তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৪৩ এএম

তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১৮০ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে চীনের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, চুক্তিতে রকেট লঞ্চার, সেন্সরস ও আর্টিলারি এই তিন ধরনের অস্ত্র সরবরাহ করা হবে।

বিবিসি বলছে, চুক্তি অনুযায়ী তাইওয়ানকে ১৩৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, স্থানান্তরযোগ্য হালকা রকেট লঞ্চার এবং যুদ্ধবিমানে যুক্ত করার উপযোগী আর্টিলারি সরবরাহ করবে যুক্তরাষ্ট্র।

বিবিসির প্রতিবেদনে এই চুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাইওয়ানের কাছে বেশি অস্ত্র বিক্রি করেছেন।

গত সপ্তাহে মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও’ব্রায়েন বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে তাইওয়ানে আগ্রাসন চালাতে চীন প্রস্তুত রয়েছে। তারপরও ভবিষ্যতের জন্য দ্বীপটির উচিত প্রতিরক্ষা গড়ে তোলা। নিজেদের স্বতন্ত্র দেশ দাবি করে থাকে তাইওয়ান। তবে অঞ্চলটিকে নিজেদের বিরুদ্ধাচরণকারী প্রদেশ হিসেবে দেখে থাকে চীন। উভয় অঞ্চলের মধ্য সম্প্রতি উত্তেজনা বেড়েছে। আর দ্বীপাঞ্চলটির কর্র্তৃত্ব ফিরে পেতে বল প্রয়োগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি চীন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই অস্ত্র চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পেইচিংয়ের সম্পর্কে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। প্রয়োজন মতো এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা দপ্তর বলছে, এসব অস্ত্র তাদের যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুদ্ধ ঠেকানোয় সহায়তা করবে।

গত কয়েক মাসে তাইওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ নিবিড় করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ তাইওয়ান সফর করেন। সেখানকার প্রেসিডেন্ট তাসাই-ইন ওয়েনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।

এসব বৈঠকেরও জোরালো প্রতিবাদ জানায় পেইচিং। আর চীন-মার্কিন সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনো বার্তা পাঠানোর ব্যাপারে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে দেয় পেইচিং।

১৯৪০-এর দশকের গৃহযুদ্ধের সময় আলাদা হয়ে যায় চীন ও তাইওয়ান। তবে প্রয়োজনে যেকোনো সময় অঞ্চলটির কর্র্তৃত্ব ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে দাবি করে আসছে চীন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত