নিম্নচাপ কেটে গেছে। কিন্তু গতকালও ঢাকায় সূর্যের দেখা মেলেনি। আকাশের মুখ ছিল ভার। বৃষ্টি কমবেশি হয়েছে। আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হচ্ছে, পুরোপুরি রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ার জন্য আরও দিন দুয়েক অপেক্ষা করতে হতে পারে। রাজধানীতে বৃষ্টির সম্ভাবনাও আছে। শুক্রবার থেকে পিছিয়ে আজকের দিনে চলে আসা প্রেসিডেন্টস কাপের ফাইনালে তার প্রভাব কতটা কী পড়ে কে জানে! আগামীকাল ম্যাচটির রিজার্ভ ডে।
তিন দলের আসরের শিরোপা লড়াইয়ে আজ মাহমুদউল্লাহ একাদশের মুখোমুখি হচ্ছে আসরের সেরা দল নাজমুল একাদশ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দুপুর দেড়টায় শুরু হওয়ার কথা। দিবারাত্রির ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি। এ ছাড়া বিসিবির অফিশিয়াল ফেইসবুক পেজেও খেলা দেখার সুযোগ থাকছে।
আবহাওয়ার অনুমতি মেলেনি বলে ফাইনালের ঠিক আগের সকালে অনুশীলনের সূচি থাকলেও মাঠে নামতে পারেনি নাজমুল একাদশ। বুধবার শেষবার ম্যাচ খেলেছে। তারপর থেকে অনুশীলন নেই। মাহমুদউল্লাহরা বৃহস্পতিবারের পর গতকাল দুপুরেও প্র্যাকটিসের সুযোগটা পেয়েছেন।
অবশ্য লিগ পর্বে নাজমুল-মাহমুদউল্লাহদের ম্যাচ দুটি দেখে থাকলে আপনি নিশ্চিত ফাইনালের আগে নাজমুলদের প্র্যাকটিসের সুযোগ না পাওয়া খেলায় কোনো প্রভাব নাও ফেলতে পারে। ওই দুই ম্যাচেই জিতেছে তারা। শেষটাতে জয়ের ব্যবধান ছিল ১৩১ রানের। এমনকি লিগের শেষ ম্যাচে তামিম একাদশকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে ফেলেছে। আসরে চার ম্যাচের তিনটিতে তাদের জয়, দুটিতে মাহমুদউল্লাহদের।
মানসিক দিক বিবেচনায় আসলে নাজমুল একাদশের এগিয়ে থাকার কথা। বুধবারের ম্যাচে কাঁধে ব্যথা পেয়ে নিজেদের ফিল্ডিংয়ের মাঝপথে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল মুশফিকুর রহিমের। তার খেলা নিয়ে সংশয় নেই বলে জানা গেছে। আর টুর্নামেন্ট পরিসংখ্যানের বিচারেও এগিয়ে নাজমুলের তরুণ দল। যদিও ক্রিকেট এমন একটা খেলা যেখানে যেদিন যে দল ভালো খেলে সেই দল জেতে।
কিন্তু এখানেও কথা আছে। নাজমুল একাদশের টপ অর্ডারও ভঙ্গুর। মাহমুদউল্লাহদের নামি ব্যাটিং লাইনআপের প্রায় পুরোটাই সমস্যা। হঠাৎ ধুম করে ভেঙে পড়ে। যদিও অনেকটা লো স্কোরিং আসরে ব্যাটিং পরিসংখ্যানের ওপরের দিকে এই দলের খেলোয়াড়দের নামও আছে।
তবে নাজমুলদের ওখানে আধিপত্য। চারটি করে ম্যাচ হয়েছে। মুশফিক একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান আসরের। সঙ্গে দুটি ফিফটিসহ ২০৭ রান নিয়ে সবার ওপরে তিনি। আফিফ হোসেন ধ্রুব ১৫৭ ও ইরফান শুক্কুর ১৩৯ নিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয়। মাহমুদউল্লাহর দলের ব্যক্তিগত রানের খতিয়ানে অধিনায়ক সবার ওপরে। ১৩৯ তার। এরপর নুরুল হাসান সোহানের ১০৮। যে ৭ ব্যাটসম্যানের আসরে ১০০’র বেশি রান তার তিনজন নাজমুলদের, দুজন মাহমুদউল্লাহদের। তবে ৯৬ রান নিয়ে নাজমুল একাদশের বিশ্বকাপ জেতা যুবা তৌহিদ হৃদয় আছেন ৮ নম্বরেই। পরের জায়গাটি মাহমুদউল্লাহর দলের ইমরুল কায়েসের (৯৩)।
সেদিন জাতীয় দলের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো বলছিলেন, এই আসরের পারফরম্যান্স দিয়ে খেলোয়াড়দের বিচার করলে অবিচার হবে। মাহমুদউল্লাহর দলের লিটন দাস (৪৩) ও সাব্বির রহমানের (৩৯) মতো বাজে অবস্থা নাজমুল একাদশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (৩৭), সৌম্য সরকারেরও (৪৫)।
টুর্নামেন্টের ৬ ম্যাচ দেখে বলা যায় পুরো ওভার খেলা গেলেও বড় স্কোরের ম্যাচ নাও হতে পারে। এর পেছনে শুধু ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা নয়, বাংলাদেশি পেস ব্যাটারির জেগে ওঠাও বড় কারণ। ১২ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ফাইনালে নেই তামিম একাদশের বলে। কিন্তু দুই দলের পেসাররাই আজ নিশ্চয়ই তাদের দিকে সব আলো কাড়তে চাইবেন। মাহমুদউল্লাহ একাদশের রুবেল হোসেন ১০ উইকেট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। তাদের ইবাদত হোসেনের ৭ উইকেট। সমান ৭টি করে উইকেট এই আসরে সবচেয়ে আলোচিত পেসার তাসকিন আহমেদ ও অনেকটা ছন্দে থাকা আল-আমিন হোসেনের। দুজনই নাজমুল একাদশের। শেষ ম্যাচে ৪ উইকেট তাসকিনের। তাদের আবু জায়েদ রাহীর ২ ম্যাচে আছে ৪ উইকেট। প্রতিপক্ষের তরুণ সুমন খানেরও তাই।
স্পিনও ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। চোট কাটিয়ে আজ লেগি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব মাহমুদউল্লাহ একাদশে ফিরতে পারেন। প্রতিপক্ষ একাদশের দীর্ঘকায় লেগ স্পিনার রিশাদ আহমেদ ডমিঙ্গোকেও মুগ্ধ করেছেন। আছেন পরীক্ষিত অফি নাঈম হাসানও। মাহমুদউল্লাহর দলের মেহেদী হাসান মিরাজ ছন্দে না থাকলেও অভিজ্ঞ।
সব মিলে ইঙ্গিত এটা বোলিংয়ের সঙ্গে বোলিংয়ের লড়াইয়ের ফাইনালও। তবে মাথার ওপর যেহেতু প্রকৃতির স্বাধীনতা তাই প্রেসিডেন্টস কাপের শিরোপা লড়াই নিয়ে আবহাওয়া কী করে সেটাও দেখার।
