কবির সুমনের মৃত্যু-পরবর্তী ইচ্ছা

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১২:০১ এএম

উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক, সাংবাদিক, লেখক ও সাবেক সাংসদ কবীর সুমন গত শুক্রবার ফেইসবুকে নিজের ইচ্ছাপত্র প্রকাশ করে লিখেছেন। ‘সবার অবগতির জন্য’ শিরোনামে এই ইচ্ছাপত্রে তিনি লেখেন, ‘আমার মৃত্যুর পর যেন কোনো স্মরণসভা, শোকসভা, প্রার্থনাসভা না হয়। আমার সমস্ত পান্ডুলিপি, গান, রচনা, স্বরলিপি, রেকর্ডিং, হার্ডডিস্ক, পেনড্রাইভ, লেখার খাতা, প্রিন্টআউট যেন কলকাতার পুরসভার গাড়ি ডেকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, সেগুলো ধ্বংস করার জন্য। কোনো কিছু যেন মৃত্যুর পর পড়ে না থাকে। আমার ব্যবহার করা যন্ত্র, বাজনা সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়; এর অন্যথা হবে আমার অপমান।’

এরপর কবীর সুমন লেখেন, ‘আমার সমস্ত কিছুর জন্য দায়িত্ব দিয়ে গেলাম মৃণয়ী তোকদারের হাতে। মৃণয়ী তোকদার আমার চিকিৎসা, হাসপাতালে ভর্তি, এমনকি মারা গেলে তিনিই এসবের দায়িত্ব সামলাবেন।’ মৃণয়ী তোকদার ওই ইচ্ছাপত্রের নিচে লেখেন, ‘আমি সেই দায়িত্ব স্বীকার করছি।’ ইচ্ছাপত্রের শেষে কবীর সুমন আরও লেখেন, ‘জন্ম স্বাধীন। স্বপরিশ্রমে, স্বখরচায় স্বেচ্ছাচারী, কবীর সুমন।’

ফেইসবুকে হাতের লেখা এই ইচ্ছাপত্রের ছবি দিয়ে কবীর সুমন লিখেছেন, ‘হঠাৎ কিছু ঘটে গেলে কঠিন সমস্যা দেখা দেয়। প্রায় অনুরূপ একটা সমস্যা দেখা দিয়েছিল ২০১২ সালে আমি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর। খোলাখুলি সবাইকে জানিয়ে রাখছি। অনুগ্রহ করে মতামত দেবেন না। ভালো-মন্দ কিছু লিখবেন না। এটা এক প্রবীণ মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি। অনেক অভিজ্ঞতার পর, অনেক ভেবেচিন্তে লিখছি। ফেইসবুকে দিয়েছি, যাতে অনেকেই এটা জেনে যান। অনুগ্রহ করে আবেগের বশবর্তী হবেন না, উপদেশ-পরামর্শ দেবেন না। আমি আমার কাজ করে যাচ্ছি, যাব। আমার জীবনে কোনো হতাশা, দুঃখ, ব্যর্থতাবোধ, অবসাদ নেই। আমি সানন্দে বেঁচে আছি, আমার কাজ করে যাচ্ছি। আমার জীবনে ভালোবাসা, কামনা, কাম, লালসা, আনন্দ, ফুর্তি, মজা, রঙ্গ-রগড়, হাসাহাসি, নিভৃত কান্না, কাজ, অধ্যবসায়, নিয়মিত রেওয়াজ, পরিশ্রম, সৃজনশীলতা সবই আছে...।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত