়। এটা ফুটবলে ফেরার একটা সুযোগও।’ জেমি যোগ করেন, ‘আমরা ফুটবলারদের খেলার জন্য বলেছি, যারা গত সাত মাস মাঠের বাইরে ছিল। কিছু খেলোয়াড় একেবারেই প্রস্তুত নয়। কিছু খেলোয়াড়ের আগের অবস্থা ফিরে পেতে কমপক্ষে ৩-৪টি ম্যাচ খেলতে হবে। আমি তাই বলব, দুটি অজানা ম্যাচ আমরা খেলতে যাচ্ছি। সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হচ্ছে, এর মধ্য দিয়ে আমরা আবার খেলায় ফিরতে পারছি। বাংলাদেশে ফুটবল শুরু হতে যাচ্ছে। আসলে যেকোনো একটা জায়গা থেকে শুরু করতে হবে। কারণ সামনের বছরটি আমাদের জন্য আসছে অনেক রোমাঞ্চ নিয়ে। অনেকগুলো প্রতিযোগিতায় আমাদের অংশ নিতে হবে।’
গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে জুম সভায় উপস্থিত ছিলেন জেমির সহকারী স্টুয়ার্ট ওয়াটকিসও। তিনি বলেন, ‘প্রথম আমাদের পুরো দলের ফিটনেস কোন পর্যায়ে রয়েছে সেটা নির্ণয় করতে হবে। তারপর ফিটনেস প্রোগ্রামের পাশাপাশি টেকনিক ও ট্যাকটিকস নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে। এত বড় বিরতির পর মাঠে নামার জন্য ২০ দিন সময় মোটেই যথেষ্ট নয়। তারপরও এই চ্যালেঞ্জটা আমাদের নিতে হবে।’
