কিংস ফুটবলারদের ছাড়াই ক্যাম্প শুরু

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৫৮ এএম

আগামী ১৩ ও ১৭ নভেম্বর ঢাকায় নেপালের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। এ উপলক্ষে গতকাল থেকেই শুরু হয়ে গেছে প্রস্তুতি। ডাক পাওয়া ৩৬ ফুটবলারের  মধ্যে ১২ জন গতকাল রিপোর্ট করেছেন সহকারী কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সারের কাছে। ক্যাম্পে যোগ দেননি বসুন্ধরা কিংসের ১৪ ফুটবলার।

ক্লাবটি শুরুতে ৯ নভেম্বরের আগে জাতীয় দলের ক্যাম্পে খেলোয়াড় না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরবর্তীতে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে ২৭ অক্টোবর ফুটবলার ছাড়তে সম্মত হয়েছে। কিংসের যুক্তি ছিল, ১ সেপ্টেম্বর থেকে টানা প্রাক মৌসুম অনুশীলনে থাকা ফুটবলাররা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্রামে থাকবেন। এ অবস্থায় তাদের জাতীয় দলের ক্যাম্পে যাওয়ার সুযোগ নেই। যদিও পরে বাফুফের অনুরোধে আগের অবস্থান থেকে সরে আসে ক্লাবটি। কিংসের ১৪ জনের মধ্যে ২৭ অক্টোবর জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেবেন ১২ জন। মিডফিল্ডার মাসুক মিয়া জনি ও স্ট্রাইকার মতিন মিয়া দীর্ঘ চোট থেকে এখনো পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় আছেন। তাই তাদের জাতীয় দলের জন্য ছাড়ছে না কিংস। গতকাল কিংসের ফুটবলার ছাড়াও কয়েকজন ফুটবলার ক্যাম্পে যোগ দেননি কভিড-১৯ পরীক্ষার ফল হাতে না পাওয়ায়। ২১ ফুটবলারের মধ্যে ১২ জন কাল নেগেটিভ রিপোর্ট হাতে ক্যাম্পে যোগ দেন। বাকিদের মধ্যে গোলরক্ষক শহীদুল আলম সোহেল অসুস্থতার কারণে যোগ দেননি। এ ছাড়া ডিফেন্ডার টুটুল হোসেন বাদশা স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে আসতে পারেননি। মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলাম চট্টগ্রাম থেকে এসে আজ যোগ দেবেন। বাকি ছয়জন নিজ নিজ এলাকায় ছিলেন কভিড-১৯ পরীক্ষার ফলের জন্য। গতকাল রাতেই চারজনের রিপোর্ট পাওয়ার কথা ছিল। বাকি দুজনের আজ করোনা রিপোর্ট পাওয়ার কথা।

সহকারী কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সার বলেছেন, ‘বাফুফের কাছ থেকে নির্দেশনা আছে, কভিডের নেগেটিভ রিপোর্ট ছাড়া কোনো ফুটবলারকে ক্যাম্পে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। কিংস দুজন ফুটবলার ইনজুরির কারণে ছাড়ছে না। ৩৪ জনের মধ্যে ১২ জন কিংসের ফুটবলার। তারা ২৭ অক্টোবর যোগ দেবে শুনেছি। আজ (গতকাল) ১২ জন রিপোর্ট করেছে। বাকি ১০ জনের মধ্যে চারজনের করোনার রিপোর্ট আজ (গতকাল) রাত ৯টার মধ্যে আসার কথা রয়েছে। দুজনের রিপোর্ট আসবে কাল (আজ)। তারা নেগেটিভ হলেই ক্যাম্পে যোগ দিতে পারবে। আর তিনজন অসুস্থতা ও পারিবারিক কারণে আজ আসেনি।’

গত আগস্টে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের জন্য জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হয়েছিল। কিন্তু পাঁচ দিন পর ক্যাম্প বন্ধ হয় বাছাইপর্বের খেলা পিছিয়ে যাওয়ায়। দু’মাস পর ক্যাম্পে ফিরতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন ফুটবলাররা। গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা ক্যাম্পে ফেরার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর ফিরতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। আগস্টে সারাহ রিসোর্টে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রস্তুতি শুরু করেছিলাম। কিন্তু সেটা পাঁচ দিনের বেশি হয়নি। আবার সুযোগ এসেছে। ১৩ ও ১৭ তারিখ নেপালের বিপক্ষে আমাদের দুটি ম্যাচ খেলতে হবে। অবশ্যই আমরা জিততে চাইব। তার জন্য যত চ্যালেঞ্জ আসুক না কেন, আমরা সবাই মিলে মোকাবিলা করতে চাই। যাতে খুব দ্রুত আমরা রিকভারি করতে পারি।’

বাছাইপর্বের আগেই জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছিলেন পুলিশ এফসির মিডফিল্ডার নাজমুল ইসলাম রাসেল। সেবার ক্যাম্পে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পাননি। এবার সেই সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না এই তরুণ, ‘সব খেলোয়াড়েরই স্বপ্ন থাকে জাতীয় দলের হয়ে খেলা। প্রথমবার সুযোগ পেয়ে শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করব। অনেক দিন ধরেই ফুটবল খেলি। দেশের জন্য খেলব। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’ আজ সকাল সাড়ে ৯টায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে কায়সারসহ তিন স্থানীয় কোচের অধীনে মাঠে নামবেন ক্যাম্পে যোগ দেওয়া ফুটবলাররা। হেড কোচ জেমি ডে’র আসার কথা ২৮ অক্টোবর। তিনি না আসা পর্যন্ত ফুটবলারদের ফিটনেস নিয়ে কাজ করবেন তিন সহকারী কোচ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত